শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১২ পি.এম
ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে রাজ্যটির ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হিমালয়ের উচ্চ অঞ্চলে তীব্র ঠান্ডার কারণে বরফ জমে বিশাল হিমবাহ ও হ্রদ তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এসব হ্রদে পানির পরিমাণ ও চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ধস, ভূমিকম্প বা অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিকিমের অতীত অভিজ্ঞতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তে একই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সিকিম সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ‘শাকো ছা’ হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
হ্রদগুলোর বিপুল পরিমাণ পানি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বড় পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া, সাইফন পদ্ধতি এবং সুরঙ্গ তৈরি করে পানির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : দ্য হিন্দু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্তব্য করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিদ্যুতের নামে শুধুমাত্র প্লান্ট স্থাপন করেছে, কিন্তু বিদ্যুৎ প্লান্টের কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে কোনো পরিকল্পনা নেই, তাহলে ভবিষ্যতে এটি কিভাবে চলবে?’
তিনি শুক্রবার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, যা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বিকালে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শ্যামল চন্দের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা প্রমুখ।
বিমানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি, গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি মেশিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটিও মেরামত করা হয়নি, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। একটি দেশকে নতুন করে গড়তে এবং রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।’
এলাকার মানুষের কৃষি ও খাদ্য সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাস থেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে সারের ডিলার এবং টিসিবির ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িতরা যেন আর কোনো কারসাজি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর এক বৃদ্ধ নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর বাবুপুর গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দম্পতি হলেন—মনোয়ারা বেগম (৬০) এবং তাঁর স্বামী মফিজুল হক (৭৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মফিজুল হক ও মনোয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে তাঁদের মধ্যে চরম কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মফিজুল হক ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ঘরের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে মফিজুল হক নিজেও আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। মফিজুল হকের ছেলের স্ত্রী শাপলা বেগম একটি সামাজিক দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ফ্যানের হুকে মফিজুল হকের ঝুলন্ত লাশ এবং মেঝেতে মনোয়ারা বেগমের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, জোড়া মৃত্যুর এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও জেলার একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী এবং ব্যবসায়ী তোজাম্মেল হোসেন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, তোজাম্মেল হোসেন খান দীর্ঘকাল ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে উত্তরাঞ্চল একজন শক্তিশালী নেতৃত্বকে হারিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তোজাম্মেল হোসেন খানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ তোজাম্মেল হোসেন খান আজ (শুক্রবার) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের চটা, মৃত্যুফাঁদে কালীগঞ্জের হাট ‘চাঁদনী’ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনীর নিত্যদিনের চিত্র হলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা ও কেনাকাটা। ১৯৮৮ সালে নির্মিত কাঁচাবাজারের ভবনটি এক যুগেরও বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এর কার্যক্রম থেমে নেই।ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা, নারী ও শিশুর পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়েই এখানে চলছে বেচাকেনা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে গেছে রড।ভবনটি ধসে পড়া ঠেকাতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছাদের নিচে বাঁশের চটা ও খুঁটি (প্যালা) দিয়ে কোনোমতে ঠেকনা দিয়েছেন। চাল, ডাল, মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের এই ব্যস্ত হাট চাঁদনীতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত ঘটে। ভবনের করুণ দশা না জেনেই অনেক ক্রেতা ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন।এর আগে ২০১০ সালে হাট চাঁদনীর ছাদের একটি অংশ ধসে অজয় কুমার নামে এক চাল ব্যবসায়ী নিহত হন।Q/ওই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে ২০১৩ সালে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ব্যবসায়ীরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী অসিত কুমার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হই, কিন্তু রাতে জীবিত ফিরতে পারব কি না জানি না। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি।বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?’ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশ্বাসও মিলেছে অনেক। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বেড়াজালেই আটকে রয়েছে জনবহুল এই বাজারের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ।কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ইমদাদুল হক বলেন, ‘এটা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমি সরকার বা প্রশাসনের কাছে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’তিনি আরো বলেন, ‘একটি হকার্স মার্কেট বা এ জাতীয় কোনো মার্কেট দেওয়া গেলে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এলাকায় যাতে উন্নয়ন হয়, সে দিকটিও দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এই হাট চাঁদনীতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। নতুন ভবন তৈরির পরিকল্পনা আছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ