বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
কুমিল্লা জেলার পুলিশ, একযোগে ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের ফলে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানার আওতাধীন এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। কিশোর গ্যাং এবং উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধ করার লক্ষ্যে বখাটেদের আড্ডাস্থল, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সন্দেহজনক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উঠতি বয়সী কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের নির্দেশে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। নগরীর বিভিন্ন স্থান ছাড়াও জেলার প্রতিটি থানার আওতাধীন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পূর্বের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না দেওয়ার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ঐতিহ্য ভেঙে এক অনন্য কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে স্বাগত জানাতে তিনি সরাসরি সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে গেছেন, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন ডিসিতে আসেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চীনা প্রেসিডেন্টের বিমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এ অবতরণ করে। বিমান থেকে শি নামার পরপরই, বিমানের সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রায় ১৩ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
সাধারণত, ওয়াশিংটনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এলে তাদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর নিয়মই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য প্রচলিত। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের প্রবেশদ্বারে এবং চলতি বছরের এপ্রিলে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসকে সাউথ পোর্টিকোতে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বিমানবন্দরে গিয়ে বিদেশি কোনো নেতাকে স্বাগত জানানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বিরল দৃশ্য।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬২ সালে ওয়াশিংটনের বিমানবন্দরে গিয়ে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স উফুয়ে-বোয়িনির মতো কয়েকজন নেতাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে পোপদের সফর ছাড়া এই রীতি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টকে এবং ২০১৫ সালে বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে এই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজেই স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের এই বিশেষ পদক্ষেপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অ্যাক্সিওসকে জানান, ‘চলতি বছরের গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চীনে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক আতিথেয়তা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে সেই আতিথেয়তারই প্রতিদান দিচ্ছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের সমৃদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হয়, এমন যেকোনো ভালো চুক্তির জন্য প্রেসিডেন্ট যেকোনো বিশ্বনেতার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : টার্কিশ এয়ারলাইনস, যা তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৫০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই উড়োজাহাজগুলো ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টার্কিশ এয়ারলাইনস জানায়, তারা বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৫০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ১০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ক্রয় আদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, আরও ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা রাখা হয়েছে।
এ খবরটি আঙ্কারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই ঘোষণা দেন। এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, এটি ‘বোয়িং ও আমেরিকার উৎপাদন খাতের জন্য বড় দিন’। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিক্রি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
প্রায় এক বছর আগে টার্কিশ এয়ারলাইনস জানিয়েছিল, তারা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ২২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে। হোয়াইট হাউসে এরদোগান ও ট্রাম্পের বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
টার্কিশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবস্থিত। সংস্থাটির বহরে বর্তমানে ৫১৪টি উড়োজাহাজ রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা ১৩০টিরও বেশি দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ২০২৫ সালে, সংস্থাটি ৯ কোটি ২৬ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, "কারোর আশকারায় ফুটপাত দখল করা যাবে না।" ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এর পাশাপাশি, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কালীগঞ্জ নতুন বাজার স্টেডিয়াম এলাকায় মার্কেটের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করার পর তিনি এ কথা বলেন।
সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ফুটপাত দখল ও শহরের বিভিন্ন অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে রাশেদ খান এ ধরনের অব্যবস্থাপনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে পৌর মার্কেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হাসান এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে মধুগঞ্জ বাজার ও জনতার মোড় পর্যন্ত প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে। ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে পৌর মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কেটটি চালু হলে ফুটপাতের ওপর ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা কমবে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ আশা করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দীর্ঘদিনের যানজট ও পথচারীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে ওপেনএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই ঘটনা গত জুনে ঘটেছিল, অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি জানানো হয় প্রায় তিন মাস পর। বুধবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ তথ্য জানান, যা বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবানিজ বলেন, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি পরিসংখ্যানবিষয়ক একটি পোর্টালে প্রবেশ করেছিল। ওই পোর্টালে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ার-সংক্রান্ত অসংবেদনশীল তথ্য ছিল।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মডেল কার্যক্রম নিয়ে চলমান পর্যালোচনার সময় গত আগস্টে তারা ঘটনাটি জানতে পারে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সেবা সংস্থা ‘সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া’কে ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। এই সংস্থাটি দেশটির বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।’ পরে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ঘটনাটি জানায়। ওই মন্ত্রী সপ্তাহান্তে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে বিষয়টি অবহিত করেন।
আলবানিজ জানান, বিষয়টি জানাতে দেরি হওয়ায় ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে তার খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তিনি অল্টম্যানকে এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের চরম উদ্বেগের কথাও জানান। আলবানিজ আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’
ওপেনএআই জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে তাদের ধারণা ছিল, কোনো রোগীর ব্যক্তিগত রেকর্ডে প্রবেশ করা হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করছে। সরকারি কোনো ওয়েবসাইটে এআই ব্যবহার করে চালানো এবং প্রকাশ্যে জানানো প্রথম দিকের সাইবার হামলাগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটিকে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে প্রতিষ্ঠানটির কিছু প্রোটোকল-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল।’ আলবানিজ জানান, এআই এজেন্টটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের ফাইলে প্রবেশ করেছিল।
এ ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সিস্টেমও আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে একটি ফরেনসিক তদন্ত চলছে। অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট এই তদন্তের নেতৃত্ব দেবে। হ্যাক হওয়া মেডিকেয়ার স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্টিং সার্ভিস পোর্টালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি পরিচালনা করে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া।
আলবানিজ বলেন, ‘দুটি রাজ্যভিত্তিক সংস্থা, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারও সম্ভবত এই ঘটনার কারণে প্রভাবিত হয়েছে।’
ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সময়। আমাদের মডেলগুলো যখন অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর এবং উপলব্ধ পরিসংখ্যান খোঁজার চেষ্টা করছিল, তখন আমরা বেশ কয়েকটি অস্ট্রেলীয় সরকারি ওয়েবসাইট ও পরিষেবার সাথে সম্পর্কিত কার্যকলাপ শনাক্ত করেছি।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এরই প্রক্রিয়ায় আমাদের মডেলগুলো এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা আমরা চাইনি। যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান এবং অভ্যন্তরীণ ফাইলের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।’
সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ অনুযায়ী, সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার নেটওয়ার্কে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটেনি। তবে এ ঘটনা স্পষ্টতই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা যখন সেখানে জড়ো হয়েছেন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মুখোমুখি বৈঠকে তিনি এ বিষয়টি তুলেছিলেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি আলবানিজ। চলতি মাসে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বৈশ্বিক নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ২২টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক কাজে এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনাটি বিশ্বের সরকারগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।
নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র লেকচারার ড. হ্যামন্ড পিয়ার্স বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আশা করি, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এগুলোর সংখ্যা ও তীব্রতা আরো বাড়বে।’ চলতি বছরের শুরুতে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের পরীক্ষাধীন কয়েকটি এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। পরে তারা গোপনে একসঙ্গে কাজ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেসে সাইবার হামলা চালিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ