০৬:৪৪ এম
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে জনস্বার্থের জন্য তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, তারা অবসরজনিত সকল সুবিধা পাবেন এবং এ আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কাজ করছিলেন এবং প্রত্যেকের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারের জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অবসরে যাওয়া ৩২ কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে যারা যেসব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন সেসব জেলায় তাদের নামগুলো হলো— রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।
সরকারি সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাজ করেছেন। প্রশাসনিক সংস্কার এবং ওই নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লেখ করা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পূর্ব রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে বিজয়ী হয় আর প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন