বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪০ পি.এম
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজির নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন কর্মপন্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘রপ্তানি প্রস্তুতির পথে, বাংলাদেশে: সবজি রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও অঙ্গীকার’ শীর্ষক একটি অংশীজন গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দেড় কোটি মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হলেও এর মাত্র ০.৩ শতাংশেরও কম রপ্তানি হয়। আলোচনার সময় উঠে আসে যে, রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা শুধুমাত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। বালাই ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, ক্রেতার গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা ও সনদায়ন, ট্রেসঅ্যাবিলিটি, লজিস্টিকস এবং সংস্থাসমূহের সমন্বয়ের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিশেষ করে গার্ডজাতীয় সবজির চালান ইউরোপে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা কমছে।
এসজিএস বাংলাদেশ পরিচালিত বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে উচ্চ উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয়, আকাশপথে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ, কাস্টমস ও বিমানবন্দরে পণ্য ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব, দুর্বল মোড়কীকরণ ও ব্র্যান্ডিং, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত ঝুঁকি এবং দীর্ঘ সনদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতাসক্ষমতা হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আমিরুল বাহরাইন মন্তব্য করেন, কীটনাশকের বিষাক্ততার রঙভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস থাকলেও খেত পর্যায়ে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভালো মানের পণ্যের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মোড়কীকরণও সমান জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক দুর্বল বাজারতথ্য, উচ্চ আকাশপথের পরিবহন ব্যয়, দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটি ও লজিস্টিকস ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। খাতের সক্ষমতা বাড়াতে তিনি রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, উন্নত লজিস্টিকস ও রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কর-সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশ্বেরুর রহমান জুয়েল জানান, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-র চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ বলেন, কৃষি রপ্তানি খাতে যুক্ত রপ্তানিকারক, কৃষক ও অংশীজনদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত ফাতেমা জানান, বাংলাদেশের জমি, অনুকূল জলবায়ু ও কৃষক রয়েছে, কিন্তু ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে একটি সার্বিক কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজকের আয়োজন সেই অনুপস্থিত কড়িগুলোকে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
এতে উল্লেখযোগ্য যে, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়, ইপিবি, বিএসটিআই, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। যৌথভাবে এ আয়োজনে সহায়তা করে এসটিডিএফ, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকার। জ্ঞান অংশীদার হিসেবে ছিল ঢাবির ইকোনমিক্স স্টাডি সেন্টার। সুইসকন্ট্যাক্ট মূলত ‘সেফ বিডি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদে যশোর ও নরসিংদীতে এ সংক্রান্ত নানামুখী টেকসই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনের বারো অব নিউহ্যামের তিনবারের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়ার ন্যাশনাল পার্লামেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন।
গাম্বিয়া সফরের সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্ধারিত সময়ে পার্লামেন্টে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার গাম্বিয়ায় ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের বহুমুখী চ্যারিটি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের সামাজিক ও মানবসেবামূলক কার্যক্রম আরও প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনার সময় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ উল্লেখ করেন, "রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকার কর্তৃক চালানো ইতিহাসের নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব যখন নীরব ভূমিকা পালন করছিল, তখন গাম্বিয়া সরকার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ঐতিহাসিক ও সাহসী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।" এ সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি গাম্বিয়ার জনগণ ও সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
পরে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল গাম্বিয়া টিমের প্রধান ও পার্লামেন্ট সদস্য মদৌ লামিন বি. বাহ এমপি ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে পুরো পার্লামেন্ট ভবন ঘুরে দেখান। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের আমন্ত্রণে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ পার্লামেন্টের চলতি অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করেন।
অধিবেশনের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, "লন্ডন থেকে আগত ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ আমাদের মাঝে একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, তিনি আমাদের আজকের এই অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করবেন।"
উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার মূল স্পিকার ফাবাকারি তোমবং জাতা এমপি বর্তমানে দাফতরিক কাজে সাউথ আফ্রিকা সফরে থাকায় ডেপুটি স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নলুয়ার হাওর সুনামগঞ্জে অবস্থিত। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া বন্যার কারণে হাওরের প্রায় ২ হাজার হেক্টর চাষাবাদ করা জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে হাওরপাড়ের কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বছরজুড়ে পরিশ্রম করে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেন। যখন ধান পেকে সোনালি রূপ ধারণ করে এবং কৃষকরা ফসল ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন, তখনই বন্যার পানি এসে অনেক জমির পাকা ধান তলিয়ে দেয়। এই কারণে কৃষকদের মাসের পর মাসের শ্রম, অর্থ ও স্বপ্ন চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন কৃষকদের ফসলি জমি পানির নিচে রয়েছে। কোথাও পাকা ধানের শীষ পানির ওপরে দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও ধানের পুরো গাছই পানিতে তলিয়ে গেছে। সময়মতো ধান কাটতে না পারার কারণে অনেক কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বোরো ধান হাওরের কৃষকদের কাছে বছরের প্রধান ভরসা। এই ধান ঘরে তুলে অনেক পরিবার সারা বছরের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। পাশাপাশি ধান বিক্রি করে কৃষীরা কৃষিঋণ পরিশোধ, পরিবারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটান। কিন্তু পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের এই পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসের পূর্বে নিগার সুলতানা ই-মেইলের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিংয়ে অধিক মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিগার সুলতানার এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, কারণ এশিয়ান গেমস শুরুর মাত্র দুই দিন আগে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের কাছে কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিসিবি জানিয়েছে, এশিয়ান গেমস শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার নিগারের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, বোর্ড নিগারের ই-মেইল পেয়েছে। সেখানে তিনি টি-টোয়েন্টি থেকে সরে গিয়ে ওয়ানডেতে নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিংয়ে আরো মনোযোগ দিতে চান।
রফিকুল ইসলাম বলেন, “সত্যি বলতে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে হঠাৎ কেন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি জানি না। খেলোয়াড়টি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না এবং ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে আরও মনোযোগ দিতে চায়। সে ৫০ ওভারের সংস্করণে থাকতে চায়, কিন্তু টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়াতে চায়—এ বিষয়ে সে ই-মেইল করেছে।”
এশিয়ান গেমসের ঠিক আগে নিগারের এই সিদ্ধান্তে বিসিবির এই কর্মকর্তার হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, “এশিয়ান গেমসের আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে আমি বিব্রত এবং গভীরভাবে হতাশ। কোনো সমস্যা থাকলে দল টুর্নামেন্ট থেকে ফেরার পর আমাকে জানাতে পারত। আমরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্তে আসতে পারতাম।”
বর্তমানে নিগারকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয় বিসিবি। রফিকুল ইসলাম জানান, তামিম ইকবালের সঙ্গে আলোচনা করে এশিয়ান গেমস শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “তামিম ও আমি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তারা এশিয়ান গেমস থেকে ফিরে এলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সামনে কী করা যায়, সেটি ঠিক করব।”
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নিগার। তাঁর অধিনায়কত্বে একটি বড় সাফল্য আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ এক দশক পর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পায়। ওই আসরে ব্যাট এবং গ্লাভস হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নিগার—চার ইনিংসে ১০৪ রান করেন এবং উইকেটের পেছনে সাতটি ডিসমিসাল নেন।
তবে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর অধিনায়কত্বের সময়টি পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার, স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে মিশ্র ফল এবং বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে দুটি জয়—এসব কারণে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এশিয়ান গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে নিগারের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আপাতত বোর্ডের সিদ্ধান্ত, টুর্নামেন্ট শেষে নিগারের সঙ্গে বসে পরবর্তী পথ নির্ধারণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ডে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর গতি ফেরানোর লক্ষ্যে ১১ বছর পর বেইজিংয়ের চায়না ওপেনে ফিরছেন ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী নোভাক জোকোভিচ।
নোভাক জোকোভিচ ১১ বছর পর চায়না ওপেনে ফিরে আসছেন। ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই সার্বিয়ান তারকা বুধবার জানান, তিনি বেইজিংয়ের এটিপি ৫০০ টুর্নামেন্টে আবারও অংশগ্রহণ করবেন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে নেমে আসা এবং ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ডে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর নতুন করে ছন্দ ফেরানোর লক্ষ্য তাঁর।
চায়না ওপেনে জোকোভিচের রেকর্ড অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এই টুর্নামেন্টে তিনি ছয়বার অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবারই শিরোপা জিতেছেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটি ছিল চায়না ওপেনে তাঁর শেষ উপস্থিতি।
এবার ফেরার সিদ্ধান্তটি এসেছে ইউএস ওপেনে বড় ধাক্কার পর। নিউইয়র্কে প্রথম রাউন্ডে আনসিডেড আর্জেন্টাইন মারিয়ানো নাভোনের কাছে পাঁচ সেটে পরাজিত হন চারবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন। ম্যাচের মাঝপথে তিনি বমিও করেন। শেষ দিকে পিঠ ও কাঁধের সমস্যায় তাঁর সার্ভিসেও প্রভাব পড়ে।
ওই হার জোকোভিচের জন্য একটি বিরল ঘটনা ছিল। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লামে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেন তিনি।
তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে বেইজিংয়ে ফিরতে মুখিয়ে আছেন জোকোভিচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আপনাদের সামনে আবার খেলতে এবং পারফর্ম করতে আমি রোমাঞ্চিত। এটি টেনিসের সবচেয়ে সুন্দর ভেন্যুগুলোর একটি।’
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে একসময় দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা জোকোভিচ বর্তমানে ১২ নম্বরে অবস্থান করছেন। চায়না ওপেন হতে পারে সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি সুযোগ। বেইজিংয়ের কোর্টে তাঁর পুরোনো সাফল্যও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
চায়না ওপেনের পুরুষদের মূল পর্ব ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর টুর্নামেন্টের পুরুষ এককের শিরোপা জিতেছিলেন বর্তমান বিশ্বনম্বর ওয়ান ইয়ানিক সিনার।
জোকোভিচের জন্য বেইজিংয়ে ফেরাটা তাই শুধু দীর্ঘ বিরতির অবসান নয়, ইউএস ওপেনের হতাশা কাটিয়ে আবারও নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ