ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় বাড়লেও কমছে না রাজধানীবাসীর ভোগান্তি


জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় বাড়লেও কমছে না রাজধানীবাসীর ভোগান্তি

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ধারাবাহিকভাবে সরকারি ব্যয় বাড়ছে, তাও জনভোগান্তি কমছে না। বরং এই সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও পানির নিচে তলিয়ে রাজপথে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয় ও সবুজ এলাকার নিয়মিত হ্রাসের কারণে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানি জমে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। রাজধানীর এই সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি প্রকৃতিভিত্তিক অবকাঠামো এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকায় এখনো শহরব্যাপী একটি সমন্বিত সবুজ অবকাঠামো কিংবা জলসংবেদনশীল বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব বিভক্ত থাকার কারণে পেরেশানি বাড়ছে, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদ, ওয়াসা এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতিটির জন্য দায়ী অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৪১টি এলাকা জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে।

চলতি বছরে ওই এলাকার বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে ছিল। নানা স্থানে ড্রেনে প্লাস্টিক, পলিথিন এবং কঠিন বর্জ্য জমে যাওয়ার কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। আবার কোথাও খাল দখল এবং কোথাও ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অথচ রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি ব্যয় নিয়মিতভাবে বাড়ছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের দুটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় প্রায় ৩৩৪ কিলোমিটার ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ২৬২ কোটিরও বেশি টাকা। তাছাড়া, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেন পরিষ্কার, পাম্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও প্রতি বছর আলাদা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ও খাল উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তথাপি বর্ষাকালে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে তীব্র জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, গত ৩০ বছরে ব্যাপক নির্মাণের পরও কার্যকর ও টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি; আর এর ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতার সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন পূর্বে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের প্রধান দায়িত্বে ছিল। কিন্তু ওয়াসা যখন এই দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে, তখন থেকে দীর্ঘসময়েও সিটি কর্পোরেশন পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই বিভাগে এখনো প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল এবং অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাচ্ছে। বিগত ২০২০ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ওয়াসা থেকে গ্রহণ করেছে। সেক্ষেত্রে যুক্তি ছিল, সড়ক, খাল, ড্রেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান হবে। সেই কারণে ২৬টি খাল, স্টর্ম স্যুয়ার এবং বক্স কালভার্ট দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর পরে বরং রাজধানীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত উন্নতি এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের একটি মূল্যায়নে জানিয়েছে, ঢাকার স্যানিটেশন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপলাইনভিত্তিক স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দ্রুত নগরায়ণ, খাল দখল, দূষণ এবং দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্রমশ চাপে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও গবেষকদের মতে, বর্তমানে ঢাকা জলবায়ু ও বন্যা-ঝুঁকিপূর্ণ মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে, যা দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমপ্লেক্স হয়ে উঠেছে। কংক্রিটনির্ভর ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্বারা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রকৃতিভিত্তিক এবং সবুজ অবকাঠামোর সংরক্ষণ, জলাধার সংরক্ষণ ও বৃষ্টির পানি ধারণ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এর জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণ ও শোষণের সক্ষমতা উন্নত করা প্রয়োজন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি

এ ছাড়া তা না হলে প্রতি বছর নতুন প্রকল্প ও বাড়তি বরাদ্দের পরেও রাজধানীর বাসিন্দাদের একই দুর্ভোগের মোকাবিলা করতে হবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা বাড়ার পেছনে পাবলিক অসচেতনতা, স্লুইস গেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, ড্রেনেজ পথের দূরত্ব বেশি হওয়া, জলাশয় কমে যাওয়া এবং ঢাকায় ক্যাপাসিটির তুলনায় বিপুল লোকের বসবাসসহ বেশ কিছু কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এর মধ্যে মানুষের অসচেতনতাই অন্যতম। বর্তমানে জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ডিজাইন পরিবর্তন, পানি নামার জন্য রাস্তার দূরত্ব কমানোসহ বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, এবং এখনো সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ড্রেনেজ সার্কেল চালু হয়নি। জনবল নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কিন্তু থমকিয়ে আছে অনুমোদন। জলাবদ্ধতা নিরসনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আশা করা যায় নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা কমবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা আবারো শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে লোকসানের কারণে ভোজ্যতেল আমদানি করা সম্ভব হবে না। তবে এ বিষয়টিতে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দাম বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাজার, এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পক্ষে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে নানা কারণ দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের অজুহাতে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ, বর্তমান দামে তারা লোকসান ভোগ করছেন। সেজন্য প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া, লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভোজ্যতেলের দাম কতো হওয়া উচিত তা নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৯১ মার্কিন ডলারে, যা মাসখানেক আগে ছিল এক হাজার ১৬৯ মার্কিন ডলার। আর এক বছর আগে ওই দাম ছিল এক হাজার ৭৮ ডলার। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেল এক হাজার ১৬২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, অথচ এক মাস আগে তা ছিল এক হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে এক হাজার ২৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ালেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে কিছু তারতম্য রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়ার কারণে সেসব বিষয় সমন্বয় করেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, এই প্রসঙ্গে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম জানিয়েছেন, ভোজ্যতেল আমদানির পর্যায়ে সমস্ত খরচ বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরো একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদি লোকসান অব্যাহত থাকে, তাহলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ওই লক্ষ্যে বর্তমানে সচল প্রায় ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে সার্কুলার ও কমিউটার সার্ভিসসহ প্রায় ৬০টি রুটে আনা হবে। ইতিমধ্যে ডিটিসিএ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও খুব দ্রুতই বাকি রুটগুলোও বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

মূলত একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল, যাত্রী টানাটানি, বেপরোয়া প্রতিযোগিতা, অবৈধ রুট পরিচালনা এবং সড়কের ওপর বাস পার্কিংয়ের মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নতুন রুট কাঠামো প্রণয়ন করছে। পরিবহণ খাত এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে রাজধানীতে ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তার মধ্যে মাত্র ৮০টির বৈধ রুট পারমিট রয়েছে। বর্তমানে হাতিরঝিলে দুটি সার্কুলার রুটসহ আরো ১৬টি রুটে কোনো পারমিট ছাড়াই নিয়মিত চলাচল করছে বাস। অনুমোদিত ও অননুমোদিত রুট ঘিরে রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে করে তুলেছে বিশৃঙ্খল। প্রতিদিন রাজধানীতে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ বাসে যাতায়াত করেন। তার মধ্যে উত্তরা, গাজীপুর, সাভার, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ও সদরঘাট করিডরে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা করেন। সেজন্য নতুন পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ওসব করিডরকে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর গণপরিবহণের রুট ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই পথে কমে আসবে অপ্রয়োজনীয় বাস চলাচল। ফলে হ্রাস পাবে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলাও। পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনায় যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার সময় কমানো, নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চার মাসব্যাপী পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতেই ডিটিসিএ রাজধানীর নতুন রুট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। জরিপে ৫ হাজার অফিসগামী যাত্রী, ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১০ হাজার মেট্রোরেল ব্যবহারকারীর মতামত নেয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ বাস রুটই ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। যদিও নগর পরিবহনের জন্য এতো দীর্ঘ রুট কার্যকর নয়।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা-গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, সাভার, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন করিডরে একই পথে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে। ফলে বাড়ছে যাত্রী টানাটানি, বেপরোয়া প্রতিযোগিতা এবং যানজট। নতুন পরিকল্পনায় একটি করিডরে সীমিতসংখ্যক অপারেটরের মাধ্যমে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি রুটে সীমিত ওভারল্যাপ রাখা হলেও কমিয়ে আনা হবে অপ্রয়োজনীয় রুটের পুনরাবৃত্তি। তাছাড়া রাজধানীতে বাস টার্মিনাল ও ডিপোর সংকটও যানজটের অন্যতম কারণ। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, মোহাম্মদপুর, রিং রোড, শনিরআখড়া, মিরপুর-১২, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের শেষে সড়কের ওপরই বাস পার্কিং করে রাখা হয়। তাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে তীব্র হচ্ছে যানজট। সেজন্যই নতুন পরিকল্পনায় বাস রুটের শুরু ও শেষ প্রান্ত নগরীর কেন্দ্রীয় অংশের বাইরে নির্ধারণ, নতুন টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বর্তমানে সচল নয় এমন অনুমোদিত বাস রুট বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে রাজধানীর জন্য প্রায় ৬০টি বাস রুটই যথেষ্ট বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন। তাছাড়া সড়ক থেকে দ্রুত ফিটনেসবিহীন ১ হাজারের বেশি বাস অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। আর রুট চূড়ান্ত হওয়ার পর কোন কোম্পানি কোন রুট পরিচালনা করবে তা নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে একটি রুটে একটি অপারেটর রাখার নীতি অনুসরণ করা হবে এবং প্রতিটি রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেয়া হবে। আর অনুমোদিত রুটে ফিটনেস, রুট পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই অনুমতি দেয়া হবে বাস চলাচলের।

এদিকে পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। তবে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকার পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রুট পরিচালনার দায়িত্ব অপারেটরদের দিতে পারে। একই সঙ্গে বাসগুলোকে নির্ধারিত রুট, স্টপেজ, সময়সূচি ও গতিসীমা মেনে চলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে বরযাত্রীবাহী অটোরিকশা খালে, নিহত ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ এম


পাকিস্তানে বরযাত্রীবাহী অটোরিকশা খালে, নিহত ১২

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কোট আদ্দু জেলায় একটি বরযাত্রীবাহী অটোরিকশা খালে পড়ে যাওয়ার কারণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে মুজাফফরগড় খালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। উদ্ধাকারীরা জানায় যে, তারা দুই দিনে ১২ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় বরযাত্রীরা ৩টি অটোরিকশায় করে লোমার ওয়ালা থেকে বাসিত আরিনে যাচ্ছিলেন। তবে এগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। অস্বাভাবিক গতির কারণে একটি অটোরিকশার চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে তার রিকশাটি খালে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় রিকশাটিতে ২৪ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজন সাঁতরে ওপরে ওঠে অন্যদের খবর দেন। উদ্ধার অভিযান রাতভর চলে এবং প্রাথমিক অবস্থায় ছয়জন জীবিত এবং তিনটি লাশ উদ্ধার করে উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা দলনেতা ওসামা জিসান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তারা ৯টি লাশ আরো উদ্ধার করেছেন। এর ফলে মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছেছে। কিছুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে, তাই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ৫, ৭ এবং ১৫ কিলোমিটার দূর থেকেও বরযাত্রীদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। খালটির গভীরতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১০০ থেকে ১২০ ফুট। ওই অঞ্চলের কৃষকরা সেঁচের কাজে খালটির পানি ব্যবহার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের খেলা: ১২ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ এম


আজকের খেলা: ১২ আগস্ট ২০২৬

আগামীকাল ভোরে অস্ট্রেলিয়াতে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে আজ বাংলাদেশ অ-২৩ দল মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে।

বিভিন্ন খেলার জন্য টেলিভিশন সম্প্রচার তালিকা রয়েছে।

ক্রিকেটের জন্য ডারউইন টেস্ট, প্রথম দিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার খেলা সরাসরি সম্প্রচার হবে আগামীকাল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে স্টার স্পোর্টস ১ চ্যানেলে।

এছাড়া, প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ অ-২৩ বনাম মালয়েশিয়া সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে টি স্পোর্টস চ্যানেলে।

সিপিএল-এর জ্যামাইকা ও বার্বাডোজের খেলা সরাসরি সম্প্রচার হবে সকাল ৬টায় স্টার স্পোর্টস ২-তে।

দ্য হান্ড্রেডের ওয়েলস ফায়ার ও লন্ডন স্পিরিটের খেলাও প্রচারিত হবে, যা সরাসরি রাত ৮টায় হবে এবং বার্মিংহাম ফনিক্স ও এমআই লন্ডনের খেলা রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে স্টার স্পোর্টস ২-তে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%