ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিছু ব্যাংক থেকে এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে : গভর্নর


কিছু ব্যাংক থেকে এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গভর্নর।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন-গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

তখন গভর্নর নিজের ঋণ খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ সেটা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। 

গভর্নর বলেন, আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।

তিনি আরও বলেন, শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি।

এ সময় গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তিনি বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের কাজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যক্রমে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, আমরা কাউকে ঋণ দিতে বলি না, বদলি বা পদোন্নতির জন্যও কোনো নির্দেশ দেই না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

গভর্নর আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে গত ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত নতুন নিয়োগ দিতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমছে নাকি কৌশল বদলাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমছে নাকি কৌশল বদলাচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি তার সহানুভূতি রয়েছে। তার বক্তব্যানুযায়ী, ইরানের সাধারণ মানুষ একটি দমনমূলক শাসনের অধীনে বসবাস করছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হয় না, কারণ তারা কঠোর দমন-পীড়ন ও অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে থাকেন।

ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসে প্রচারিত এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রতি আমার বার্তা হলো, তারা ভীত। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, কিন্তু অন্য পক্ষের হাতে অস্ত্র আছে। তারা সমাবেশ করলে গুলিবিদ্ধ হয়।’

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের সরকার ইয়েমেন, ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তারা বলে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর, ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এই হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরো বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন, যার মধ্যে খার্গ দ্বীপ ও এর তেল স্থাপনা দখলের কথাও ছিল। অন্যদিকে তিনি আলোচনার জন্যও সময় দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এবার তিনি সত্যিই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, যাতে চলমান সংঘাত কমানো বা বন্ধ করা যায়। তার ভাষায়, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’ সম্ভাব্য স্থান হিসেবে তিনি ইউরোপের কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প আরো দাবি করেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমোদনও পেয়েছে। এজন্যই তিনি ওই রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ও বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছেন।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে এবং তেলের দাম কমে গেছে। তবে শুক্রবার ইরান জানিয়েছে যে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

ইরানি জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি সেতু, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা এড়াতে চান, কারণ এতে সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্রায়ান কিলমিডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি চাইলে এক মিনিটের মধ্যেই তা করতে পারি। কিন্তু আমি তা করতে চাই না, কারণ একবার এমন হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক দফা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, যার ফলে অঞ্চলটি তেল বিক্রি থেকে বিপুল আয় হারিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা অগ্রগতি না হলে আরো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। একই সময়ে, দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালেও আলোচনা চলেছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি এর আগেও বলেছিলেন, যদি ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশটির জনগণের অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে হতে পারে, সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর আগে এ ধরনের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ট্রাম্পের সমালোচক এবং কিছু ইরানি বিরোধী নেতা মনে করেন, অবকাঠামোতে হামলার পরিবর্তে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

কেউ কেউ সাধারণ নাগরিকদের সহায়তা বা অস্ত্র দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তবে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ও অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য সমালোচকরা।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করেছে।

এসব জাহাজে বহন করা অপরিশোধিত তেলের মূল্য ছিল প্রায় ৭.৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার। তার দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে জাহাজগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য বাধা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গোপন এক মার্কিন অভিযানে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রণালি দিয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি রাডার সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর পর, মার্কিন সামরিক বাহিনী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো আলো ছাড়াই গভীর রাতে ট্যাংকার ট্রানজিটের সমর্থন করেছিল।

ট্রাম্প বিশেষভাবে এমন একটি অভিযানের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেখানে ২২টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা হয়েছে। তার দাবি, এই প্রচেষ্টার ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার মতে, তেলের দাম যেখানে প্রতি ব্যারেল ২৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারত, সেখানে তা প্রায় ৮৫ ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এসব তথ্য বা সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মীদের জন্য বিশেষ উপহার, ১,৮০০ জনকে আম দিল মসিক প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


কর্মীদের জন্য বিশেষ উপহার, ১,৮০০ জনকে আম দিল মসিক প্রশাসন

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে (মসিক) কর্মরত ১ হাজার ৮০০ জন কর্মীর মাঝে গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল আম বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শাখায় কর্মরত মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের কাছে গ্রীষ্মের এই ফল উপহার দেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন।

এমন উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা খুশি হয়েছেন। তারা বলেন, ঈদ কিংবা বৈশাখসহ সকল উৎসবেই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা অথবা বোনাস প্রদান করেন সিটি প্রশাসক। এবার আম উপহার দিয়েও আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্তরিকতায় আমরা খুবই আনন্দিত।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, উৎসবটা সবার জন্য। এখানে যারা কাজ করেন, তারা সকলেই আমার সহকর্মী। সিটি করপোরেশন তো একটি পরিবার। সবার সন্তানরাও যেন মৌসুমি ফল উপভোগ করতে পারে এবং আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ গড়ার জন্য কাজ করে যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের মঞ্চে কার হাসি, কার কান্না জল্পনায় ক্রীড়াঙ্গন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


বিশ্বকাপের মঞ্চে কার হাসি, কার কান্না জল্পনায় ক্রীড়াঙ্গন

জার্মান অর্থনীতি ও গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, শতভাগ নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য আবারো আলোচনায় উঠে এসেছেন। তিনি ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে একটি জটিল পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আসরে কোন দেশ কোন দলের কাছে হেরে মাঠ ছাড়বে। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল সে বিষয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে তার জটিল সমীকরণের মডেল।

জোয়াকিম ক্লেমেন্টের তৈরি গণিতভিত্তিক মডেল অনুসারে এবারের বিশ্বকাপে যা ঘটতে পারে তা হলো-

১। তিনবার ফাইনালে অংশ নিয়ে হেরে যাওয়া ‘অভাগা দল’ নেদারল্যান্ডস ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের চাম্পিয়ন ট্রফি জিতবে।

২। ক্লেমেন্টের বিশেষ অ্যালগরিদম বলছে, নেদারল্যান্ড ফাইনালে পর্তুগালকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। ফলে, পর্তুগাল হবে এবারের আসরের রানার্সআপ দল।

৩। ক্লেমেন্টের জটিল মডেলে সেমিফাইনালের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। মডেলটির তথ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের কাছে স্পেনের পরাজয় এবং পর্তুগালের কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয় ঘটবে।

৪। বিশ্বকাপের আসরের ফেভারিট দলগুলো নিয়েও আভাস দিয়েছে ক্লেমেন্টের জটিল মডেল। এতে উল্লেখ রয়েছে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নেবে।

৫। বিশ্বকাপের ফেভারিট দল ব্রাজিল খেলার মঞ্চ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ছিটকে পড়বে। ব্রাজিলকে হারিয়ে জাপান একটি চমকপ্রদ জয় পাবে। একই রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ের ঘটনা ঘটবে।

গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট টানা তিনবার বিশ্বকাপ ফুটবলের শতভাগ সঠিক পূর্বাভাস প্রদান করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে গণিতের জটিল মডেল তৈরি করে প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন ক্লেমেন্ট। তিনি জানান, খেলা শুরু হওয়ার আগেই তার নিজ দেশ জার্মান চ্যাম্পিয়ন হবে। তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণিত হয়।

এরপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গণিতের জটিল মডেল তৈরি করে তিনি জানান, ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয়ী হবে। সেবারও তার পূর্বাভাস শতভাগ মিলে যায়। ২০২২ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সেবার ক্লেমেন্ট পূর্বাভাস দেন, আর্জেন্টিনার হাতে বিজয়ের ট্রফি উঠবে। তার ভবিষ্যদ্বাণী তখনেও সঠিক প্রমাণিত হয়।

এখন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরু হতে যাচ্ছে বিধায়, জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এবারও যদি তার পূর্বাভাস শতভাগ সফল হয়, তাহলে টানা ৪ বার শতভাগ সঠিক ভবিষ্যদ্বাণীর ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বিশ্বের বিরল ওরাংওটাংদের ৭ শতাংশ মারা গিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বিশ্বের বিরল ওরাংওটাংদের ৭ শতাংশ মারা গিয়েছে

গত নভেম্বরের শেষের দিকে সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন ‘সেনিয়ার’। ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে চার দিনের টানা অতি বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির ওরাংওটাং এখন বিলুপ্তির আরও দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত নভেম্বরের ওই চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে 'তাপানুলি ওরাংওটাং' প্রজাতির অন্তত ৫৮টি প্রাণী মারা গেছে। বিশ্বজুড়ে চরম বিপন্ন এই প্রজাতির ৮০০টিরও কম প্রাণী বেঁচে ছিল। সেই হিসেবে, মাত্র চার দিনেই এই প্রজাতির প্রায় ৭ শতাংশ প্রাণী ধ্বংস হয়ে গেছে।

বুধবার প্রকাশিত এই গবেষণায় জানানো হয়, এটি একটি রক্ষণশীল হিসাব মাত্র। বৃষ্টির কারণে বনভূমির ক্যানোপির ক্ষতি এবং খাদ্যাভাবের কারণে কতগুলো প্রাণী মারা যেতে পারে, তা এই হিসাবে ধরা হয়নি।

গত নভেম্বরের শেষের দিকে সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন 'সেনিয়ার'। ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

গবেষকেরা বলছেন, তাদের এই ফলাফল প্রমাণ করে যে অতি বৃষ্টির মতো চরম প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো গ্রেট এপ প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সাইক্লোনে দ্বীপটির বন্য প্রাণীদের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা পরিমাপ করা বেশ কঠিন।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও সংরক্ষণবিদেরা ঝড়ের পর থেকেই লক্ষ করেছিলেন যে তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের দেখা প্রায় মিলছেই না। এর ফলে আশঙ্কা তৈরি হয় যে এই প্রাণীগুলো হয়তো বন্যা ও ভূমিধসে ভেসে গেছে।

বুধবার প্রকাশিত গবেষণার অন্যতম রচয়িতা এবং ব্রুনাইয়ের 'বোর্নিও ফিউচারস'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক এরিক মেইজার্ড ডিসেম্বরে বিবিসিকে বলেছিলেন, সাইক্লোন সেনিয়ারের কারণে অন্তত ৩৫টি ওরাংওটাং মারা গিয়ে থাকতে পারে। তিনি একে 'এই প্রজাতির জন্য একটি বড় আঘাত' বলে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে তার সাম্প্রতিক হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫৮-তে দাঁড়িয়েছে, যা আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

সাইক্লোনের কয়েক সপ্তাহ পর ত্রাণকর্মীরা জানান, মধ্য তাপানুলি জেলার পুলো পাক্কাত গ্রামে কাদা ও কাঠের ধ্বংসস্তূপের নিচে অর্ধেক চাপা পড়া একটি মৃতদেহ পেয়েছেন তারা। এটি একটি তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের মৃতদেহ বলেই তাদের ধারণা।

ওই এলাকায় একটি মানবিক সাহায্য দলের সঙ্গে কাজ করা ডিকি চন্দ্র বলেন, গত কয়েক দিনে আমি অনেক মানুষের মৃতদেহ দেখেছি, কিন্তু বন্য প্রাণীর মৃতদেহ এই প্রথম দেখলাম। ওরা আগে ফল খেতে এই জায়গায় আসত। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটা তাদের কবরস্থান হয়ে গেছে।

মেইজার্ড জানান, তিনি চন্দ্রের পাঠানো মৃত ওরাংওটাংয়ের ছবিগুলো দেখেছেন।

তিনি বলেন, আমাকে সবচেয়ে বেশি যা নাড়া দিয়েছে তা হলো, এর মুখের সব মাংস ছিলে গিয়েছিল। যখন কয়েক হেক্টর বনভূমি বিশাল ভূমিধসে ধসে পড়ে, তখন শক্তিশালী ওরাংওটাংও অসহায় হয়ে পড়ে এবং এভাবেই পিষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় বনের ভেতরের অবস্থা নিশ্চয়ই নরকের মতো ছিল।

বিলুপ্তির ঝুঁকি ও সংরক্ষণ

গবেষকেরা জানিয়েছেন, সাইক্লোন সেনিয়ার একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হলেও এর পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় অতি বৃষ্টির মাত্রা ও তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাপানুলি ওরাংওটাং এবং তাদের আবাসস্থলের জন্য বড় হুমকি।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত এই প্রজাতিটি যদি প্রতিবছর তাদের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের বেশি হারাতে থাকে, তবে তারা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

ইন্দোনেশিয়া সরকার সাময়িকভাবে সুমাত্রার সংরক্ষিত বনাঞ্চল বাতাং তোরু এলাকায় খনন, পাম তেলের বাগান এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় ধরনের উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে গবেষকেরা এই প্রজাতির পরিবেশগত ঝুঁকি আরও ভালোভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছেন।

গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, সেনিয়ারের এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রমাণ করে যে এই প্রজাতি কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তারা প্রতিবেদনে লিখেছেন, তাপানুলি ওরাংওটাং আজ যে সংকটের মুখে, তা জলবায়ু অস্থিতিশীলতা, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং অন্যান্য ঝুঁকির এক সমন্বয়। এই হুমকি মোকাবিলায় এখন সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

টিকে থাকা ওরাংওটাংগুলোকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, দেশের ভেতরে সুরক্ষা জোরদার, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে আমরা আধুনিক যুগে কোনো গ্রেট এপ প্রজাতির প্রথম বিলুপ্তি ঠেকাতে পারি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%