০২:৩৫ এম
চোখের নিচের কালো দাগ কেবল ঘুমের অভাবের ফল নয়; বরং পানিশূন্যতা, অ্যালার্জি, ভিটামিনের অভাব এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলেও এটির সৃষ্টি হতে পারে। তবে, আমরা অনেকেই ভাবি— চোখের নিচে কালি? নিশ্চয়ই ভালো ঘুম হয়নি। কিন্তু এটি সঠিক নয়; চোখের নিচে কালি হওয়ার নেপথ্যে আরও বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যেসব কারণে ছোপের ধরন পরিবর্তিত হয়। সুতরাং কারণগুলো জানলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন যে, কার চোখের নিচে কেন এবং কী কারণে কালি পড়ে।
এ বিষয়ে চর্মরোগ চিকিৎসক প্রণীতা জৈন কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রধান কারণ হল— দাগ-ছোপের কারণে চোখের নিচে কালি পড়া। এই কালি কালো বা বাদামি রঙের হতে পারে। অতিরিক্ত মেলানিন উত্পাদনের জন্য এই কালি চোখের নিচে অবস্থান করতে পারে। এই উপসর্গের কারণ হতে পারে জিনগত, রোদের তাপ, অ্যালার্জি কিংবা প্রদাহ।
দ্বিতীয়ত, চোখের গর্তের কারণে কালি পড়ে। যদি চোখের নিচের অংশ গর্ত হয়ে যায় অথবা বসে যাওয়ার মতো দেখায়, তখন সেই ছায়ার কারণেও কালো দাগ চোখে পড়তে পারে। বয়স বাড়ার সাথে বা ওজন কমলে চোখের নিচে চর্বির স্তর সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে সুনির্দিষ্ট একটি গর্ত তৈরি হয়। ছায়ার কারণে এটি কালো দেখায়। যদি চোখের ওপরের দিকে তাকানোর পর এই কালো ছোপ বিশ্রাম পায়, তবে বুঝতে হবে যে এটি দাগ নয়, বরং ছায়া।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
তৃতীয়ত, ত্বকের রঙের বৈচিত্র্যের কারণে চোখের নিচে কালি পড়তে পারে। ত্বকে কিছুকাল রেখা তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে মুখের একেক জায়গায় আলাদা রঙ তৈরি হয়। চোখের নিচের অংশ এবং গালের মাঝে স্পষ্ট রেখা তৈরি হতে পারে। অনেকেই এটিকে চোখের নিচের কালি ভেবে ভুল করেন। এটি কোন রোগ নয়; বরং ত্বকের গঠনের কারণেই এমনটি ঘটে। অতিরিক্ত রোদ, হরমোনের পরিবর্তন বা কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার এই দাগকে আরও স্পষ্ট করতে পারে।
চতুর্থত, সূক্ষ্ম রেখার জন্য ছায়া তৈরি হয়। বয়স বাড়ার কারণে চোখের নিচের ত্বক কুঁচকে বা ঝুলে যায় এবং ভাঁজ তৈরি হয়। ত্বকে কোলাজেনের অভাবের কারণে চোখের নিচে এই ছাপ পড়তে পারে। ভাঁজগুলোর কারণে সৃষ্টি হওয়া ছায়া অনেকেই ভুলবশত ডার্ক সার্কল মনে করেন।
পঞ্চমত, রক্তনালির কারণে চোখের নিচে কালি সৃষ্টি হয়। এর ফলে চোখের তলায় হালকা বেগুনি ও গোলাপি রঙের ছাপ দেখা যায়। এটি ক্লান্তির সময় বেশি নজরে আসে। ত্বকের রঙ যদি হালকা হয়, তবে এটি আরো বেশি বোঝা যায়। চোখের তলার ত্বক অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় রক্তনালিগুলো দৃশ্যমান হয়। ফলে রক্তনালির ফুটে ওঠা রঙ চোখের তলায় দেখা যায়। ক্লান্তির সময় যখন রক্ত সঞ্চালনের গতি কমে, জলশূন্যতা দেখা দেয়, এবং ঘুমের অভাব থাকে; তখন এই রঙ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে।
আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন