০৮:০৭ পি.এম
ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে মন্তব্য করেছেন যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। তিনি আজ রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অন্যদের বিরোধিতা করার কোনো বিষয় নয়। এটি শুধু নিশ্চিত করা যে আমরা যেন স্বায়ত্তশাসিতভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’ সেরে-শার্লে আরো উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা, জলবায়ু এবং অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, স্বাধীনভাবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি দীর্ঘকাল ধরে ফ্রান্সের নীতির অংশ এবং এটি ধীরে ধীরে ইউরোপের কৌশলগত চিন্তাধারাতেও স্থান করে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি কারও বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর লক্ষ্য হলো আমরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বায়ত্তশাসিতভাবে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী থাকি।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
তিনি আরও বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ বিচ্ছিন্নতা বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। ‘স্বায়ত্তশাসিত হওয়ার অর্থ একা থাকা এবং বিশ্বের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়,’ বলেন তিনি। বরং এর অর্থ হলো, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থেকে একটি দেশ তার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবে।
সেরে-শার্লে বলেন, ইউরোপ নিজেকে একটি ‘পার্টনারিং পাওয়ার’ বা অংশীদারিত্বভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রবণতা অনুসরণের চেয়ে অংশীদারিত্ব অনেক ভালো এবং সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতা ভালো।’
রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ ও স্বার্থ নতুন করে মূল্যায়ন এবং গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শীতল যুদ্ধের সময়ও ফ্রান্স সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, কিন্তু মস্কোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়নি। এর মাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা মানেই তার ওপর নির্ভরশীলতা বা তার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নয়।
সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বড় শক্তিগুলো এবং তাদের ঐতিহ্যগত অংশীদারদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমানভাবে উত্তেজনা ও মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ এবং কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তা আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব: ট্রাম্প
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বড় বৈশ্বিক সংকট এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক চাপ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন বা নতুন ভূরাজনৈতিক চাপের মতো বড় সংকট মোকাবিলা করতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদারদের সঙ্গে আরও জোরালো সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। সেরে-শার্লে বলেন, দেশগুলোর উচিত অংশীদারদের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পদ ভাগাভাগি করা এবং একই সঙ্গে টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং পিছিয়ে পড়া এড়াতে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশকে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জনই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে। সেরে-শার্লে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ইউরোপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত সহযোগিতা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দেশগুলোর সক্ষমতা।
আরও পড়ুন: হরমুজে ৭ তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন