শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫০ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এবং বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—আবু সাঈদ তালুকদার দুলাল (৬৫) ও মো. কামাল হোসেন লিটন (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের কালামাঝি গ্রামে অভিযান চালিয়ে মৃত করিম তালুকদারের ছেলে আবু সাঈদ তালুকদার দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মধুপুর থানা-পুলিশ উপজেলার মালাউড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মৃত মহি উদ্দিনের ছেলে মো. কামাল হোসেন লিটনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মধুপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মধুপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্যের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে তারা এই বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় চুয়েট শিক্ষক সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় জুম প্ল্যাটফর্মে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ওই রাত থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমগুলো চালু থাকবে।’
আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—এমন স্লোগান দেন। দুপুর ২টার দিকে মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দেয়াল লিখনের ঘোষণা দেন।
চুয়েটে তৃতীয় দিনের মতো চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, ‘গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।’
এর আগে বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। ওই পত্রে তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন।
গত চার দিন ধরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন নিলু দাড়িয়া (৫৮) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত নিলু দাড়িয়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মৃত সেকেল উদ্দিন দাড়িয়ার পুত্র। তিনি দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিলু দাড়িয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নিলু দাড়িয়াকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর জেলার এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন শাহেদের পরিচালিত যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির অবৈধ কারখানায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। গত মঙ্গলবারের অভিযানে ওই অবৈধ কারখানা থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ, বেবি জেল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর এনসিপি নেতা বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এসব অবৈধ ওষুধের জব্দের ফলে অনেক মানুষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় 'মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা' নামের এই অবৈধ কারখানা পরিচালনা করছিলেন এনসিপি নেতা শাহেদ। সেখানে শিশুদের জন্য বেবি জেল এবং বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো।
ঘটনাস্থল থেকে জিল্লুর রহমান নামের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধ কারখানাটি থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতিকারক কাচামাল জব্দ করা হয়েছে। কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এখানে আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, বিতর্কিত ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা পরিচালনার জন্য পরিচিত মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ, গবেষক এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ পদবি দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতে অবদানের জন্য। তারা উল্লেখ করেছে যে, অনন্তের প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানা ‘ভানতারা’র কার্যক্রম তাদের বিশ্বমানের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, বিশিষ্ট ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগের বিরুদ্ধে কড়া বিরোধিতা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ভারতে এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, যারা টেকসই উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা রাখছেন।"
পরিবেশকর্মী প্রেরণা সিং বিন্দ্রাও এই নিয়োগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, "একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানাকে সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা ভুল বার্তা দেয়। খাঁচায় প্রাণী বন্দি করা প্রকৃত সংরক্ষণ হতে পারে না।"
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের নিউক্যাসল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানিয়েছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিতর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ভারতে অনন্ত আম্বানির ভানতারা প্রকল্প ৩ হাজার ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপন্ন প্রাণী সেখানে আনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিপন্ন প্রজাতি বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা সাইটসও তাদের এক তদন্তে প্রাণী আমদানির অনুমতিপত্রে অনিয়মের আভাস পায়।
তবে, ভানতারা ও আম্বানি পরিবার শুরু থেকেই বন্যপ্রাণী পাচার ও সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ভানতারা মূলত একটি প্রাণী উদ্ধার ও সেবা কেন্দ্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ