ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল


এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল

গত ৪ অক্টোবর, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একবারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় নির্ধারণ করেছিল। সেই সময়ের ক্ষতির পর, আমদানিকারক, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারা পরিবহণ, মজুত এবং বিপণনের বিভিন্ন খরচের কারণে কমিশনের কাছে আবারও দাম বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।

এখন এই দাবির প্রেক্ষিতে সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিইআরসি সরকারি ও বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের দর সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করবে।

গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো এলপিজি বোতলজাতকরণ, মজুত এবং বিক্রির প্রতিটি স্তরে লভ্যাংশ ও খরচ বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলোকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

সর্বশেষ ৪ অক্টোবর, বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় নির্ধারণ করে। সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা শূন্য ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা শূন্য ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৪২ টাকা, ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, এবং সাড়ে ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া, ১৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ১৬ কেজির দাম ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ কেজির দাম ২ হাজার ৭৫৫ টাকা, এবং ২০ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৩ হাজার ৬১ টাকা ধার্য করা হয়।

বড় সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ২২ কেজির দাম ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৮২৭ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৪ হাজার ৫৯২ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৫ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


পঞ্চগড়ে সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও প্রকাশ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ উঠেছে যে, ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। অফিসটির দুই কর্মচারীর ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীরা হলেন- ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু এবং অফিস সহায়ক হারুন অর রশিদ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি ঘুষ আদায়ের কিছু দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।

সরকারি ভূমি অফিসে জমির বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। নামজারি বা মিউটেশনের বিভিন্ন কারণে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে আল আমিন লাবু তিন হাজার টাকা এবং নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে হারুন অর রশিদ এক হাজার টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী সালাম জানান, দীর্ঘদিন আগে নামজারির আবেদন করলেও তাঁর ফাইল টেবিলে উঠছিল না। একপর্যায়ে হারুন ও লাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে টাকা দিলেই কেবল কাজ হবে। পরে উপায় না পেয়ে তাঁদের দুজনকে চার হাজার এবং সার্ভেয়ারসহ কর্মকর্তার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু ও অফিস সহায়ক হারুন অর রশিদ ক্যামেরায় ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, "আমি সেখানে সপ্তাহে দুই একদিন যাই এবং কেবল কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিচ্ছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কারো কাছ থেকে কেউ অর্থ নেয়, তবে সেটার দায় সম্পূর্ণ তার নিজের।"

বোডা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে একটি তথ্য অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেন। এই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং একই বছরের আগস্টের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ইউকে হোম অফিস) কর্তৃক ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) সঙ্গে সাক্ষাৎকার উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিআইটির তিনজন কর্মকর্তা এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের দুজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যেটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে ৮ জুন নেয়া হয়েছিল। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

আপনার রাজনৈতিক দলে ভূমিকা এবং বর্তমান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলবেন?

প্রথমে আমাকে অতীতের কথা বলতে হবে। আমি গুমের শিকার হয়েছিলাম এবং আট বছর আয়নাঘরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক ছিলাম। বিষয়টি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমার বর্তমান কাজের পেছনে এই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর আমি মুক্তি পাই। আমার স্ত্রী ও মা ছাড়া আর কেউ ভাবেননি যে আমাকে আবার দেখা যাবে। তারা অবশ্য আশা ছাড়েননি।

এই অভিজ্ঞতার কারণে আমি জানি, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারী হিসেবে এমন একটি সরকারের অধীনে থাকা কেমন, যার ক্ষমতার ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।

আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমার চেম্বারের প্রধান ব্যারিস্টার এ রজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রায় রোমান সম্রাটের মতো ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা চাই।

বর্তমান আইনি কাঠামো অল্প কয়েকজনের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে। এ অবস্থা বদলাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। আমরা চাই, এ কাজ সম্পন্ন হোক।

আমি ঢাকার পূর্বাঞ্চলের মিরপুরের সংসদ সদস্য। এটি শহরের সবচেয়ে দরিদ্র ও অবহেলিত এলাকাগুলোর একটি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। অনেকে মনে করেন, মিরপুরে শুধু অভিজাত ও ধনী মানুষের বসবাস। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

সেখানে অনেক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান দেশের অনেক গ্রামীণ এলাকার চেয়েও খারাপ। মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন, কারণ আমি প্রকৃত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা বলেছি। বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়।

সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি আমি বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। এ দায়িত্বে আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। দলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব আমার ওপর রয়েছে।

আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সংবিধান ও দণ্ডবিধির বর্তমান কাঠামো নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। তা বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি বদলাবে না।

বর্তমানে বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। সহজভাবে বললে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে কাজ করছে না।

২০২৪ সালের আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিবেশে কী পরিবর্তন এসেছে?

প্রথমত, আগে সরকারি পদে ছিলেন—এমন নেতারা আবার ক্ষমতায় এসেছেন। আমাদের দেশে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ভিন্নমত সহ্য করার ইতিহাস কখনও শক্তিশালী ছিল না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে আলাদা কিছু করতে পারেনি।

সাধারণত সরকারে নতুন মুখ খুব বেশি দেখা যায় না। তবে এবার সংসদে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নতুন। তারপরও পুরোনো রাজনৈতিক মানসিকতাই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, ফলে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

নীতি ও আদর্শ পেছনে পড়ে গেছে। আমরা আবার পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি, যেখানে জোর করে নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়। ধারণা ও আদর্শের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণের বদলে ক্ষমতাসীন শ্রেণি ও ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কে কতটা লাভ করতে পারবেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু অনেক বেশি লেনদেননির্ভর হয়ে উঠেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকৃত সংস্কারের কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল এবং তাদের স্পষ্ট পরিকল্পনাও ছিল। এখন সেই উদ্যোগগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বড় সিদ্ধান্তগুলোও পারস্পরিক লেনদেনের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। এ কথা আমি প্রকাশ্যেই বলতে চাই।

বিএনপির সঙ্গে আপনাদের দলের বর্তমান সম্পর্ক কেমন?

বিএনপি আমাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামী সঙ্গী। ২১ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা জোটে ছিলাম এবং একসঙ্গে সরকারেও অংশ নিয়েছি। তখন আমাদের স্বার্থ অভিন্ন ছিল এবং আমরা একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়েছি।

নির্বাচনের সময় আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এখন একটি দল সরকারে এবং অন্যটি বিরোধী দলে। তারপরও আমাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে।

সংসদে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা হলে সরকার সহনশীলতার ভাব দেখানোর চেষ্টা করে। আমরা সমালোচনা করলেই রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে—এমনটা এখনও দেখা যায়নি। কিছুটা সহনশীলতা রয়েছে, তবে তা কমে আসার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারের কর্মকর্তা বা সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার কারণে এখন পর্যন্ত সাতজন অনলাইন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ১০০ দিন। এর মধ্যেই শুধু সরকারের সমালোচনা করার কারণে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এবং সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে আমরা আরো বেশি সমালোচনা করব। এতে ঝুঁকিও বাড়বে। সাধারণভাবে ক্ষমতা ও সহনশীলতা বিপরীতমুখী—ক্ষমতা যত বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, ক্ষমতাসীনদের সহনশীলতা তত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ক্ষমতা আরো কেন্দ্রীভূত হলে আইনি সংস্কার থমকে যেতে পারে—এমন ভয় রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের সহনশীলতার কথা বললেন। নির্বাচনী এলাকা বা তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি জামায়াতের প্রতি কতটা সহনশীল?

ঢাকার পরিস্থিতি দেশের অন্য এলাকার তুলনায় আলাদা। অন্য জায়গায় সরকারের নীতি বিভাজন বাড়াচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি অনুদান সমানভাবে দেওয়ার কথা। কিন্তু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনুদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি কোনো এলাকার সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে সরকারি অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পদ্ধতিগতভাবে বিরোধী দলকে বঞ্চিত করার বিষয়ে আমরা একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি, সেটি আমি শেয়ার করব।

বিরোধী দলকে সরকারি অনুদান থেকে বাদ দেওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বেশি। ফলে পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেওয়া ঠেকানো সম্ভব হয়। গ্রামীণ এলাকায় প্রতি সাত হাজার মানুষের বিপরীতে প্রায় একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। সেখানে ভিন্নমত থেকে কিছু বিক্ষোভ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত একজন মারা গেছেন।

এসব ঘটনা কি নির্বাচনের আগে ঘটেছে?

না, নির্বাচনের পরও ঘটেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজনের মৃত্যু অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ কথা বলতে আমি গর্ববোধ করি না, কিন্তু একজন বা দুজনের মৃত্যু অনেক সময় সংবাদ শিরোনামও হয় না।

একজন সহপাঠী মারা যাওয়ার পর আমরা বিক্ষোভ করেছিলাম। তখন মানুষ অবাক হয়েছিল, একজনের মৃত্যুর জন্য কেন বিক্ষোভ হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা—এ ধরনের মৃত্যু এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে তা প্রায়ই সংবাদ হয় না। এতে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিকীকৃত হয়ে পড়েছে। আমার উদ্বেগ হলো, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এ অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের সুযোগ এখন কেমন? আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে কী পার্থক্য?

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দমন-পীড়ন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো।

এখন ভুল তথ্য এবং জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া পোস্ট মোকাবিলায় নতুন একটি আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, পুরোনো আইনটিকেই নতুন নামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সরকার বলছে, উদ্দেশ্য ভুল তথ্য মোকাবিলা করা। কিন্তু পুরোনো বিধানগুলো ফিরিয়ে আনা হলে অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

সরকার বলছে, আইনটি রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নয় এবং রাজনৈতিক সমালোচনা এর আওতায় পড়বে না। কিন্তু আইনটির বিধান যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। নতুন আইন পাস হলে সরকারের সমালোচনা করা ব্যক্তিদেরও ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে হতে পারে। আমরা এই আইনকে সমর্থন করি না। বানানো তথ্য ও সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার সুযোগ এতে রয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুলিশ ও বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বাংলাদেশে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত তা ব্যাপক আকারে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সংস্কার এবং ক্ষমতার বিভিন্ন শাখায় বড় ধরনের সংশোধন না এলে এমন অপব্যবহার ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই।

নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের পর প্রতিবাদ হয়েছিল কি? পুলিশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?

নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ ছিল। বড় ধরনের সহিংসতা আমরা দেখিনি। ফল ঘোষণার পরও অনেক মানুষ সন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তাদের মনে হয়েছিল, জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা ফল মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিরোধী দলের এই ধৈর্যশীল অবস্থানের কারণে নির্বাচনের পর সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

তবে সম্প্রতি দুটি উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হয়েছে। শেরপুরে একজন মারা গেছেন এবং গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল—এমন ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাচনের সময় ও পরে সহিংসতার ঘটনায় কোন পক্ষগুলো জড়িত ছিল?

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সহিংসতা হয়েছিল। ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ভোটকেন্দ্র দখল করে এবং উপনির্বাচনে জয়ী হয়।

এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল?

পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে; তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জাতীয় নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা সমস্যা ঠেকাতে এবং সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল।

আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৩০টি কেন্দ্র সাধারণ নির্বাচনের সময় এ ধরনের গোষ্ঠী দখল করেছিল। সেনাবাহিনী দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের বের করে দিয়েছিল। কিন্তু উপনির্বাচনের সময় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

শেখ হাসিনার আমলের কর্মকাণ্ডের জন্য আটক ব্যক্তিদের বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য আছে? উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে সংবাদ হয়েছে। সাধারণ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বা নিয়মিত আদালতের মামলার কী অবস্থা?

সত্যি বলতে, যারা ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে পেরেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হননি, তাদের অধিকাংশই মুক্তি পেয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি জামিন পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বা সমঝোতা করতে পেরেছেন।

আমার এলাকায় এমন স্থানীয় নেতারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, যারা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়েছিলেন। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে। যারা ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে পেরেছেন অথবা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন, তারা মুক্তি পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে এমনটি ততটা ঘটেনি। সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি নজরদারি ও ভারসাম্য রয়েছে এবং মামলাগুলোও ব্যাপক মনোযোগ পাচ্ছে।

গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি জামিন পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক স্পিকার তিন সপ্তাহের মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারাগারে যাওয়া দুজন সংসদ সদস্যও মুক্তি পেয়েছেন।

আইনজীবী মহলে, এমনকি আওয়ামী লীগ সদস্যদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আমার এক বন্ধুর কাছ থেকেও শুনেছি, তারা জামিন পাওয়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তাদের জামিন না দেওয়ার জন্য আগে যে রাজনৈতিক চাপ ছিল, এখন তা আর নেই।

সংক্ষেপে, যাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে এবং যারা ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন, তাদের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা কী?

একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়ে আমি আগে গর্ববোধ করতাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই গর্ব আর অনুভব করি না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা বিলুপ্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে এটিকে আরো শক্তিশালীভাবে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমরা এখনও তার অপেক্ষায় রয়েছি।

ক্ষমতায় গেলে যেকোনো নির্বাহী সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, বিচার বিভাগও তার বাইরে নয়। এখানেও সেটিই ঘটেছে। এ সংস্কার আর এগোয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত আইনগুলো পূর্ণাঙ্গ সংসদে অনুমোদন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হওয়ায় কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনগুলো পুনর্বহালের জন্য চাপ দিচ্ছে।

সরকার বলছে, এক বা দুই বছরের মধ্যে এগুলো ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে তা বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এ থেকেই অনেক কিছু বোঝা যায়।

হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের অবস্থা কী? এখনও কেউ আটক থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে আটক অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু ব্যক্তি এখনও কারাগারে রয়েছেন। এসব মামলার অবস্থা খুব একটা বদলায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিদ্রোহের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যেও অনেকে এখনও কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, কিন্তু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

এ ধরনের মামলা কি অন্য মামলার চেয়ে আলাদা?

হ্যাঁ।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকলে, তা কি এখনও বৈধ? পরোয়ানা কার্যকরের প্রক্রিয়া কী?

আইনগতভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বৈধতার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আইন পরিবর্তন করে বাতিল করা না হলে বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ পরোয়ানা প্রত্যাহার না করলে সেটি কার্যকর থাকে। প্রত্যাহারের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরোয়ানাটি অনির্দিষ্টকাল বৈধ থাকতে পারে। আইনগত অবস্থান এটাই।

তবে বাস্তবে পুলিশের জনবল কম, কাজের চাপ বেশি এবং অর্থের ঘাটতি রয়েছে। ফলে আইনগতভাবে বৈধ পরোয়ানাও অনেক সময় কার্যকর করা হয় না।

আগে কোনো জামায়াত সমর্থকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে, এখন কি তা কার্যকর করা হতে পারে?

আমি এমন দুজন জামায়াত নেতাকে চিনি, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারের আশঙ্কায় দেশ ছেড়েছিলেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের আটক করা হয়। পরে আদালতে নেওয়া হলে তারা জামিন পান।

একজনের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হওয়ায় পরোয়ানার তথ্য দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে বহু বছর পরও কেউ দেশে ফিরলে ধরা পড়তে পারেন।

যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকে পরোয়ানা রয়েছে, তারা দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার হতে পারেন। এরপর জামিন পেতে পারেন, কয়েক দিন আটক থাকতে পারেন, অথবা অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী দীর্ঘ সময় কারাগারেও থাকতে পারেন।

এসব ক্ষেত্রে কি আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়?

হ্যাঁ, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এরপর জামিন পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অভিযুক্ত একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাকেও মুক্তি পেতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তাকে কিছু সময় কারাগারে থাকতে হয়, পরে তিনি মুক্তি পান এবং মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং শুরুতে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের কেউ কি এখনও আটক রয়েছেন?

না, তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ‘জুলাই আন্দোলনকারী’দের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গণমাধ্যমে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-সমর্থক ব্যক্তিদের টক শোতে, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে—এমন কিছু ব্যক্তি প্রশ্ন তুলছেন, পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনায় আন্দোলনকারীদের আটক করা উচিত কি না।

‘জুলাই যোদ্ধা’দের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন যে আওয়ামী লীগ নেতারা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা প্রতিশোধ নিতে পারেন। তাদের আরো অভিযোগ, বিএনপি জুলাই ২০২৪ সালের বিপ্লবে নিজেদের ভূমিকার দায় স্বীকার করছে না।

আন্দোলনে যারা সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা এখন সমর্থনহীন বোধ করছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় সমাজে থাকা আওয়ামী লীগের সদস্যদের এখনও ক্ষমতা ও প্রভাব আছে কি?

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে দলের নেতারা বিপুল সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গড়ে তুলেছেন। বিএনপি এখন লেনদেন ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সরকার পরিচালনার পথ নিয়েছে। এর ফলে তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সুবিধা আদায় করতে পারছে।

আর্থিকভাবে শক্তিশালী কোনো আওয়ামী লীগ নেতা জুলাই আন্দোলনের স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইলে আমি অবাক হব না। এমনকি ব্যবসায়িক বিরোধের কারণেও তা ঘটতে পারে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ব্যবসায়িক বিরোধে পড়া মানুষ সুরক্ষা চাইতে কোথাও যেতে পারতেন না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভূমি ও ব্যবসায়িক বিরোধে স্থানীয় বাসিন্দারা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজেদের আগের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়া এড়িয়ে তাঁরা এসব করছেন। এটি সত্যিকারের উদ্বেগের বিষয়।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে পুলিশ কতটা কার্যকর? কেউ রাজনৈতিক সমস্যায় পড়লে পুলিশের কাছে গেলে কি সহায়তা পাবেন? কোন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তার ওপর কি বিষয়টি নির্ভর করবে?

সত্যি বলতে, ভুক্তভোগীর নিজের সামর্থ্যের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তিনি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আর্থিক সক্ষমতা ব্যবহার করে বিষয়টি মানুষের নজরে আনতে পারেন, তাহলে প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো, ক্ষমতাসীন দল মামলাটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা যদি কোনো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভুক্তভোগীর পক্ষে প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

আমার নির্বাচনী এলাকায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা ছিল নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান বিষয়। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় কয়েকটি গোষ্ঠী চাঁদাবাজির ব্যবস্থা চালাচ্ছিল। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাত। এ কারণে আমি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করতে একজনকে সহায়তা করতে বলেছিলাম। পরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা করেন।

তিনি শুধু চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের একত্র করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এখন তাকেই ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর কারণ হলো, ওই চক্রের সঙ্গে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা রয়েছে এবং তারা চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ পান।

আমি পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলাম। তিনি সহায়তা করতে পারেননি, কারণ তিনি ওই এলাকায় ফিরে যেতে পারছিলেন না এবং তার নিজের নামেও একটি পরোয়ানা ছিল। আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে পুলিশকে বলছিলাম, ওই ব্যক্তি নির্দোষ এবং আমার নির্দেশেই ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন।

পুলিশ বলেছে, তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। তারা আমাকে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে। পুলিশের স্বাধীনভাবে কাজ করার ইতিহাস নেই এবং সে অবস্থারও পরিবর্তন হয়নি।

আমি আশা করি, কেউ এ বক্তব্য পড়বেন এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেবেন। আমাদের স্বীকার করতে হবে, ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে এবং তা বদলাতে হবে। সমস্যাকে আড়াল করে বা মিষ্টি কথায় ঢেকে রাখলে পরিবর্তন আসবে না। সমাধানের প্রথম ধাপ হলো—ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে, তা স্বীকার করা।

সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা এবং মূল দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে?

বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত—তিন দলেরই ছাত্রসংগঠন রয়েছে। ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি অনেকটা একই; তারা যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ।

জামায়াত আলাদা। আমাদের সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা বেশি এবং আমরা বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ। আমাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। এটি স্বাধীন সংগঠন। এমনকি জামায়াতও ঠিক করে দিতে পারে না, ছাত্রশিবিরের সভাপতি কে হবেন।

বিএনপির ক্ষেত্রে দলীয় গঠনতন্ত্রে দলের চেয়ারপারসনকে ছাত্রসংগঠনের প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে ছাত্রসংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কাঠামোর অংশ। আমাদের ক্ষেত্রে তা নয়; ছাত্রশিবির স্বাধীন। সংগঠন হিসেবে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করি না।

তবে কোনো বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্য বা স্বার্থ থাকলে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। যেমন, বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে আমরা প্রতিবাদ করছি। সে ক্ষেত্রে যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারি।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে ছাত্রসংগঠনের প্রধানকে দলীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে। আইন ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই তাদের ছাত্রসংগঠন মূল দলের রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ। আমাদের গঠনতন্ত্রে ছাত্রশিবির সম্পূর্ণ আলাদা এবং বাস্তবেও তারা স্বাধীন।

জামায়াতের নেতারা ছাত্রদের নিজস্ব মতামত রাখার সুযোগ দেন। ছাত্রশিবিরের সদস্যরা স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তথ্য যাচাই করতে পারে এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে। ফলে তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয় পেয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে আমরা একই সাফল্য ধরে রাখতে পারিনি। ছাত্রশিবির পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারে, অথচ মূল দল হিসেবে জামায়াত ততটা নমনীয় নয়।

জামায়াতের একটি অভ্যন্তরীণ পরিষদ রয়েছে, যার মাধ্যমে দলের সদস্যরা আমির ও অন্যান্য নেতা নির্বাচন করেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই।

আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মূল দল ও ছাত্রসংগঠন—কোনোটির সাংগঠনিক পদ্ধতিতেই পরিবর্তন আনেনি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় দলের ছাত্রসংগঠনের নেতারা তুলনামূলকভাবে বেশি বয়সী হন। তাদের দীর্ঘদিন একই পদে রাখা হয় এবং মূল দলের নেতৃত্বই কার্যত তাদের বেছে নেয়। এমনকি ছাত্রসংগঠনের সহসভাপতির মতো পদেও মূল দলের নেতৃত্বের প্রভাব থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টি-টোয়েন্টিতে টানা ৮ ছক্কায় ২৭৮ রানের ইনিংস খেলা বিস্ময় বালক তন্ময় চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


টি-টোয়েন্টিতে টানা ৮ ছক্কায় ২৭৮ রানের ইনিংস খেলা বিস্ময় বালক তন্ময় চৌধুরী

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলগত সংগ্রহ হিসেবে ২৭৮ রান একটি বিশাল সংখ্যা। তবে যদি সেই রান একমাত্র একজন ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে, তাহলে সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন একটি কীর্তি স্থাপন করেছেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার তন্ময় চৌধুরী।

‘স্কুলস টোটাল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে দিল্লির দলের এই ব্যাটার একাই ২৭৮ রান করেছেন। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ২২টি চার এবং ২৭টি বিশাল ছক্কা ছিল। প্রতিপক্ষ বোলারদের বিরুদ্ধে তিনি রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে অনন্য এই রেকর্ড গড়েছেন।

সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল টানা আট বলে আটটি ছক্কা হাঁকানো। এর মধ্যে শেষ ৫টি ছক্কা আসে এক ওভারের শেষ পাঁচ বলে এবং বাকি ৩টি পরের ওভারের প্রথম ৩ বলে আসে।

তন্ময়ের এই সাফল্যে তার বাবা সতীশ চৌধুরি অত্যন্ত গর্বিত। তিনি জানান, সপ্তম শ্রেণি থেকে ক্রিকেটে হাতেখড়ি হওয়া তন্ময় বর্তমানে দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের দল ‘ইস্ট দিল্লি রাইডার্স’-এর হয়ে খেলছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তার প্রায় ১০০টি শতরান এবং এক ডজন দ্বিশতরান করার রেকর্ড রয়েছে।

গত বছর, তিনি ৭৪ বলে অপরাজিত ২২৮ রান এবং চলতি টুর্নামেন্টে ৬৯ বলে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসও খেলেছেন এই ‘বিস্ময় বালক’।

সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়

ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘদিন ধরে "পুতিনের গোপন তহবিল" (Slush Fund) নামে পরিচিত রাশিয়ার ফ্ল্যাগশিপ সরকারি বিনিয়োগ তহবিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র এবং আলোচনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে চলমান আলোচনা এই পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ আবেদন মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার প্রতিনিধি দল রুশ বিনিয়োগ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভকে একজন "সহযোগিতাপূর্ণ দূত" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ইউক্রেনে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বজায় না রেখে ট্রাম্প পুতিনকে অর্থনৈতিক ছাড় দিচ্ছেন।

রুশ ডিজেল চুক্তি ও পটভূমি

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর বাইডেন প্রশাসন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (RDIF)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে সময় বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা এরিক গ্রিন বলেছিলেন, "হাঁস-মুরগির খামারের মতো এ তহবিল দিয়ে ক্রেমলিন তাদের যুদ্ধ অর্থায়ন এবং নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে আসছে।"

তবে, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে। গত ৯ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাময়িক কিছু ছাড় দেওয়ার পর, এই তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভের মধ্যস্থতায় রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার রওনা দিয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সাম্প্রতিক বৈঠকে ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানান, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এখন সরাসরি দিমিত্রিভের সাথে কাজ করছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

অন্যদিকে, বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্তাব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন যে, সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মানে রাশিয়ার আগ্রাসী নীতিকেই প্রশ্রয় দেওয়া। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%