১১:৫৪ এম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাঁচ মাসের মধ্যে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করেছে, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি করপোরেট বন্ডের লেনদেন বৃদ্ধি করতে তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বিধিমালা সংস্কারের জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুমোদিত বন্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার কোটি টাকার তিন বছরমেয়াদি জিরো-কুপন গ্রিন বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার সাসটেইনেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এবং ওয়ান ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড।
বন্ডবাজারকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে বিএসইসি অনুমোদিত বন্ডগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত আরোপ করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ড বিক্রি করে বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মালাগার সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে চায়
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, "বন্ডবাজার গতিশীল করতে এবারই প্রথম মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে দ্বিতীয় বাজারে বন্ড লেনদেনের সুযোগ বাড়বে।"
কমিশন বন্ডের ধরন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে। নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়নের লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি টাকার ‘অরেঞ্জ বন্ড’ অনুমোদন করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অর্থায়নের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ডও অনুমোদিত বন্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বন্ডবাজারে বীমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি পৃথক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ ও সময়োপযোগী করতে ডেট ইস্যু রুলস সংশোধন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে করপোরেট বন্ডের চাহিদা ও লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং শেয়ারনির্ভর পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগ পণ্যের পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক বুধবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন