ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১১:৪৭ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে কুমিল্লার এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বুধবার (৩ জুন) সকালে নয়াদিল্লির হাউজ রানি ও মালভিয়া নগর এলাকায় পাঁচতলা 'বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট' হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মৃত যুবকের নাম মো. নূরুল আমিন সোহাগ (৪০)। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। পেশাগত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই হোটেলের ভয়াবহ আগুনে সোহাগসহ বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মৃত্যু বরণ করেন।
একই ঘটনায় সোহাগের ছোট বোন ও ভগ্নিপতি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে বর্তমানে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থান এখনো আশঙ্কাজনক রয়েছে।
দিল্লির হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায়: বাথরুমে মিলল আলিঙ্গনাবদ্ধ দম্পতির লাশ।
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই অগ্নিকাণ্ডে আটজন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার নুরুল আমিনের মৃত্যু ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোহাগের এমন অকাল মৃত্যুর কারণে তাঁর নিজ গ্রাম মধ্যম সাঙ্গীশ্বর ও ধোড়করা বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ সর্বত্র উক্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট, নাজিরশাইলসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এ অবস্থার চিত্র দেখা গেছে।
দেশের মধ্যে যখন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন চালের দামে নতুন করে চাপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা। নাজিরশাইল চালের দাম বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, যা আগের দামে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।
মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন যে, এলসি বন্ধ থাকায় ভারতীয় চালের আমদানি কমে গেছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে।
চাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন যে, ভারতীয় চাল আসা কমে গেছে এবং এলসির পরিস্থিতি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এই কারণেই দাম বাড়ছে।
ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, "এক মাস আগে যে চাল কিনেছি, এখন একই চালের জন্য বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। আমাদের আয় তো বাড়েনি। বাজারে কোনো জিনিসের দাম কমলেই মনে হয় একটু স্বস্তি পাব, কিন্তু চালের দাম বাড়লে সব হিসাব আবার এলোমেলো হয়ে যায়।"
চালের বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।
মুরগি বিক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, "খামার থেকে সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য বেশি আসায় দাম কমেছে। আমরা এখন আগের তুলনায় কম দামে বিক্রি করছি।"
ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন যে, "সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারেও এখন তেমন চাপ নেই।"
অন্যদিকে সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বেশিরভাগ সবজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা আবদুল হালিম বলেন, "সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, ডিম-মুরগির দামও কমেছে। কিন্তু চালের দাম বেড়ে সেই স্বস্তি নষ্ট করে দিয়েছে। কারণ চাল তো প্রতিদিনই ব্যবহার হয়। কয়েক টাকা করে বাড়লেও মাস শেষে খরচ অনেক বেড়ে যায়।"
আরেক ক্রেতা মো. রুবেল বলেন, "চাল এমন একটা পণ্য, যেটা ছাড়া কোনো পরিবার চলতে পারে না। ডিম-মুরগির দাম কমেছে, সেটা ভালো খবর। কিন্তু চালের দাম বাড়ায় সেই সুবিধাটা আমরা পাচ্ছি না। সরকারের উচিত চালের বাজারের দিকে এখনই নজর দেয়া।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় উপেক্ষা করে পুনরায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার ফলে অন্তত তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে, এবং বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোপালপুরের নলীন বাজার, গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে একজন নিহত হয়। এছাড়াও ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১২টার পর স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
তবে শুক্রবার সকালে এই ১৪৪ ধারা অমান্য করে অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় দাঙ্গাকারীরা। এই কারণে বর্তমানে দুই উপজেলাতেই চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই নতুন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল প্রথম দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামের বাসিন্দারা, যখন অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
উভয় পক্ষের দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা কালাম তালুকদারকে মৃত্যুবরণ ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্য ব্যক্তিদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘যদিও প্রথমে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল, তবে এখন তা আশপাশের একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আজও সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’
তিনি সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ব্রাজিলকে নিয়ে এসেছে একটি অদ্ভুত কিন্তু আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী।
এবার ফুটবল বিশ্লেষক বা সাবেক তারকা নয়, বরং রিও ডি জেনেইরোর একটি অ্যাকুয়ারিয়ামের হাঙর দিয়েছে এই ইঙ্গিত।
রিওর বিখ্যাত ‘অ্যাকুয়ারিও’তে অবস্থিত স্ত্রী হাঙর রিতিনহা ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে জয় দেখিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে মরক্কো।
বুধবার (৩ জুন) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রিতিনহার সামনে দুটি ক্যান রাখা হয়। একটিতে লেখা ছিল ‘ব্রাজিল’ অন্যটিতে লেখা ছিল ‘মরক্কো’। উপস্থিত দর্শকদের সামনে হাঙরটি বেছে নেয় ব্রাজিল লেখা ক্যানটি। এই দৃশ্যে মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের ঢেউ তৈরি হয়।
যদিও এমন ভবিষ্যদ্বাণীকে কেউই বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণ করেন না, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রাণীদের মাধ্যমে ফল অনুমানের ঘটনা ফুটবল বিশ্বের জন্য নতুন নয়। বিশ্বকাপ ও ইউরোর মতো আসরে এসব আয়োজন সাধারণত সমর্থকদের বিনোদনের অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে নামছে। পাঁচবারের বিশ্বজয়ী দল হওয়ায় তাদের নিয়ে প্রত্যাশা সব সময় বেশি থাকে। অন্যদিকে, মরক্কো সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
দুই দলের প্রথম ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যে তুঙ্গে। এর মধ্যেই রিওর হাঙরের এই ‘পছন্দ’ ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এনে দিয়েছে বাড়তি আনন্দ ও আশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ