বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ এম
মোটরস্পোর্টের ইতিহাসে একটি রূপকথার অধ্যায় রচনা করে ফর্মুলা ওয়ান (এফওেয়ান) ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইতালির আন্দ্রেয়া কিমি আন্তোনেল্লি। গতকাল রবিবার মেক্সিকো সিটি গ্র্যান্ড প্রিক্সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে মাত্র ২০ বছর ৬৮ দিন বয়সে মার্সিডিজের এই চালক অবিশ্বাস্য কীর্তিটি গড়ে তুলেন।
এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালে সেবাস্টিয়ান ভেটেলের দ্বারা গড়া ২৩ বছর ১৩৪ দিনের পূর্ববর্তী রেকর্ডটি ভেঙে দেন। মৌসুমের বাকি চারটি রেস থাকতেই আন্তোনেল্লির এই শিরোপা জয় বিশ্বজুড়ে ইতালীয় মোটরস্পোর্ট ভক্তদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে এসেছে।
১৯৫৩ সালে ফেরারির হয়ে কিংবদন্তি আলবার্তো আসকারির শিরোপা জয়ের পর, দীর্ঘ ৭৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তোনেল্লি হলেন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় এবং আধুনিক যুগের প্রথম ইতালীয় এফওয়ান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। লুইস হ্যামিলটন মার্সিডিজ ছাড়ার পর শূন্য হওয়া আসনে যোগ দিয়ে, আন্তোনেল্লি নিজের দ্বিতীয় মৌসুমে ৯টি রেস জয় এবং ১৬টি পোডিয়ামের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক রাজত্ব কায়েম করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে। দেশের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবনে সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। প্রত্যেকেই চায় একটি সুন্দর পরিবার, শান্তিময় আবাসস্থল, ভালো প্রতিবেশী এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন। তবে অনেকের ধারণা, প্রচুর অর্থ-সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা উচ্চ পদমর্যাদা অর্জন করলেই জীবনে প্রকৃত সুখ আসবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসবের সবকিছু থাকার পরও অনেকের জীবন অশান্তিতে ভরে থাকে। আবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও কেউ কেউ পরম প্রশান্তিতে জীবন কাটান।
মানুষের জীবনে প্রকৃত সুখ ও দুর্ভাগ্যের কিছু বাস্তব কারণ তুলে ধরেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি একটি হাদিসে পুরুষের সৌভাগ্যের চারটি উপাদান এবং দুর্ভাগ্যের চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
أَرْبَعٌ مِنَ السَّعَادَةِ: الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ، وَالْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ، وَالْجَارُ الصَّالحُ، وَالْمَرْكَبُ الْهَنِيءُ، وَأَرْبَعٌ مِنَ الشَّقَاوَةِ: الْجَارُ السُّوءُ، وَالْمَرْأَةُ السُّوءُ، وَالْمَسْكَنُ الضَّيِّقُ، وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ
অর্থ : ‘চারটি বিষয় সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত—সৎ স্ত্রী, প্রশস্ত আবাসস্থল, সৎ প্রতিবেশী এবং আরামদায়ক বাহন। আর চারটি বিষয় দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত—অসৎ প্রতিবেশী, অসৎ স্ত্রী, সংকীর্ণ আবাসস্থল এবং খারাপ বাহন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৪০৩২; শুআবুল ঈমান, বায়হাকি, হাদিস: ৯৫৫৬)
শিক্ষা ও বিধান
১. সৎ জীবনসঙ্গী : সুখী দাম্পত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ
মানুষের জীবনে সুখ-শান্তির অন্যতম বড় উৎস হলো একজন উত্তম জীবনসঙ্গী। যে স্ত্রী স্বামীর প্রতি আন্তরিক, দ্বিনদার, বিশ্বস্ত, দায়িত্বশীল এবং সংসারের প্রতি যত্নশীল, তিনি স্বামীর জীবনে প্রশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠেন। তাঁর ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সুন্দর আচরণে সংসার হয়ে ওঠে শান্তিময়। বিপদের সময় তিনি সাহস জোগান, দুঃসময়ে পাশে থাকেন এবং স্বামীকে আল্লাহর আনুগত্যের পথে সহযোগিতা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً
অর্থ : ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)।
একজন সৎ স্ত্রী শুধু সংসারের দায়িত্ব পালন করেন না; বরং তিনি স্বামীর দ্বিন ও আখিরাতের কল্যাণেও সহযোগিতা করেন। তাঁর উপস্থিতি স্বামীর জন্য মানসিক প্রশান্তি ও আল্লাহর আনুগত্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো ভোগের সামগ্রী। আর দুনিয়ার সর্বোত্তম ভোগের সামগ্রী হলো নেককার স্ত্রী।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৭)।
২. প্রশস্ত ও শান্তিময় আবাসস্থল : প্রশান্তির নিরাপদ ঠিকানা
মানুষের জীবনে বাসস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে মানুষ ফিরে যেতে চায় এমন একটি জায়গায়, যেখানে থাকবে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও প্রশান্তি। একটি প্রশস্ত, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসের উপযোগী ঘর মানুষের জীবনকে অনেকটাই সহজ করে দেয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, ইবাদত করতে পারেন এবং সুন্দরভাবে সময় কাটাতে পারেন।
হাদিসে প্রশস্ত বাড়িকে সৌভাগ্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, শুধু বড় বাড়ি হলেই মানুষ সুখী হবে; বরং এমন আবাসস্থল সৌভাগ্যের কারণ, যেখানে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জায়গা, নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ سَكَنًا
অর্থ : ‘আর আল্লাহ তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য শান্তি ও আবাসস্থল বানিয়েছেন।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮০)।
অতএব, ঘর শুধু ইট-পাথরের তৈরি কোনো স্থাপনা নয়; বরং এটি মানুষের প্রশান্তি, ভালোবাসা ও নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল। যে ঘরে দ্বিনি পরিবেশ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা রয়েছে, ছোট হলেও সেই ঘর অনেক বড় নিয়ামত।
৩. সৎ প্রতিবেশী : সামাজিক জীবনের অমূল্য নিয়ামত
মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের বাইরে প্রতিবেশীর সঙ্গেই মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনের সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক তৈরি হয়। একজন ভালো প্রতিবেশী বিপদে পাশে দাঁড়ান, অসুস্থতায় খোঁজখবর নেন, সুখে-দুঃখে সহযোগিতা করেন এবং নিজের আচরণে অন্যের জন্য নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে অসৎ প্রতিবেশী মানুষের জীবনে অশান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর ঝগড়াটে আচরণ, অন্যের অধিকার নষ্ট করা, পরচর্চা কিংবা অহেতুক বিরক্তি পুরো পরিবারকে মানসিক অশান্তিতে ফেলতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ
অর্থ : ‘নিকট প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ
অর্থ : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)।
সুতরাং একজন ভালো প্রতিবেশী পাওয়া যেমন সৌভাগ্যের বিষয়, তেমনি নিজেও একজন ভালো প্রতিবেশী হওয়া প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা, তার বিপদে সহযোগিতা করা এবং নিজের দ্বারা তাকে কোনো ধরনের কষ্ট না দেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
৪. আরামদায়ক বাহন : জীবনযাত্রাকে সহজ করার নিয়ামত
যাতায়াতের সুবিধা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়। কর্মস্থলে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, পরিবারের প্রয়োজন মেটানো কিংবা জরুরি সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপযুক্ত বাহনের গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় বাহনকে সৌভাগ্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাচীন আরব সমাজে বাহন বলতে মূলত উট, ঘোড়া কিংবা অন্যান্য সওয়ারিকে বোঝানো হতো। বর্তমান সময়ে এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ প্রয়োজনীয় যাতায়াতের মাধ্যমও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এখানে বাহনের দাম বা বিলাসিতা মুখ্য নয়; বরং তা যেন মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয় এবং অযথা ভোগান্তির কারণ না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَىٰ بَلَدٍ لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلَّا بِشِقِّ الْأَنْفُسِ
অর্থ : ‘তোমরা এমন সব বোঝা বহন করো, যা তোমরা প্রাণান্তকর কষ্ট ছাড়া অন্য কোথাও পৌঁছাতে সক্ষম হতে না।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৭)
এ আয়াত আল্লাহর দেওয়া বাহন ও পরিবহন-সুবিধার নিয়ামতের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও উপযোগী বাহন পাওয়া আল্লাহর একটি নিয়ামত। এর জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুখী, সুন্দর ও প্রশান্তিময় জীবন দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। কুতুবপুর বাজার, চান্দেরচর ও কলাতলা-নিলখী সেতুর কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার ব্যাপারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতুগুলোর নির্মাণের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কোথাও নদীর মধ্যে শুধু পিলার দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় জমির মালিকেরা নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি। মূলত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাবই এই সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।
শিবচরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর একটি কুতুবপুর সেতু। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্থানীয়দের বিকল্প ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে চান্দেরচর এলাকায় প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতুর কাজ ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হয়। ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এর অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশ। জমির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা চলমান থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। উমেদপুর, ভদ্রাসন, কুতুবপুর ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যোগাযোগের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ভ্যানচালক কামাল হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে বিকল্প রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। জমির মালিক আলমগীর মৃধা বলেন, ‘আমরা চাই সেতু হোক, কিন্তু তার আগে আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেওয়া হোক।’
একইভাবে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মাণাধীন কলাতলা-নিলখী সেতুটিও ভূমি জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমিসংক্রান্ত বিরোধে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। এর অগ্রগতি মাত্র ৩৫ শতাংশ। সেতুটি নির্মিত হলে শিবচর ও রাজৈর উপজেলার মধ্যে দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসত।
ভুক্তভোগী আফজাল শিকদার জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে কৃষিজীবী মানুষ তাদের জমির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলজিইডি জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ও কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই নির্মাণকাজ শুরু করায় জমির শ্রেণি, মূল্য নির্ধারণ ও মালিকানাসংক্রান্ত এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমন মোল্লা বলেন, ‘ভূমি জটিলতার কারণে তিনটি সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘জমির প্রকৃতি ও নদীর সীমানা নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়াগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গতিতে কাজ চালানো কঠিন।’
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনায় তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও প্রকল্পের অগ্রগতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট টেস্টে বাদ পড়ার আশঙ্কা ছিল তাইজুল ইসলামের, যিনি অফফর্মে রয়েছেন। তবে, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ এই স্পিনারকে নিয়েই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে তাসকিন আহমেদও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বিস্তারিত আসছে....
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ