ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে শাহরুখকে দেখতে গিয়েছিলেন কীর্তি সুরেশ


পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে শাহরুখকে দেখতে গিয়েছিলেন কীর্তি সুরেশ

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশ। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তার ছোটবেলা থেকেই ছিল। তবে অভিনয়জগতে প্রবেশের আগে মেয়ের পড়াশোনা শেষ করার পক্ষেই ছিলেন তার বাবা, মালয়ালম চলচ্চিত্রের প্রযোজক জি সুরেশ কুমার। তিনি চেয়েছিলেন, অভিনয়ে আসার আগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করুক মেয়ে। কিন্তু স্কুলজীবনে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি কীর্তি। এমনকি প্রিয় তারকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও ফাঁকি দিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ ‘আক্কা’র প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কীর্তি সুরেশ। এ সিরিজের প্রচার উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কুলজীবনের সেই মজার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। শাহরুখ খানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি মনে করে তিনি বেশ নস্টালজিক হয়ে পড়েন।

শাহরুখের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার প্রসঙ্গে কীর্তি প্রথমে অ্যাটলির জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন। পরে তার মনে পড়ে আরও পুরোনো একটি ঘটনা। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে শাহরুখের সিনেমার শুটিং সেটে চলে গিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: শাবানা-শাবনূরের ভক্ত থেকে অভিনেত্রী, জিমের অভিনয় যাত্রা কেমন?

কীর্তি জানান, তার বড় বোন শাহরুখ খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি পরিচালক প্রিয়দর্শনের সহকারী হিসেবেও তিনি প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছেন। সেই সূত্রেই ‘বিল্লু’ সিনেমার শুটিং সেটে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কীর্তির।

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমার দিদি প্রিয়দর্শন স্যারের সহকারী হিসেবে প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছিলেন। সেই সময় ‘বিল্লু’ সিনেমার শুটিং চলছিল। আমি আর আমার এক বন্ধু পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে শাহরুখের সঙ্গে দেখা করতে সেটে চলে গিয়েছিলাম।’

সেই প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি আজও বিশেষভাবে মনে রেখেছেন কীর্তি। এমনকি শাহরুখের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও নিজের কাছে যত্ন করে রেখেছেন তিনি। তবে ছবিতে নিজের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে অভিনেত্রীর।

এ প্রসঙ্গে কীর্তি বলেন, ‘ছবিটা আমার কাছে আছে, কিন্তু সেখানে আমাকে খুব একটা ভালো দেখতে লাগছে না। তাই আবার দেখাতে চাই না। পুরোনো সালোয়ার পরেছিলাম, কপালে ছিল বড় টিপ। তবে সেই দিনগুলো সত্যিই সুন্দর ছিল।’

আরও পড়ুন: ২০০ কোটি রুপি মামলায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হবেন নোরা

স্কুলজীবনের সেই দুষ্টুমিভরা স্মৃতি এখনো যে অভিনেত্রীর কাছে কতটা আনন্দের, তার কথাতেই স্পষ্ট। প্রিয় তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সেই দিনটি তাই বিশেষ হয়ে আছে কীর্তি সুরেশের জীবনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হ্যাটট্রিক হাতছাড়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে হাসানের পাঁচ উইকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


হ্যাটট্রিক হাতছাড়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে হাসানের পাঁচ উইকেট

সিলেটের শুক্রবারের সকালটি ছিল কিছুটা বেশি নিরবতায় ঢাকা। আকাশজুড়ে ঝলমলে রোদ ছিল। মাঠে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের দাপট চলছিল, পুরনো বলে বাংলাদেশের বোলারদের নিষ্ফল চেষ্টা ছিল। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল স্বাগতিকরা।

এর মধ্যে দিনের অষ্টম ওভারে এল আরও এক দুঃসংবাদ। চোটের কারণে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হলো সাদমান ইসলামকে। বিষণ্নতা ও শঙ্কা যখন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে, তখনই নতুন বল হাতে মাঠে আবির্ভাব ঘটে হাসান মাহমুদের। তার আগুনঝরা এক ওভারে মুহূর্তেই বদলে গেল সিলেটের সকালের আবহ। দুই বলে দুই উইকেট, পরের বলে হ্যাটট্রিক হয়ে গেল! এক মুহূর্তের জন্য যেন গোটা মাঠ থমকে গেল। শেষ পর্যন্ত রিভিউয়ের বাধায় হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন পূরণ না হলেও হাসানের বোলিংয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেল বাংলাদেশ।

হ্যাটট্রিক হয়ে গেলে একই সাথে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেটও হয়ে যেত। ওই সময় না হলেও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে আরেকটি ফাইফার উত্তেজনায় মাতেন হাসান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও তুলে নেন ১টি উইকেট। ৩২২ রানে ৮ উইকেট নিয়ে উইন্ডিজ গেছে লাঞ্চে, বাংলাদেশও প্যাভিলিয়নে গিয়েছে স্বস্তি নিয়ে।

দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস পুরনো বলে সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। রান আসছিল অনায়াসে। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তখন উইকেটের দেখা পাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ক্যারিবীয়দের প্রতিরোধ ভাঙার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছিল। এর মধ্যেই মাঠে নেমে এল চোটের ছায়া। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে জাঙ্গুর লেগ গ্লান্স করা শটের পেছনে ছুটেছিলেন সাদমান ইসলাম। ফাইন লেগের সীমানার কাছে বল আটকাতে গিয়ে ডাইভ দেন তিনি। কিন্তু ঘাসে পিছলে গিয়ে আটকে যায় বাঁ পায়ের গোড়ালি। মুহূর্তেই মচকে যায় পা। যন্ত্রণায় কাতর সাদমানকে দেখে ছুটে আসেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম। মাঠেই চলে প্রাথমিক চিকিৎসা। কিন্তু তাতে স্বস্তি ফেরেনি। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচার আনা হয়। সতীর্থদের উৎকণ্ঠার মধ্যে সেটিতে করেই মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি ওপেনার। তখন তার চোখেমুখে যন্ত্রণার ছাপ ছিল, আর বাংলাদেশের শিবিরে দুশ্চিন্তা ছিল। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার এমআরআই করানো হয়।

সাদমান যখন মাঠ ছাড়ছেন, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭৮ ওভারে চার উইকেটে ২৫৯। আমির জাঙ্গু ১২৯, জাস্টিন গ্রিভস ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। মনে হচ্ছিল, দিনের প্রথম ভাগটা নিজেদের করে নিয়েই এগোবে সফরকারীরা।

কিন্তু ক্রিকেটের সৌন্দর্যই তো এখানে—একটি নতুন বল, একটি দুর্দান্ত ডেলিভারি, বদলে দিতে পারে গোটা দিনের গল্প। ৮০ ওভার শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বল হাতে আক্রমণে আসেন তাসকিন আহমেদ। নতুন বলের আসল ঝলক দেখানোর অপেক্ষায় ছিলেন হাসান। দিনের নিজের প্রথম ওভারেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাকে বাংলাদেশের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র মনে করা হয়।

৮১তম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম শিকার আমির জাঙ্গু। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ল্যান্ড করা বলটি মুহূর্তেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। জাঙ্গু ভেবেছিলেন, ছেড়ে দিলে বিপদ কাটবে। কিন্তু বলের গতিপথে ছিল অন্য পরিকল্পনা। সরাসরি আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। উড়ে যায় বেল, থামে ক্যারিবীয় ব্যাটারের দুর্দান্ত ইনিংস। ২১২ বলে ১৩ চার ও দুই ছক্কায় ১৩৩ রান করে ফিরতে হয় তাকে। আগের দিন ৬৮ রানে হাসানের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন জাঙ্গু। এবার আর রক্ষা হয়নি।

যার বলে জীবন পেয়েছিলেন, তার বলেই শেষ হলো ইনিংস। জাঙ্গুর বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের বলেই আরেকটি আঘাত। এবার শিকার ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। লেংথ থেকে বলটি ভেতরে ঢুকছিল। সোজা ব্যাটে রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ব্যাট ও প্যাডের মাঝে ফাঁক তৈরি করে ফেলেন চেজ। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। দুর্দান্ত ক্যাচে দ্বিতীয় শিকার নিশ্চিত করেন লিটন। কোনো রান না করেই ফিরতে হয় চেইসকে। পরপর দুই বলে দুই উইকেট। হাসানের সামনে তখন ইতিহাসের হাতছানি। হ্যাটট্রিকের বল মোকাবিলা করতে এলেন জশুয়া বিশপ। সিলেটের গ্যালারি থেকে প্রেসবক্স—সবখানেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। লেগ স্টাম্পের লাইনে করা হাসানের লেংথ বলটি ব্যাটে খেলতে চেয়েছিলেন বিশপ। কিন্তু বল গিয়ে আঘাত করে তার প্যাডে। জোরাল আবেদনে মুহূর্তেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। হাসানের সতীর্থরা ছুটে আসেন। আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে।

মনে হচ্ছিল, সিলেটের আকাশে আরেকটি স্মরণীয় হ্যাটট্রিকের গল্প লেখা হতে যাচ্ছে। সেই গল্পের শেষ বাক্যটি লিখতে দিল না রিভিউ। বিশপ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আম্পায়ারের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। রিপ্লেতে আলট্রাএজে ধরা পড়ে, বলটি ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে প্যাডে আঘাত করেছে। মুহূর্তেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাস থেমে যায়, বিশপ ফিরে পান জীবন।

হাসানের হাত থেকে ফসকে যায় ব্যক্তিগত ইতিহাসের সুযোগ। তবে তার বোলিংয়ের ঝলক তাতে একটুও ম্লান হয়নি।

সিলেটের সকালের গল্পে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হাসান মাহমুদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’ করে ব্যর্থ হয়ে লাশ টুকরো করেন নরেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


স্ত্রীকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’ করে ব্যর্থ হয়ে লাশ টুকরো করেন নরেশ

ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি লাশকে টুকরো টুকরো করেছিলেন। অভিযুক্ত নরেশ ভাট আদালতে জানান, তার স্ত্রী মমতা কাফলে ভাট আত্মহত্যা করেছেন। বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকা অবস্থায় তিনি তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। নরেশের দাবি, মমতা প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট এবং অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নরেশ ভাটের বিরুদ্ধে ২৮ বছর বয়সি স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা এবং গুম করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ভিডিও কলে শেষবার মমতাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নরেশ প্রথমে তাকে বাঁচানোর জন্য কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা না হওয়ায় তিনি করাত দিয়ে লাশ কাটতে বাধ্য হন।

আদালতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে কেন জরুরি সেবা ‘৯১১’-এ কল করেননি। নরেশের জবাব ছিল, “আমি জানি না কেন কল দিইনি। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম... মাথায় যেন কী ভর করেছিল। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।”

মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার পাঁচ সপ্তাহ পর নরেশের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সামনে এসেছে, যদিও গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মমতার লাশের কোনো সন্ধান মেলেনি। কর্মস্থলে না যাওয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রথম মমতার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

প্রথমে নরেশ পুলিশকে জানান, তার স্ত্রী নিখোঁজ হননি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেই থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ পাওয়া যায় এবং ২২ আগস্ট নরেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাতও।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নরেশ জানান, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে তিনি তাদের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমাতে যান। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন, তা তিনি টের পাননি।

ডব্লিউএসএ-এর বরাতে জানা যায়, নরেশ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মমতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি টেনে বাথরুমে নিয়ে যান।

নরেশ আদালতকে বলেন, স্ত্রী মারা গেছেন বুঝতে পেরে লাশ গুম করে নিজেও আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে পটোকম নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার চিন্তা করলেও পরে ‘হোম ডিপো’ থেকে লাশ গুম করার সরঞ্জাম কিনতে যান।

নিজে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি জানিয়ে নরেশ বলেন, “আমি ক্যাবল তারসহ সব গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজের প্রাণ নিইনি।”

কেন থামলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নরেশ বলেন, “মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি একদম শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম... আর পেরে উঠিনি।”

নরেশের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাথরুমেই করাত দিয়ে লাশ কাটার চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে লাশের অংশগুলো একাধিক প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন, যাতে কেউ তার সন্ধান না পায়।

আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কেলের টাকার পরিবর্তে আইনজীবী হিসেবেই আদালতে দাঁড়াতে হবে: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


মক্কেলের টাকার পরিবর্তে আইনজীবী হিসেবেই আদালতে দাঁড়াতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মক্কেলের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে আইনজীবী হিসেবে আদালতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, ন্যাশনাল রাউন্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর সমাপনী ও প্রাইজ গিভিং অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।

আইনমন্ত্রী মন্তব্য করেন, "ওকালতিতে শর্টকাটে টাকা ইনকামের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না। ভালো আইনজীবী হতে হলে পরিশ্রমী ও সৎ হতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আদালতে দাঁড়ালে কেবল মক্কেলের ফি বা অর্থের কথা বিবেচনা করলে চলবে না, বরং প্রকৃত আইনজীবী হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের মানসিকতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে।"

পেশাগত জায়গায় মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, "পেশাগত জায়গায় থেকে মক্কেলের টাকার বিনিময়ে সব সময় কাজ করা যায় না। প্রয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ফ্রি মামলা পরিচালনা এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সেবা দিতে হবে।"

তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আগামীর জেনারেশন বা জেনজিরা সঠিক পথ দেখিয়ে দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের গড়া সেই পথ হবে মসৃণ ও প্রগতিশীল।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার পতন ও সাংবাদিক রাজুকে সমর্থন জানালেন রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


শেখ হাসিনার পতন ও সাংবাদিক রাজুকে সমর্থন জানালেন রাশেদ খান

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা পরীমনির গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিক রাজুর অবদানের কথা উল্লেখ করে জানান যে, তিনি তার পাশে রয়েছেন, বিশেষ করে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পেছনে রাজুর ভূমিকা রয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাশেদ খাঁন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এসব বিষয় তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনার ৯০ পার্সেন্ট পতন হয়ে গেছে, ১০ পার্সেন্ট ধাক্কা দাও।’ এ সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। আদালতে নুরুল হক নুরকে তোলার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে দুই সাংবাদিক ছাড়া বাকিরা বারান্দায় অবস্থান নিয়েছিলেন।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, যখন পুলিশ নুরুল হক নুরকে লিফটে তুলছিল, তখন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু নুরুল হক নুরকে প্রশ্ন করেন—‘নুর ভাই আন্দোলন তো বন্ধ হয়ে গেছে, আপনার কোনো বার্তা আছে?’ নুরুল হক নুর তখন বলেন—‘শেখ হাসিনার ৯০% পতন হয়ে গেছে, ১০% ধাক্কা দাও.....’। ভিডিওটি সমকালের পেজে আপলোড হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সব গণমাধ্যম এটি প্রচার করে। জাতি নতুন শক্তি ও সাহস পায়। আজকের দিনে হয়তো কিছু মানুষের কাছে এই বক্তব্যের গুরুত্ব নেই, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সময় এটি ছিল সবচেয়ে সাহসী ও ক্ষুরধার বক্তব্য।

অনেকে এই বক্তব্য শুনেছেন, কিন্তু পেছনের গল্পটি জানেন না। সেই পেছনের গল্পের নায়ক হলেন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু। তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও ভালো ছেলে। তাকে কখনো রাগতে দেখা যায়নি। সবসময় পরিপাটি থাকেন। পোশাক আশাকের পাশাপাশি, তার আচরণ, কথাবার্তা, ব্যবহারও পরিপাটি ও মৃদু।

রাজুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও লিখেছেন, ছেলেটির এক হাতে জন্মগতভাবে ত্রুটি রয়েছে। এটি কখনো তার জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং স্বাভাবিক অনেকের চেয়ে তার ক্যামেরা ধরার স্টাইল ও ভিডিও এডিটিং সুন্দর। তিনি রাজুর সাংবাদিকতা জীবনের সফলতা কামনা করেন। তাকে যেভাবে ব্লেম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে, সেই ঘটনাটির তিনি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানান। রাশেদ খাঁন বলেন, "আমরা রাজুর সঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%