০৯:৪৩ এম
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ফলে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবারের ব্যাপক বিক্ষোভের পর রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা দেখা দেয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্যারিসের কিছু এলাকায় সংঘর্ষ ও অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। এসব ঘটনায় পুলিশ প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার এলিসি প্রাসাদ থেকে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।” তিনি বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। যদিও অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল, একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা ও লুটপাট শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক
ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো কিছুই এমন লাগামহীন সহিংসতাকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সতর্ক করেন যে যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
কালো পোশাক ও মুখোশ পরা একদল দাঙ্গাকারী প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতায় জড়ায়। এ সময় কোথাও কোথাও গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। প্যারিস, মার্সেই ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রোববারও প্যারিস ও লিওঁর কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসে কয়েক শ মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দসৃষ্টিকারী গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করেন।
সহিংসতার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে লিমোজ শহরে। শনিবার দাঙ্গাকারীদের লাগানো আগুনে উনিশ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক সিটি হলের বড় অংশ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ভবনটির ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে। রোববার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসার পর ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি
ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের কাছে অ্যানেইসে নামের এক নারী বলেন, সরকারের ওপর ক্ষোভ থেকে ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করা স্বার্থপরতার পরিচয়। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে। জেরার্ড নামের আরেক ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেন। তিনি ভবনটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেও মনে করেন।
রোববার সকালে প্যারিসের বিভিন্ন দোকানের সামনে ছড়িয়ে থাকা কাচের বড় বড় টুকরা পরিষ্কার করতে দেখা যায় দোকানিদের। অন্যদিকে, শহরের বড় সড়কগুলো থেকে ধ্বংসাবশেষ সরাতে কাজ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দোকানপাট ও সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও মেয়ররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে দেখা যায়। কয়েকটি স্থানে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ সদস্যদের লাঠি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আঘাত করার ঘটনাও সামনে আসে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: মুসলিম বনাম মুসলিম যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে! হাসছে মার্কিন-ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন