শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১১ পি.এম
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার কৈখালী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি গোডাউনসহ অন্তত আটটি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কৈখালী বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা পায়।
চেচরীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, “বাজারের গোডাউনসহ আটটি দোকান আগুনে পুড়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আগুনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের বাড়িঘর ও অন্যান্য দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কৈখালী বাজারের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল মান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে গেছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে—বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, নাকি অন্য কোনো কারণে—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করেছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাদের দাবি, বারবার ফোন করার পরও ফায়ার সার্ভিসের ফোন রিসিভ করা হয়নি। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ৩৭ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বানাই গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ শাহজাহান হাওলাদার আর নেই। গতরাতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদারের মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুম মোঃ শাহজাহান হাওলাদারকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যাতায়াত (ওভারফ্লাই) থেকে বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে। গত অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন) বিমানবন্দরে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা।
এই তথ্য ‘রেভিনিউ আর্নড ওভারফ্লাই রিপোর্ট’ থেকে জানা গেছে, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, শাহজালালে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি) স্থাপনের ফলে আকাশ সুরক্ষিত হয়েছে এবং ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এটি মূলত অপারেশনে যায়। তবে গত ২০ এপ্রিল সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অর্থবছর অনুযায়ী আয়ের বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনে বিগত এক বছরের রাজস্ব আয়কে দুই ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর
বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে জুলাইয়ে আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা, আগস্টে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৮ টাকা ৯৬ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৭ টাকা ৬০ পয়সা, অক্টোবরে ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ টাকা ৫৯ পয়সা, নভেম্বরে ৬২ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৫ টাকা ১৪ পয়সা, ডিসেম্বরে ৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন
পরবর্তীতে চলতি বছরের ছয় মাসে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায়। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা, মার্চে ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা, এপ্রিলে ৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৬ টাকা, মে তে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা এবং জুনে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৩১৮ টাকা।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক আকাশপথে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশের আকাশসীমা দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওভারফ্লাই ফি থেকে অর্জিত রাজস্ব দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে আমাদের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এটি এই টাওয়ার স্থাপনের সফলতা।’
তিনি আরও বলেন, দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারী স্থাপন করা হয়েছে। ফলে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনো ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন টাওয়ার, যা ফ্লাইট নিরাপদে ওঠানামার পাশাপাশি দেশের আকাশসীমা নজরদারির আওতায় নিয়ে এসেছে। দেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনো ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকবে না। পূর্বের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা অনেক পুরোনো ছিল। ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসতো না, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, অন্য দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিধান আছে। আকাশসীমা একবার ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ নামের এই ফি বাংলাদেশ পেতো না। কিন্তু বর্তমানে এই ফি আমরা পাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আকাশে শতভাগ নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আগামী বছরের ১৯, ২০ ও ২৭ মার্চ তিন দিনব্যাপী চারটি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং নতুন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সভায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কনভেনর ও পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। ভর্তি আবেদনের বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা, ফি ও অন্যান্য বিষয় পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) ভর্তি পরীক্ষা ১৯ মার্চ ২০২৭ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২০ মার্চ ‘সি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা এবং ‘ডি’ ইউনিটের (আর্কিটেকচার) পরীক্ষা বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা ২৭ মার্চ ২০২৭ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সভায় এবারের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্ব পবিপ্রবিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক আয়োজন ও সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। পরে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্মতিতে পরীক্ষার আয়োজনের দায়িত্ব পবিপ্রবির ওপর অর্পণ করা হয়।
বর্তমানে জিএসটি গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।
গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলো হলো—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কনভেনর ও পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার আয়োজন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে উপাচার্যদের নিয়ে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়াই মূল লক্ষ্য। এ জন্য অধিকাংশ উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকা বা নিকটস্থ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে দূরের কেন্দ্রে যাতায়াতের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান খলনায়ক নাসির খানের জন্মস্থান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, সেখানে একটি গলি বর্তমানে ‘নাসির খানের গলি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই নামকরণের উদ্দেশ্য হলো প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
নাসির খান ১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মফস্বল থেকে উঠে এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
নাসির খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর তিনি প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। হুমায়ুন ফরীদি, রাজীব, এ টি এম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো খ্যাতিমান খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও তিনি নিজস্ব অভিনয় শৈলীতে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ এবং ‘গরিবের রাণী’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাসির খানের সংলাপও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তার অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুখে ফিরেছে।
২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি নাসির খান মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসা এবং তিন কন্যা—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা ও মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা সজীব মিত্র জানান, "ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সিনেমা দেখতাম। তিনি আমাদের এই জনপদের একজন কৃতী সন্তান। শুরুতে বিষয়টি জানতাম না। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। শুক্রবার হলে ছুটে যেতাম তার সিনেমা দেখতে। শুনেছি জন্মস্থানের ভিটা ঘিরে নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।"
প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার আরটিভিকে বলেন, "নাসির খানের বাড়ি এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন, তবে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ও শিল্পমনা মানুষ। পরিচিত মুখ হিসেবে তার অভিনয় আমাদের জনপদের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে তার অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে মনে রেখেছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ