ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝিনাইগাতী অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে কারাদণ্ড


ঝিনাইগাতী অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে কারাদণ্ড

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবহন করার সময়, জিয়াউর রহমান নামের একজন ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি বালু ভর্তি চৌকিভ্যান আটক করা হয়। আরেকটি অভিযানে বালু ভর্তি মহেন্দ্র মিনি ট্রাকও আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী দরবেশতলা কালীস্থান নামক স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন করে এটি পরিবহনের সময় গান্ধীগাঁও গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ জিয়াউর রহমানকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক। মোবাইল কোর্ট বসিয়ে, আটককৃত জিয়াউর রহমানকে ওই কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েল মরিয়া চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি বানচালে: ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


ইসরায়েল মরিয়া চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি বানচালে: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বানচাল করতে এবং মার্কিন জনমতকে সে চুক্তির বিপক্ষে প্রভাবিত করতে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তার এই সরাসরি ও তীব্র সমালোচনা আন্তর্জাতিক মহলে নজিরবিহীন শোরগোল সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে ইসরায়েল সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা আমাদের এই নীতি (চুক্তি) থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কারণ তারা এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চান।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্স এর আগে একাধিকবার ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রকাশ্য দূরত্বের মধ্যেই তার এই নতুন বক্তব্য সামনে এসেছে।

রোগানের পডকাস্টে তিনি জানান, যে চুক্তির পেছনে ছুটছিলাম, সেটিকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি বিদেশি প্রভাব খাটানোর ক্যাম্পেইনে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তিনি সোমবার (১৩ জুলাই) টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন নাগরিকদের চিন্তাভাবনা ও ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ট্রাম্পের সাবেক এক নির্বাচনী প্রচারণাকারীকে নিয়োগ করা হয়েছিল।

ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ও চুক্তিকে লাইনচ্যুত করতে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রচার অভিযান আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকিয়ে রাখতে মার্কিন জনমতকে ম্যানিপুলেট ও পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন।

ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট এই প্রভাব খাটানোর প্রচারণার মূল লক্ষ্য সম্ভবত ট্রাম্পের ‘মাগা’ (Make America Great Again) সমর্থক গোষ্ঠী। কুলহানে ব্যাখ্যা করেন, রোগান দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পডকাস্টার এবং তিনি মাগা ঘাঁটির তরুণদের চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর কারণে এই ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পেইন তাকে ব্যক্তিগতভাবেও নিশানা করেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট দেশের জন্য যে আলোচনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা আক্ষরিক অর্থে পূরণ করার চেষ্টা করার অপরাধে আমাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মিত্র ও শত্রু নির্বিশেষে সবাই মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং এটি নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যখন এটি করার চেষ্টা করে তখন আমি কিছু মনে করি না। তবে যে অপারেশন বা প্রভাব খাটানোর ক্যাম্পেইনগুলো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিচারবুদ্ধিকে প্রভাবিত করে, সেটাই আমাকে সত্যিই বিরক্ত করে।

গত মাসে ইরানের সঙ্গে যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হয়েছিল, ইসরায়েলে সেটির তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ভ্যান্স তার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এই চুক্তিটি অনেকটাই ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- ইসরায়েলি প্রভাব না থাকলে কি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে এই সাম্প্রতিক যুদ্ধে জড়াতো? জবাবে ভ্যান্স বলেন, হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি। তিনি যোগ করেন, আমি মনে করি ইসরায়েলের যে কোনো প্রভাবের বাইরে গিয়েও প্রেসিডেন্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এবং আমি এর সঙ্গে একমত যে, ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।

এর আগে গত জুনেও ইরান চুক্তির ইসরায়েলি সমালোচকদের কঠোর ভাষায় ধমক দিয়েছিলেন ভ্যান্স। সে সময় ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরায়েলের একমাত্র প্রকৃত বন্ধু।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস ভ্যান্সের এই সর্বশেষ মন্তব্যকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এর মাধ্যমে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে একই অবস্থানে নেই। বর্তমানে ‘দ্য নিউ রিপাবলিক’-এর কলামিস্ট পিঙ্কাস আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন ভাইস প্রেসিডেন্ট এর আগে কখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেননি। অতীতে মতবিরোধ বা মৃদু দ্বন্দ্ব ছিল, তবে একজন দায়িত্বরত ভাইস প্রেসিডেন্ট এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি প্রভাব খাটানোর প্রচারণার বিরুদ্ধে এত জোরালো, স্পষ্ট ও রূঢ়ভাবে কথা বলবেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন ও চমকপ্রদ।

আল জাজিরার সাংবাদিক কুলহানেও ভ্যান্সের এই মন্তব্যকে ‘অশ্রুতপূর্ব’ অর্থাৎ আগে কখনো শোনা যায়নি এমন বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া এই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে থাকা বিতর্কের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ে এপস্টেইনের সুনির্দিষ্ট কিছু সংযোগ ছিল।

জেডি ভ্যান্সের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোয়ারের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


জোয়ারের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. মাহি নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লা গ্রামের রিকশা চালক মামুনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশে চোরা খাল থেকে শিশুটির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহি একই গ্রামের মো. মামুনের ছেলে। স্থানীয়দের মতে, মাহির বাবা পেশায় একজন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক। চলতি বছরের মে মাসে মাহির বাবা মোল্লা গ্রামে এসে নতুন বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। লঘুচাপের প্রভাবের কারণে গত কয়েক দিন ধরে মোল্লা গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত রয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে মাহির মা তাহমিনা আক্তার তাকে ঘরে রেখে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে বাইরে যান। এ সময় শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। পরে বিকেল ৪টার দিকে প্রতিবেশী বেলাল ওই শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনায় বড় পর্দার আয়োজন ঢাবি ক্লাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনায় বড় পর্দার আয়োজন ঢাবি ক্লাবে

 

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচকে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব। ক্লাব প্রাঙ্গণে, আগামী ১৯ জুলাই (রবিবার) দিবাগত রাত ১টায়, সদস্যরা এই ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) তারিখে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাবের কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে সম্মানিত সদস্যদের ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করার জন্য উপস্থিত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, সদস্যদের উপস্থিতিতে এ আয়োজন আরো আনন্দময় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনের বনজীবীদের কষ্টের জীবন, কঠোর পরিশ্রমেও অভাব সবসময় সঙ্গী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


সুন্দরবনের বনজীবীদের কষ্টের জীবন, কঠোর পরিশ্রমেও অভাব সবসময় সঙ্গী

 

‘একদিকে সুন্দরবনের বেশির ভাগ জায়গায় মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়ে অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে সরকার। আবার বনদস্যুর ব্যাপক অত্যাচার, টাকা ছাড়া বনে পা দেওয়া যায় না।

মহাজন তো আছেই। পরিশ্রম করি ঠিকই কিন্তু টাকা ও সুখ দেখতে পাইনা। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা নিয়ে নেন, প্রথমে মাছ, এরপর নগদ টাকা কেটে নেন। আইগা শুধুই কষ্টই থাকে।’ এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামের জেলে আবু মুসা।

শুধু আবু মুসাই নন, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। সুন্দরবনের সংরক্ষিত অঞ্চল বৃদ্ধি পাওয়ায়, বনদস্যুর অত্যাচার, অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে আছ আহরণ, অসাধু বনকর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ায় গত এক দশকে মৎস্য আহরণ, মধু আহরণ, বনজ সম্পদ আহরণসহ নানা উপায়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমছে। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করা সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল বনজীবীদের সচ্ছল জীবনযাপন এখন কাটে অভাব অনটনে।

অভাব যেন নিত্য সঙ্গী। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে বর্তমানে তাঁরা নানা সংকটে দিন পার করছেন।

১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ‘ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারেরই মালিকানা বাংলাদেশের। খুলনার সর্বদক্ষিণের সুন্দরবন ঘেরা সমুদ্র উপকূলবর্তী উপজেলা কয়রা। উপজেলাটির মোট আয়তন সুন্দরবনসহ ১ হাজার ৭৭৫ দশমিক ৪১ বর্গকিলোমিটার এবং সুন্দরবন বাদে ২৬৩ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার।

কয়রায় বসবাসরত ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। কয়রা ছাড়াও সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব জনগণ বসবাস করে, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করেন। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। নারীরা কখনো পুরুষের নৌকায় সুন্দরবনে যান মাছ ধরতে। শিশুরা হাঁটাচলা শিখে বাইরে বের হওয়ার পর থেকেই প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে বনের কাজে। এত কষ্টের পরেও সুন্দরবন লাগোয়া গ্রামগুলোর বনজীবীদের কষ্টের দিন শেষ হয় না। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী (কোম্পানি নাম ধারী) কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি। আর অসাধু কোম্পানি ব্যবসায়ী এ সুযোগে করেন সদ্ব্যবহার সারা বছর তাদের আয়ের একটা পথ নেন তৈরি করে। ঋণ-দাদনের কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

সরেজমিনের কয়রা এলাকা ঘুরে, ওপারে সুন্দরবন, এপারে লোকালয়, মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে কম প্রশস্তের ছোট্ট নদী শাকবাড়িয়া। এ নদীর পারে সুন্দরবন লাগোয়া গ্রাম, মহেশ্বরীপুর, তেঁতুলতলার চর, মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিভাঙ্গা, চৌকুনি, গিলাবাড়ি, হাতিয়ারডাঙ্গা, ভাগবা, কাটকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা, গোলখালী ঘুরে বনজীবীদের জীবন সংগ্রামের নানা তথ্য মেলে।

মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। তিনি দাবি করেন, ফরেস্টের ঘাটে ঘাটে টাকা দিলে গভীরে যাওয়া যায়। কিন্তু পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি। জানি না এভাবে আর কতদিন চলতে পারব। আমাদের যদি একটু অন্য কোনো আয়ের ব্যবস্থা কেউ করে দিত।’

৬নং গ্রামের জেলে রজব আলি বলেন, ‘সরকারই পারে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে। নতুবা আমাদের অভাব কোনো দিন শেষ হবে না।’

৫নং কয়রা ও ৬নং কয়রা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জেলে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুমাচ্ছেন। আবার অনেকে ছোট মাছ ধরার জাল বুনছেন। কেউ কেউ নদীতে খাওয়ার মাছ ধরতে গেছেন।

সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য জাল বুনে প্রস্তুতি সারছিলেন এই গ্রামের ৬নং কয়রা গ্রামের জেলে আবু তালেব সরদার। তিনি বলেন, ‘গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার ১০ হাজার টাকার ওপর লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। যে কদিন যাওয়া যায়, গিয়েই-বা কী করব? দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে এ গ্রামের জেলেরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন বাড়িতে এসে জেলেদের অনেক বড় কথা ও অনেক সময় মারধরও করেন।’

সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্টের (আইসিডি) প্রতিষ্ঠাতা মো. আশিকুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে বনে প্রবেশ না করেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক এসব মানুষকে নতুন আয়ের পথ খুলে দেওয়া সম্ভব, যা অবদান রাখতে পারে সুন্দরবনের অর্থনীতিতেও। সুন্দরবনকেন্দ্রিক অনেক বিকল্প ব্যবস্থা আছে।’

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহম্মেদ বলেন, ‘সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকি নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ‘আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%