ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরাসি রাষ্ট্রদূত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন


ফরাসি রাষ্ট্রদূত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে মন্তব্য করেছেন যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। তিনি আজ রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অন্যদের বিরোধিতা করার কোনো বিষয় নয়। এটি শুধু নিশ্চিত করা যে আমরা যেন স্বায়ত্তশাসিতভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’ সেরে-শার্লে আরো উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা, জলবায়ু এবং অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, স্বাধীনভাবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি দীর্ঘকাল ধরে ফ্রান্সের নীতির অংশ এবং এটি ধীরে ধীরে ইউরোপের কৌশলগত চিন্তাধারাতেও স্থান করে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি কারও বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর লক্ষ্য হলো আমরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বায়ত্তশাসিতভাবে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী থাকি।’

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ বিচ্ছিন্নতা বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। ‘স্বায়ত্তশাসিত হওয়ার অর্থ একা থাকা এবং বিশ্বের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়,’ বলেন তিনি। বরং এর অর্থ হলো, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থেকে একটি দেশ তার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবে।

সেরে-শার্লে বলেন, ইউরোপ নিজেকে একটি ‘পার্টনারিং পাওয়ার’ বা অংশীদারিত্বভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রবণতা অনুসরণের চেয়ে অংশীদারিত্ব অনেক ভালো এবং সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতা ভালো।’

রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ ও স্বার্থ নতুন করে মূল্যায়ন এবং গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শীতল যুদ্ধের সময়ও ফ্রান্স সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, কিন্তু মস্কোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়নি। এর মাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা মানেই তার ওপর নির্ভরশীলতা বা তার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নয়।

সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বড় শক্তিগুলো এবং তাদের ঐতিহ্যগত অংশীদারদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমানভাবে উত্তেজনা ও মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ এবং কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তা আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব: ট্রাম্প

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বড় বৈশ্বিক সংকট এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক চাপ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন বা নতুন ভূরাজনৈতিক চাপের মতো বড় সংকট মোকাবিলা করতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদারদের সঙ্গে আরও জোরালো সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। সেরে-শার্লে বলেন, দেশগুলোর উচিত অংশীদারদের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পদ ভাগাভাগি করা এবং একই সঙ্গে টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং পিছিয়ে পড়া এড়াতে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশকে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জনই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে। সেরে-শার্লে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ইউরোপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত সহযোগিতা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দেশগুলোর সক্ষমতা।

আরও পড়ুন: হরমুজে ৭ তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিটিটিসির অভিযানে দুই মামলার পলাতক আসামি রিয়াদ হাসান সুমিত গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


সিটিটিসির অভিযানে দুই মামলার পলাতক আসামি রিয়াদ হাসান সুমিত গ্রেফতার

রাজধানীর কদমতলী থানার জিডি ও নিয়মিত দুই মামলার পলাতক আসামি রিয়াদ হাসান সুমিত (২৮) কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) আরএন্ডডি বিভাগের একটি আভিযানিক দল।

গ্রেফতারটি ঘটেছে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, ডিএমপির দারুস সালাম থানাধীন দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে।

গ্রেফতার হওয়া রিয়াদ হাসান সুমিতের পিতার নাম কামরুল আলম শরিফ এজাজ। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার চাঁদনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ড. রুহুল আমিন সরকারের দিকনির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এসআই তোফাজ্জল হোসেন, এসআই আবুল খায়ের, এসআই সাখাওয়াত হোসেন, এএসআই সেলিনা আক্তার ও দুই কনেস্টেবল অংশগ্রহণ করেন।

গ্রেফতার রিয়াদ হাসান সুমিতের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি নিয়মিত মামলা রয়েছে। নিয়মিত মামলা রুজুর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রাজধানী ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু মশা নিধন এবং নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক গৃহীত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ। এই কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা-৬ আসনের সুত্রাপুর থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজনন রোধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পুরান ঢাকার সুত্রাপুর ও কোতোয়ালী এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও গলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, "ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এটি কেবল সরকারি কোনো নিয়মিত কর্মসূচি নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার একটি সামাজিক আন্দোলন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগে মশা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন ভূমিকা রাখা জরুরি।"

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক, ড্রেন ও উন্মুক্ত স্থানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ির চারপাশ, ছাদ, ফুলের টব ও গ্যারেজে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি জানান, "জমা পানিই এডিস মশার মূল বংশবিস্তারের কেন্দ্র।" প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত নগরী উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সরাসরি অংশ নেন। নেতাকর্মীরা এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঝাড়ু দেওয়া, ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ এবং মশার প্রজনন হতে পারে এমন সম্ভাব্য স্থানে ওষুধ প্রয়োগসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদারে সহায়তা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে চায়, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, যা আসন্ন কমনওয়েলথ সম্মেলনের মাধ্যমে অর্জন করতে চায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘কমনওয়েলথ বিজনেসউইমেনস নেটওয়ার্ক’ এর নির্বাহী পরিচালক আরিফ জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আগামী নভেম্বরে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (সিএইচওজিএম) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের স্থান হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী ও কমনওয়েলথ প্রতিনিধির মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশকে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার দেশ হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী ‘উৎপাদন হাব’ হিসেবে দেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোগকে জোরদার করা, ব্লু-ইকোনমিতে টেকসই সম্ভাবনার বিকাশ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ‘সার্কুলার ইকোনমি’ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

এছাড়া মূল সম্মেলনের পাশাপাশি ‘কমনওয়েলথ উইমেনস ফোরাম’ নিয়েও আলোচনা হয়। এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কমনওয়েলথের এই ফোরামগুলোকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলে ধরা এবং যোগাযোগ আরো জোরালো করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বরিশাল সিটিতে মনোনয়ন

বিএনপিতে শিরিন-আলাল-চান-নাসের-ফারুকসহ ১১ জন, জামায়াতে প্রার্থী চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


বিএনপিতে শিরিন-আলাল-চান-নাসের-ফারুকসহ ১১ জন, জামায়াতে প্রার্থী চূড়ান্ত

বরিশাল সিটিতে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও তফশিল ঘোষণা করেনি, তবে আগামী বছরের শুরুতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায় বিএনপি ও জামায়াতের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এই ধারণা নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে। বরিশাল সিটিতে গত দুটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ ও আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। তবে ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত অংশ নেয়নি।

বরিশালে বিএনপির অবস্থান সবসময় শক্তিশালী। এই সিটিতে মজিবুর রহমান সরোয়ার, আহসান হাবিব কামালের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মেয়র পদে ছিলেন। হারানো মসনদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি এবার মাঠে নেমেছে। তবে তাদের সামনে রয়েছে কোন্দল। এবারে বিএনপির অন্তত ১১ জন নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করছে।

বরিশাল নগরী, যা আয়তন ও ভোটারসংখ্যায় ছোট, সেখানে নানা সমস্যার সম্মুখীন। নগরবাসী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অপেক্ষায় রয়েছে। ভোটাররা এবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন।

বরিশালে প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বিএনপির ১১ জন নেতা আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে ছিঁড়বে, তা বলা মুশকিল। তবে এবারের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের অনুপস্থিতি একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। যদিও দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তিনি নিজে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল হলে বিএনপিকে তার খেসারত দিতে হতে পারে।

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যখন এমন, তখন বিএনপিতে চলছে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লড়াই। এই লড়াইয়ে ১১ জন বিএনপি নেতা মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-বিসিসির বর্তমান প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতউল্লাহ ও এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল এবং সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির। আলোচ্য ১১ নেতার মধ্যে শিরিন বিসিসির প্রশাসক পদে বসার সুযোগে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্য মনোনয়ন প্রার্থীদের পকেটের পয়সা খরচ করে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৪ জন বরিশালের পাশাপাশি ঢাকায়ও লবিং-তদবির করছেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে। ১১ নেতার মধ্যে দুজন শিরিন ঘরানার লোক হিসাবে পরিচিত। বাকিদের ঘনিষ্ঠতা সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে। নির্বাচনি মাঠে এই ঘরানা ও ঘনিষ্ঠতার বিরোধ বিএনপির জয়-পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করছেন সবাই।

জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতও নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তারা দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে হেলালকে বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত, পরে তিনি চরমোনাই পীরের আসন হিসাবে সরে দাঁড়ান। হেলালের প্রচার-প্রচারণা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রস্তুতির প্রশ্নে তিনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা মাঠে সক্রিয়। তারা প্রায় প্রতিদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কৌশল হিসাবে আলাদা আলাদা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন হেলাল। কুশল বিনিময় করছেন মুসল্লিদের সঙ্গে এবং অসহায় দরিদ্র মানুষের সহায়তাও দিচ্ছে দলটি।

এদিকে বাসদ-এর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বঞ্চিত মানুষের পক্ষ নিয়ে কথা বলার সময় হামলা-মারধরের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার হাত ভেঙে দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে তিনি প্রায় ২৩ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট আইনজীবী শেখ আব্দুল্লাহ নাসিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মানবিক আইনজীবী নাসির তার পেশাগত জীবনে বহু দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া এনসিপির প্রার্থী এম আনোয়ার সিকদার। নাম ঘোষণার পর থেকে মাঠে রয়েছেন আনোয়ার। সবার দোয়া চেয়ে পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তার প্রচার-প্রচারণা।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ঘরানা-ঘনিষ্ঠতার বিরোধ দূর করতে না পারলে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী হেলালের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই মন্তব্য দলের বহু মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীর।

বরিশালের জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব আগেও ছিল। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে এদেশের মানুষ। সর্বোপরি আমি মনে করি, দলের চেয়ারম্যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অজানা কিছু নেই। তার সিদ্ধান্তে যে ভুল হয় না, এর প্রমাণ আমরা আগেও পেয়েছি। তিনি বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%