০৪:২৩ পি.এম
ভারতে প্রতিবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন হাজার হাজার মানুষ, এবং প্রাণ হারান অনেকেই। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই দীর্ঘকালীন লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে ভারতের প্রথম ডেঙ্গু প্রতিষেধক কিউডেঙ্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়া হলো। জাপানি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাকেদার তৈরি এই টেট্রাভেলেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাকসিনটিকে সম্প্রতি বাজারজাতকরণের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিসিআই)। চার থেকে ষাট বছর বয়সী যে কোন ব্যক্তি, ডেঙ্গুতে পূর্বে আক্রান্ত হন কিনা, তারা এই প্রতিষেধক গ্রহণ করতে পারবেন।
সংস্থাটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে। ক্যুডেঙ্গা বা ট্যাকিং-০০৩ মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান ধরন বা সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিষেধকটি দুই ডোজে তিন মাসের ব্যবধানে চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের এক বছর পর এটি ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক এবং দেড় বছর পর প্রায় ৯০.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি এড়াতে সাহায্য করে। এমনকি সাড়ে চার বছর পরেও এই টিকার সুরক্ষামূলক কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ
ভারতের আলাদা একটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালেও এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞগণ একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই টিকা কখনোই ডেঙ্গু নির্মূলের একক জাদুকরী সমাধান নয়। ক্যুডেঙ্গা মূলত রোগের ভয়াবহতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমায়, কিন্তু মশার বংশবৃদ্ধি ও উপদ্রব বন্ধ না হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, মাথা ব্যথা, গায়ে ব্যথা বা মৃদু জ্বরের মতো কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল বা অনাক্রম্যতাজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য এই টিকা প্রযোজ্য নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন