ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরিদপুরে মাফিয়াচক্র: ইতালির নামে লিবিয়ায় নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ


ফরিদপুরে মাফিয়াচক্র: ইতালির নামে লিবিয়ায় নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ

"ও ভাই, কোন জায়গা গেলে বিচার পাব? এই মাফিয়ারা আমারে নিঃস্ব করে ফেলছে। এর বিচার করবে কারা?"

ফরিদপুরে সক্রিয় লিবিয়া মাফিয়াচক্রের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের সামনে সড়কে গড়াগড়ি করে এভাবেই পাগলের মতো আর্তনাদ করছিলেন নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতি গ্রামের মিজানুর রহমান (৪০)।

মিজানুরকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। ৩ দফায় মুক্তিপণের নামে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মাফিয়াচক্র। তারপরও মুক্তি মেলেনি।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার

ভয়াবহ নির্যাতন সইতে না পেরে, জানালা ভেঙে পালিয়ে লিবিয়া পুলিশের শরণাপন্ন হন মিজানুর। তার মতো আরও অন্তত ১১ জন পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। একইসঙ্গে, মাফিয়াচক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও তাদেরকে দেওয়া টাকা উদ্ধারের দাবিও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের অন্তত ১৫টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাফিয়াচক্র। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হত্যা করা হয় একজনকে। এছাড়াও, এই চক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে কয়েকজন সাড়ে ৩ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের দাবি, এই চক্রের মূলহোতা নগরকান্দার কৃষ্ণনগর গ্রামের মুরাদ বেপারী (৪০)। সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), বকুল মাতুব্বর (৫০), ভাঙ্গার বাড়ৈইহাট গ্রামের আনোয়ার শেখ (৩৮), মনির মাতুব্বর (৩৪) এবং আসলাম ও শাহিন নামে আরও দুইজন। সহযোগীরাই স্থানীয় যুবকদের ইতালিতে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে, মূলহোতা মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের

এর আগে, ২০২৩ সালে এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ইতালির নামে লিবিয়া নিয়ে বন্দি করা হয় ভাঙ্গার জাঙ্গালপাশা গ্রামের হাবিব মাতুব্বরকে (৪০)।

বিদেশযাত্রার আগেই তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারে পাঠিয়ে ফের নেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এরপরও মুক্তি মেলেনি। আরও দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা। পরিবার সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে হাবিবকে হত্যা করা হয়। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।

স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে আসেন হাবিবের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। বর্তমানে ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, "১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় আমার স্বামীরে মুরাদ মাইর‌্যা ফেলছে। আমার স্বামীর ১ শতাংশ জায়গা ছিল, সেই জমিও বিক্রি করে দিছি। ৩ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেছি। স্বামী হত্যার বিচার চাই।"

সে সময় নির্যাতনে হাবিবের মৃত্যু দেখে বন্দিঘরের জানালা ভেঙে অন্তত ২৫ জন পালিয়ে যায় বলে, জানান ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম। তার কাছ থেকে একই চক্র হাতিয়ে নেয় ২৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এলেন চীনা যুবক

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আজিজুল বলেন, ৩ দিন না খাইয়ে রাখার পর এক রাতে প্রচুর মারধরে হাবিব মারা যায়। হাবিবের লাশ নিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে ফেলে দিতে যাওয়ার সুযোগে জানালা ভেঙে পালিয়ে এক লিবিয়ানের বাসায় আশ্রয় নিই। ওই ব্যক্তি পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে আইওএমের মাধ্যমে দেশে ফিরি।

ওই চক্রের কব্জায় গিয়ে নিখোঁজ আল-আমিনের মা চামেলী বেগম বলেন, আজ তিন বছর যাবৎ ছেলে নিখোঁজ। কী অবস্থায় আছে জানতে পারি নাই। আমি শুধু ছেলেটার সন্ধান চাই। এ ঘটনায় মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চক্রের মূলহোতা মুরাদ বেপারীর লিবিয়ার নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য সহযোগীরাও গা ঢাকা দিয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামসুল আজম এ প্রসঙ্গে জানান, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ মামলা করে থাকলে, তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসক সংকটের স্থানে পোস্টিং করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


চিকিৎসক সংকটের স্থানে পোস্টিং করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের যেসব স্থানে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানেই তাদের পোস্টিং করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সপ্তম বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে জটিল অস্ত্রোপচারও হচ্ছে। চিকিৎসকরা অতীতে তাদের সফলতা প্রমাণ করেছেন। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। এটি আমার জন্য স্থায়ী নয়। আমি আপনাদের জন্য কাজ করবো। আমি সবসময় আপনাদের এবং আমার মানুষের কথা চিন্তা করি।’

সাখাওয়াত হোসেন আরও উল্লেখ করেন, দেশের সম্পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা গেলে অনেক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় ৭০টির বেশি রেডিও থেরাপি মেশিন প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। যেখানে চিকিৎসক প্রয়োজন, আমরা সেখানেই পাঠাবো।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ডাক্তার, আমি লেবার। সবাই সবার সেক্টরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডাক্তাররা মানবজাতির জন্য অত্যাবশ্যক। বিদেশে কনফারেন্সে আমি বলি, আমাদের চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করবেন না। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ডাক্তাররাই করেন। সামনে রোবটিক সার্জারিতেও প্রবেশ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘যদি দেশ স্বাধীন না হতো, তাহলে আজ আপনারা ডাক্তার হয়ে এখানে বসতে পারতেন না। জেলা প্রশাসক কিংবা বিচারক কেউ হতে পারতেন না। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে রক্ত টগবগ করে উঠেছিল। দেশটির প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, কিছুদিনের মধ্যে কিছু চিকিৎসক ও টেকনোলোজিস্টকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘একাত্তরের প্রেম নিয়ে দেশের মানুষ ও আপনাদের জন্য কাজ করবো। আপনারা সমাজের সেরা ব্যক্তি। আপনারা সামনে থাকবেন। পেছন থেকে আমি সব কিছু করে যাবো।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্কমোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


নেত্রকোনায় মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী, ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চল্লিশা কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করাকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম চলে আসছে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার আসবাবপত্র ও পবিত্র কোরআন শরিফেরও ক্ষতি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী তানভীরের ভাষ্য, ফজরের নামাজের পর ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের সময় আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি বাধা দেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানানো হলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিরোধের জেরে আব্দুল হামিদ তাঁর ছেলে ও অন্যদের নিয়ে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকেসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সাকিবের অভিযোগ, হামলার সময় আশপাশের লোকজনকেও মারধর করা হয়। এমনকি পাশের বাড়িতে ঢুকে নারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সদস্যসচিব গাজী আব্দুর রহিম রুহি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার করা গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডুবেছে স্বপ্নের ‘আইল্যান্ড গার্ল’, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফেরা হলো না নিউজিল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


ডুবেছে স্বপ্নের ‘আইল্যান্ড গার্ল’, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফেরা হলো না নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোস্টগার্ড সদস্য অ্যাডওয়ার্ড পুডনির বাংলাদেশে আগমন ঘটে ২০২৪ সালে। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী বেলা, ১৬ বছর বয়সী সন্তান আলবার্ট এবং ছোট ছেলে রালফ। পরিবারটি প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান করছিল। তাদের স্বপ্ন ছিল, এখানে নির্মিত নৌযানটির মাধ্যমে সাগরপথে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

কক্সবাজারের স্থানীয় কারিগরদের সহযোগিতায় প্রায় দুই বছর ধরে নির্মিত হয় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের নৌযানটি। এর নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল এক কোটি টাকার বেশি।

কিন্তু গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের সোনাদিয়া চ্যানেলে বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে যান অ্যাডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা এবং ছোট ছেলে রালফ। তবে নিখোঁজ হয়ে যায় তাদের ১৬ বছর বয়সী সন্তান আলবার্ট। ৩২ ঘণ্টা পর সমুদ্র উপকূলে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে আলবার্টের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হোটেল শৈবালে অবস্থান করছিলেন পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যরা।

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তারা। বাবা, মা ও ছোট ছেলে ফিরলেও আলবার্ট আর ফিরছে না। তাদের স্বপ্নের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এখন বাঁকখালী নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

অ্যাডওয়ার্ড ও তার পরিবারের বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছিল ‘আইল্যান্ড গার্ল’। নৌযানটি নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল, স্থানীয় কারিগরদের সহযোগিতায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম রুবেলের মতে, নৌযানটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। এটি ব্যক্তিগত অ্যাডভেঞ্চার ও সমুদ্রভ্রমণের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল এক কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হয়।

স্থানীয় জেলে আবদুর রহমান জানান, দুটি কাঠের নৌযান জোড়া দিয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ তৈরি করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌযানটির সংযোগস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে একটি অংশ দ্রুত ডুবে যায়, এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য অংশটিও তলিয়ে যায়।

নৌযানটি দীর্ঘদিন ধরে বাঁকখালী নদীতে নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটির বিপরীত পাশে নোঙর করা ছিল। দুর্ঘটনার পর সেটি ডুবন্ত অবস্থায় সেখানেই পড়ে রয়েছে।

নৌকাডুবির কয়েক মাস আগে ওই নৌযানে ঘুরতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল রাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে তাদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। পরদিন ৯ এপ্রিল কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, অ্যাডওয়ার্ড পরিবারসহ সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠের নৌযানে সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পরিবারটিকে এ ধরনের সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। ১ মার্চ তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেয়া হয়। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তারা সোনাদিয়া চরে নৌযানসহ অবস্থান করছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

হামলার খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে।

নদীতে পড়ে আছে ‘আইল্যান্ড গার্ল’

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে তৈরি করা ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এখন বাঁকখালী নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর পরিবারের ১৬ বছর বয়সী আলবার্টের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে কক্সবাজারে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছিলেন, আলবার্টের মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে নিউজিল্যান্ডের দূতাবাস ও পরিবারের সম্মতি নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে কক্সবাজারে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

যে যাত্রা শুরু হয়েছিল চারজনকে নিয়ে, তার শেষ হলো তিনজনের দেশে ফেরা আর একজনের চিরবিদায়ে। হয়তো কোনো একদিন বাঁকখালী নদী থেকে উদ্ধার করা হবে ‘আইল্যান্ড গার্ল’। কিন্তু পরিবারের হারানো সন্তান আর ফিরবে না। একসঙ্গে বিশ্বভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার স্বপ্নটিও আর পূরণ হবে না।

হোটেল শৈবালে শেষ ৫০ দিন

নৌকাডুবির পর থেকে কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে ছিলেন অ্যাডওয়ার্ড ও তার পরিবারের অন্য দুই সদস্য। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদের থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে পুলিশ প্রশাসন।

বিদায়ের আগে হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে ছবি তোলেন তারা। দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্কের স্মারক হিসেবে তাদের হাতে দেশীয় পণ্য উপহার হিসেবে তুলে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন করপোরেশনের হোটেল শৈবাল ও মোটেল লাবণীর ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন, ২৫ আগস্ট নৌকাডুবির পর উদ্ধার হওয়া নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় হোটেল শৈবালে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময়ে তাদের খাবার, আবাসন ও লন্ড্রি সেবাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে অবস্থানের কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পরও বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা নিয়ে তারা দেশে ফিরছেন বলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন তিনি।

বিদায় উপলক্ষে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও দেশীয় পণ্য তুলে ধরতে হোটেলের পক্ষ থেকে তাদের স্মারক উপহার দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যেভাবে হলো ফেরা

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, নৌকাডুবির পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়া ও সার্বিক বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেছেন।

তিনি সময় সংবাদকে বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে ৯ অক্টোবর তাদের ফেরার কথা থাকলেও পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমান টিকিটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৪ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার দিন নির্ধারণ করা হয়।

তাসনীম জাহান আরও বলেন, দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা কাটিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেটিই জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় আগুন, পুড়ল দুই মোটরসাইকেল ও নথিপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


নেত্রকোনায় গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় আগুন, পুড়ল দুই মোটরসাইকেল ও নথিপত্র

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের চুচুয়া বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেষরাতে এ ঘটনায় ব্যাংকের দুটি মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংকের নৈশপ্রহরী আইনুদ্দীনের ভাষ্য, ফজরের নামাজের সময় তিনি হঠাৎ বোমার মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে দরজা খুলে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান। এ সময় তিনি আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ব্যাংকের ওপরের তলায় থাকা কর্মীদের ডেকে তোলেন। পরে শাখা ব্যবস্থাপককে ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

আইনুদ্দীন জানান, ঘটনার সময় তিনি কাউকে পালিয়ে যেতে দেখেননি।

ব্যাংক শাখার প্রবাহ অফিসার রঞ্জন কুমার কুন্ড বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দুটি মোটরসাইকেল ও কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোলের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%