শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করেছেন যে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। তিনি জানিয়েছেন, সরকার মূল্যস্ফীতি যাতে না বাড়ে এবং পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য কাজ করছে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করে, ফলে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে, এমনটি জানিয়েছেন তিনি। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। এজন্য যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।”
তিনি জানান, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য অভিঘাত কমাতে এসব অসংগতি দূর করার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এক খাত থেকে অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার চায়, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হোক।
এছাড়া পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকটও কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল, বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি। চিনি ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন আমদানি করা পণ্যের কারখানাগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে চলছে। ফলে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
চা বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ
রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।
চা বাগানের আয় বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা বাগানকে লাভজনক করার বিষয়ে কয়েক দিন আগেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বৈঠক হয়েছে।
চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্য কোনো গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন মন্ত্রী।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যেসব বাগানে স্কুল নেই, সেখানে প্রাথমিক ও প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করে ৩২ হাজার শলাকা বিদেশি সিগারেটসহ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় সিগারেট পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর হোসেন কমলগঞ্জ থানার শিংরাউলী, ঈদগাঁ টিলা এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানার একটি বিশেষ অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি প্রাইভেটকারে বিদেশি সিগারেট নারায়ণছড়া এলাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ শ্রীমঙ্গল থানাধীন ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের নারায়ণছড়া এলাকায় মাইজদিহি চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইটসলিং রাস্তার ওপর অবস্থান নেয়। পরে সেখানে একটি প্রাইভেটকার আসলে পুলিশ সিগন্যাল দিয়ে গাড়িটি থামায়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করার সময় জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করা হয়।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটি তল্লাশি করে পেছনের যাত্রী বসার সিট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৮ কার্টুন ঙজওঝ ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৮ কার্টুনে মোট ৩২ হাজার শলাকা সিগারেট পাওয়া যায়। এছাড়া সিগারেট পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৭৭৭৭ নম্বরের একটি পুরাতন হালকা সবুজ রঙের প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে এসব সিগারেট বাংলাদেশে আনার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাসের পর এবার লঞ্চ ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যার মাধ্যমে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন ভাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন যাত্রীর জন্য লঞ্চ ভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা এবং বেশি দূরত্বে ১৯ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, আগের তুলনায় কম দূরত্বের লঞ্চ ভাড়া ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।
১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চ ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ২২ পয়সা বেড়ে ৩ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭১ পয়সা করা হয়েছে।
জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে যে, এই ভাড়ার হার সকল নদী বন্দরের টার্মিনাল এবং নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক, আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।’
আজ নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধুমাত্র অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে।
সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া, মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ।’
বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির পথেও এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
একই সঙ্গে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বৈশ্বিক নিঃসরণ আরও দ্রুত, ব্যাপক ও ন্যায়সংগতভাবে কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে।’
‘দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
‘তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।’
‘চতুর্থত, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবে, ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেবে এবং কোনো দেশকে যেন একা ‘রাইজিং টাইড’- এর মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে।’
বৈঠক আয়োজন এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়নে সহায়তা ও প্রচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খালিশা বেলপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো.
জুয়েল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো.
শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন খালিশা বেলপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো.
আমিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এই সময় শিক্ষার্থীদের কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা, পাঠদান পদ্ধতি, নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, নবাগত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ