১১:৫৩ এম
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় উপেক্ষা করে পুনরায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার ফলে অন্তত তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে, এবং বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোপালপুরের নলীন বাজার, গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে একজন নিহত হয়। এছাড়াও ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১২টার পর স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
আরও পড়ুন: বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন
তবে শুক্রবার সকালে এই ১৪৪ ধারা অমান্য করে অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় দাঙ্গাকারীরা। এই কারণে বর্তমানে দুই উপজেলাতেই চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই নতুন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল প্রথম দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামের বাসিন্দারা, যখন অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
উভয় পক্ষের দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা কালাম তালুকদারকে মৃত্যুবরণ ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্য ব্যক্তিদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘যদিও প্রথমে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল, তবে এখন তা আশপাশের একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আজও সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’
আরও পড়ুন: তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান
তিনি সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন