০৩:৩৯ পি.এম
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে দুই দিনের জাতীয় কারিগরি পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে।
রবিবার, রাজধানী ঢাকায় দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘সহনশীল উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণ’ শীর্ষক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। এছাড়াও, কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রকৃতির প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয় প্রতিনিয়ত।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এ বিষয়ে গভীর আগ্রহ রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কার্যকর সমন্বয় কিভাবে নিশ্চিত করা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করলে এবং কেবল তাতেই এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য অধিক কার্যকর এবং ফলপ্রসূ হবে।’
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, ‘অর্থ, পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে একটি সম্মিলিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে নীতি, পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে করতে হবে। এই কাঠামোর নেতৃত্বে একটি সুস্পষ্ট প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে এবং কোন সংস্থা ঠিক কী দায়িত্ব পালন করবে, সেটিও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।’
কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা জানান, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে উপকূলীয় জনগণকে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ এই প্রচেষ্টার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একদিকে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমিয়ে আনে, অপরদিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থানীয় জনগণের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।’
এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সময় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছিল এবং ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার যা সবচেয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে উল্লেখ করা হবে।
অংশগ্রহণকারী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভৌগোলিক মানচিত্র, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনা করছেন। তাদের সমীক্ষার ভিত্তিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এলাকা নির্ধারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রতিবেশভিত্তিক জীবিকা, স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
এই কর্মশালাটি ‘মাউন্টেনস টু ম্যানগ্রোভস’ উদ্যোগের অংশ হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর শেষ পর্বে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, পরবর্তী কার্যক্রম, সমন্বয় কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কারিগরি সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণের মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন