ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চুয়েটের নতুন ভিসি প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ, আন্দোলনের মধ্যে তালা ভাঙা


চুয়েটের নতুন ভিসি প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ, আন্দোলনের মধ্যে তালা ভাঙা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভেতরে প্রবেশ করেছেন। সোমবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শাটডাউন ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে নতুন ভিসির এভাবে ভবনে প্রবেশের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করার পর কয়েকজন তাকে ভিসির চেয়ারে বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নতুন উপাচার্যের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় থাকার কথা ছিল, ফলে ওই দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাহারা ছিল না। তারা ধারণা করছেন, এই সুযোগ নিয়ে তিনি গোপনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন।

এদিকে নতুন ভিসির প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা আন্দোলন চলমান রয়েছে, যার ফলে গত প্রায় ২০ দিন ধরে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সেশনজটের আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করলেও আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের কারণে তিনি এতদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ বছরে শেষ হয়নি ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার ব্রিজ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


৮ বছরে শেষ হয়নি ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার ব্রিজ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই

পিরোজপুরের কাউখালীতে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার ব্রিজ আট বছরেও সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত হলেও ব্রিজটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনও এটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামোটি যোগাযোগের সুবিধার পরিবর্তে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ফলইবুনিয়া গ্রামের পাঙ্গাসিয়া-জোলাগাতি সড়কের লক্ষণ মিস্ত্রির বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজটির এমন অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ পড়ে থাকলেও তা সমাপ্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের পারাপারে দুর্ভোগ অনেক গুণ বেড়ে যায়।

এলজিইডি সূত্র এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বহু বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের মূল কাঠামো তৈরির পর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করায় এটি মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে ব্রিজে ওঠার জন্য সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সাঁকো। প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে শাপলেজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়তুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শাপলেজা, জোলাগাতি ও পশ্চিম ফলইবুনিয়া গ্রামের শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাসহ পিরোজপুরগামী হাজারো মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রুবেল বলেন, "ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান ঘটবে।"

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, "আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ লাখ টাকার কাজ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো অর্থ বা বিল হাতে পাইনি। এলজিইডি অফিসে বিলসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। বিল পেলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেব।"

এলজিইডির কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "ব্রিজটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদার বিল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে ব্রিজটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।"

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও সরকারি অর্থে নির্মিত ব্রিজটি বছরের পর বছর ফেলে রাখায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। তাদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিণঘাটা থেকে শুভসন্ধ্যা: পরিকল্পিত উদ্যোগে বরগুনা হতে পারে পর্যটনের অর্থনৈতিক রাজধানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


হরিণঘাটা থেকে শুভসন্ধ্যা: পরিকল্পিত উদ্যোগে বরগুনা হতে পারে পর্যটনের অর্থনৈতিক রাজধানী

বরগুনা জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত, নদ-নদী, ম্যানগ্রোভ বন, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, জেলেদের জীবনসংগ্রাম এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যের জন্য পর্যটনশিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা ধারণ করে। জেলার দক্ষিণে অবস্থিত হরিণঘাটা বনাঞ্চল, শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন, ফাতরার বন, পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর নদীর মোহনা এবং পাথরঘাটা ও তালতলীর উপকূলীয় জনপদ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে এই সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বরগুনা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র এবং উপকূলীয় অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

হরিণঘাটা বনাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে বন, নদী ও সাগরের মিলন, সবুজের সমারোহ এবং বন্য প্রাণীর বিচরণ এই অঞ্চলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। জোয়ার-ভাটার বৈচিত্র্য, বিস্তৃত উপকূল, সূর্যাস্তের দৃশ্য এবং নিরিবিলি পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম। এর সঙ্গে স্থানীয় জেলেপল্লি, মাছের আড়ত, সামুদ্রিক খাদ্য, নৌভ্রমণ এবং উপকূলীয় লোকজ সংস্কৃতিকে যুক্ত করা সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে এসব আকর্ষণকে একটি পর্যটনপথে যুক্ত করা গেলে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি পাবে।

বরগুনার পরিবেশবিদ সাংবাদিক আরিফুর রহমান মন্তব্য করেন, "পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে বরগুনার সবচেয়ে বড় সম্পদ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।" তিনি বলেন, হরিণঘাটা, টেংরাগিরি ও শুভসন্ধ্যার মতো স্থানগুলোকে ঘিরে পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে উন্নয়নের নামে বন, নদী, সৈকত ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হলে পর্যটনের মূল আকর্ষণ নষ্ট হবে। তাঁর মতে, পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ জানান, বরগুনার পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, "পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত খাবার, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত আবাসন এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।" পাশাপাশি পর্যটন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর দেশব্যাপী প্রচার প্রয়োজন। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে পর্যটনকে কেন্দ্র করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নৌযান, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, "পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন শুধু দর্শনীয় স্থান নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, এর সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, কর্মসংস্থানে এলাকার মানুষকে অগ্রাধিকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুযোগ সৃষ্টি এবং জনসাধারণের চলাচলের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। তাঁর মতে, পর্যটন উন্নয়নের নামে যেন সাধারণ মানুষের জমি, জীবিকা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। স্বচ্ছ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা থাকলে পর্যটন বরগুনার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রথমেই প্রয়োজন হরিণঘাটা, শুভসন্ধ্যা, টেংরাগিরি ও অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানকে যুক্ত করে সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা। পাশাপাশি সড়ক ও নৌযোগাযোগ উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপদ নৌযান, প্রশিক্ষিত গাইড, জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকদের জন্য অনলাইন তথ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য বুকিংব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আকৃষ্ট করা সহজ হবে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় খাবার, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ, মধু, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যটন গাইড, উদ্যোক্তা, পরিবহনকর্মী ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রাজধানীসহ বড় শহরমুখী মানুষের চাপও কিছুটা কমবে।

তবে বরগুনার পর্যটন উন্নয়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, উপকূলীয় ভাঙন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি। তাই পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণে দুর্যোগসহনশীল নকশা, পরিবেশগত সমীক্ষা এবং বন ও সৈকতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

বরগুনার পর্যটন সম্ভাবনা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ নয়, এটি নতুন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হরিণঘাটা থেকে শুভসন্ধ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। আর সেই পথ ধরেই বরগুনা অর্জন করতে পারে উপকূলীয় পর্যটন ও অর্থনীতির নতুন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হালুয়াঘাটে বিজিবির ওপর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


হালুয়াঘাটে বিজিবির ওপর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান শেষে ফেরার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর টহলদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে একজন বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি গুলি চালানোর সময় নোমান আলী (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার তেলিখালী সীমান্তের জলজলিয়া এলাকায় ঘটে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলিখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জলজলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহলদল। এ সময় চোরাচালানের পণ্য আটক করার পর ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা টহলদলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় প্রথমে চোরাকারবারিদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা পুনরায় হামলা চালালে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক গুলি চালান, যার ফলে একজন চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নোমান আলী বেতকুড়ি এলাকার মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের মতে, নিহত নোমান আলী স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) আরও জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে তরুণদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তি, আতঙ্ক ছড়িয়েছে পা-আনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


মিয়ানমারে তরুণদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তি, আতঙ্ক ছড়িয়েছে পা-আনে

সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে যায় মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যের রাজধানী ‘পা-আনে’। দিনের আলো ফুরানোর পূর্বেই এখানকার তরুণ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিরা ঘরে ফিরে যান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি স্থানীয়দের জন্য একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের মতে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সমর্থক এবং সাদা পোশাক পরিহিত সদস্যরা পা-আনের রাস্তায় বিচরণ করছে। তারা কিশোর থেকে শুরু করে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা তরুণদের নির্বিচারে আটক করে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করছে।

বিবিসি বার্জিমের ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নির্ধারিত কোটা কঠোরভাবে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য জান্তা সরকার তাদের বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে।

২৬ বছর বয়সী ‘টুক-টুক’ চালক জাও মিন জানান, ‘ভয়ভীতির মধ্যেই কাজে বের হতে হয় আমাকে। পরিবারের সদস্যরা সব সময় ফোন করে সতর্ক করে দেন যেন যাত্রী নিয়ে খুব দূরে না যাই এবং যাত্রী তোলার সময় সতর্ক থাকি। সব সময়ই খুব সতর্ক থাকতে হয় আমাকে।’

জাও মিন আরও জানান, তার ভাইবোনদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সেনাবাহিনীতে নিয়োগের উপযুক্ত বয়সের মধ্যে পড়েন। তার বয়সি অনেক তরুণ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, এমনকি কেউ দূরদূরান্তে থাকা আত্মীয়দের বাড়িতে গেছেন। যারা এখনো এলাকায় আছেন, তাদের বাবা-মায়ের কড়া নির্দেশ থাকে যাতে তারা সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে আসেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে। তিন বছর পর একের পর এক অপমানজনক পরাজয়, মনোবল ভেঙে পড়া এবং দলে দলে সেনা সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে জান্তা সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন কার্যকর করে। এই আইনের অধীনে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সি নারীদের সেনাবাহিনীর অধীনে অন্তত দুবছর সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা এতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এমডিএসআই) সামরিকবিষয়ক কর্মকর্তা এবং জান্তা ছেড়ে আসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নাউং ইয়ে বলেন, বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন কার্যকর করা সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেসামরিক জনগণের ওপর নেওয়া সবচেয়ে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর একটি।

এই ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের সর্বশেষ শিকার ‘পা-আন’ শহর। এ অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখ তরুণকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জন্য আটক করা হয়েছে। গত আড়াই বছরে জোরজবরদস্তি ও অপহরণের মাধ্যমে এদের আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%