ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জন গ্রেপ্তার


কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের অপরাধ জগতের লাগাম টানতে সদর মডেল থানা পুলিশ একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছে। এর ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও মাদকসেবী রয়েছে। একই সময়ে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনের মধ্যে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী এবং ৮৬ জন মাদক কারবারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ৩৪০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৩৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে বাগমারা ইসলামী আলিম মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থী ফেল

তিনি আরও বলেন, "পুলিশ জনগণের বন্ধু এ ধারণা বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।" কক্সবাজার সদর থানাকে দালালমুক্ত রাখা হয়েছে। মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যেকোনো সেবা পেতে পুলিশকে টাকা দিতে হচ্ছে না। সেবাপ্রার্থীরা সরাসরি ও নির্বিঘ্নে সেবা পাচ্ছেন।

এদিকে, স্থানীয়দের মতে, সদর থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও টহলের ফলে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল জোনে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। পর্যটন স্পটগুলোতেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম ও জীবনবোধ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়: মামুনুর রশীদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির লাশ আজ দেশে আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ এম


রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির লাশ আজ দেশে আসছে

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। আশা করা হচ্ছে, সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

এ তথ্যটি গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে জানানো হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ আগুনের কারণে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ তাত্ক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

নিহত সাতজনের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব, মো. সাগর আলী, নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম এবং মো. সাব্বির হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ এম


লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত

কুমিল্লার লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার বাটিয়া ভিটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ইয়াছিন আরাফাত, যিনি মান্দ্রা দাখিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের আবুল খায়েরের পুত্র।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াছিন কুমিল্লা সদরে তার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বাটিয়া ভিটা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি লরি তার মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে লরিটিকে ধাওয়া করে লাকসামের চন্দনা এলাকায় আটক করেন। এ সময় লরির চালক ও হেলপারকে স্থানীয়রা আটক করে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করবে, তারাই সফলকাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ এম


যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করবে, তারাই সফলকাম

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করবে তারাই সফলকাম। নবী (সা.) এর আনুগত্য করা ফরজ বিধান। নবীজির (সা.) সিরাত থেকে যত হেদায়েত পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাস রাখা মু’মিনের কাজ। যারা এই আদর্শ গ্রহণ করবে না তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। খতিব বলেন, নবী (সা.) এর সিরাতকে আবশ্যিকভাবে মেনে নিতে হবে। নবীর সিরাতের উপর ঈমান আনা মু’মিনের সার্থকতা। নবীর যাবতীয় শরীয়তকে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তব জীবনে তা কাজে লাগাতে হবে। আল্লাহ বলেন, "যদি তোমরা আখেরাতের ওপর ঈমান আনো, তাহলে রাসূল (সা.) তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।"

ঢাকার মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনী গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, মুয়াজ্জিন হলেন সেই মহান ব্যক্তি, যিনি প্রতিদিন আজান ও ইকামতের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা প্রচার করেন। তিনি বিশ্ববাসীর সামনে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব তুলে ধরেন, নবুয়তের সাক্ষ্য দেন এবং মানুষকে সালাত ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, সব ক্ষমতার উৎস কেবল মহান আল্লাহ তাআলা। ইসলামে আজান কেবল সালাতের সময় জানানোর মাধ্যম নয়; এটি হলো মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর রাসূলের (সা.) সুমহান ঘোষণা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রশংসায় ইরশাদ করেছেন: "আর ওই ব্যক্তির কথার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বলেছে, 'নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত'।" সূরা হা-মীম সিজদাহ: ৩৩

তাফসিরবিদগণ বলেন, এই আয়াতের শান ও মর্যাদার সাথে মুয়াজ্জিনগণ সরাসরি সম্পৃক্ত। যারা প্রতিদিন সুউচ্চ কণ্ঠে মানুষকে স্রষ্টার পানে ডেকে নিয়ে আসেন, তাদের চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে? পক্ষান্তরে, আজানকে উপহাসকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন: "আর যখন তোমরা সালাতের দিকে আহ্বান করো (আজান দাও), তখন তারা একে উপহাস ও খেলার বস্তু বানিয়ে নেয়।" সূরা আল-মায়েদা: ৫৮। খতিব বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করে বলেছেনÑ"ইমাম হলো জামিন (দায়িত্বশীল) আর মুয়াজ্জিন হলো বিশ্বস্ত আমানতদার। হে আল্লাহ! আপনি ইমামগণকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করুন।" আবু দাউদ: ৫১৭ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ছয় বছর আজান দেয়, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি অবধারিত হয়ে যায়। তিরমিজি: ২০৮।

ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল জুমার খুতবার-পূর্ব বয়ানে বলেন, নামাজই পারে মানুষকে অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে। সুতরাং যার নামাজ ঠিক, তার সবকিছু ঠিক। যার নামাজে ভেজাল, তার সব কাজে ভেজাল। যার নামাজ ঠিক হয়ে যাবে, তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন, এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনসহ প্রত্যেকটা সেক্টরই শান্তির ছায়া বয়ে আনবে। নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো নাÑ যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ো নাÑ যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও ধন-সম্পদ ত্যাগ করতে আদেশ করেন। জেনেশুনে কখনো ফরজ সালাত ত্যাগ করো না; কারণ যে ব্যক্তি জেনেশুনে ফরজ সালাত ত্যাগ করে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারী উঠে যায়। মদ পান করো না, কারণ তা সমস্ত অশ্লীলতার চাবি। আর পাপ কাজ থেকে দূরে থাকো, কেননা পাপ কাজের কারণে মহান আল্লাহর গজব নেমে আসে। সুদ-ঘুষ-লুটতরাজ-ছিনতাই, গীবত ইত্যাদি এ সমস্ত ভয়ংকর অপরাধ থেকে নামাজের পূর্বে তওবা না করলে এবং নামাজের পরে এ সমস্ত অপরাধে লিপ্ত হবে না এই নিয়ত না থাকলে তার এ নামাজ তাকে অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। খতিব বলেন, মাদান ইবনু তালহা আল ইয়ামারী (রহ.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি প্রথমে চুপ থাকলেও তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করার পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সূত্রে এই বাণী শোনালেন:

"তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখন আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৮) হযরত রাবীআহ ইবনু কাআ’ব আল আসলামী (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে রাতযাপন করছিলাম। আমি তার অজুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিলাম। তখন তিনি বললেন, কিছু চাও। আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সান্নিধ্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এ ছাড়া আর কিছু আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তখন তিনি বললেন, "তা হলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৯)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৬২)। আল্লাহ আমাদের সকলকে পরিপূর্ণ নামাজী হয়ে দুনিয়া থেকে যাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই-এর স্বস্তিতে সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ এম


এআই-এর স্বস্তিতে সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (আরটিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) মানুষের কাজের ধরন, তথ্য সংগ্রহ, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। ছবি, লেখা, ভিডিও, গবেষণার খসড়া এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান তৈরি হচ্ছে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। যে কাজগুলোতে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা এআইয়ের সহায়তায় অল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা জমা হচ্ছে। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কি মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে দুর্বল করছে? এর পেছনে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যয় হচ্ছে! পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব পড়ছে? এবং যদি কোনো কারণে এআইয়ের সেবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ১৫০ থেকে প্রায় ২০০ কোটির বেশি মানুষ কতটা বিপাকে পড়বে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় এখন সময় সাপেক্ষ অনেক কাজ মুহূর্তেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট, সাংবাদিকের প্রতিবেদনের খসড়া, কর্মীর দাফতরিক কাজ কিংবা ব্যবসায়ীর পরিকল্পনাÑসবখানেই বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। মানুষের সময় বাঁচছে, শ্রম কমছে এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে। তবে এই স্বস্তির আড়ালে ধীরে ধীরে সংকটের সম্ভাবনা জমা হচ্ছে। যদি মানুষ চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীলতার বড় অংশই যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেয়, তবে নিজের মেধার চর্চা কতটা থাকবে? কোনো কারণে এআই সেবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকবে? আর কয়েক সেকেন্ডে উত্তর পাওয়া এই প্রযুক্তির জন্য যে বিপুল বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন, তার দীর্ঘমেয়াদি মূল্যই-বা কে দেবে? এআইয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ, জটিল বিষয় সহজভাবে উপস্থাপন এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার সক্ষমতা। চিকিৎসায় রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা, কৃষিতে আবহাওয়া ও ফসলের তথ্য বিশ্লেষণ, শিক্ষায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক পাঠদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বাভাস বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে সীমিত সময় ও সম্পদ দিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মো. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল ইনকিলাবকে বলেন, এআই প্রযুক্তিতে সার্ভার তুলনামূলক বেশি হিট হয় এবং এর মাত্রা কমানোর জন্য পানি বা তরল জাতীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। যদি এর বিকল্প তৈরি না করা যায়, তবে পরিবেশের উপর স্থায়ী ক্ষতিকর ইফেক্ট পড়বে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একেবারে চলে যাবে এমনটি আমরা বিশ্বাস করি না। তবে সংকট তৈরি হবে না একথাও বলা যাবে না। সহজ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দে কাজ করার জন্য যন্ত্রাংশ হিসাবে এআই ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তির উপর শতভাগ নির্ভর করা কখনোই ঠিক নয়। প্রত্যেক জিনিসের ভালো এবং খারাপ উভয় দিক থাকে। তবে খারাপের উপর নির্ভর না করে আমরা যদি এর ভালো দিকগুলো ব্যবহার করতে পারি, তাহলে তা নিঃসন্দেহে সকলের জন্য ফলপ্রদর্শক। তবে প্রযুক্তিটি কোন খারাপ লোক নিশ্চয়ই ভালো ব্যবহার করবে না। এআই মেধাবিকাশের সীমাবদ্ধতা নয় বরং সঠিক ব্যবহারে মেধাকে আরো প্রগতিশীল করা সম্ভব। যদি সঠিক পরিকল্পনা এবং লম্বা সময় ব্যবহার উপযোগী করে পলিসি মেকিং করা যায়, তাহলে তা ইভ্যালুয়েশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের জীবনের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে তার খারাপ দিক থাকলেও তা কোনভাবেই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করলে অবশ্যই সবার জন্য কল্যাণকর। তবে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ। এআই এর ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তির কমান্ড।

এআই এর জনক মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্র্থি তার একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, এআই যখন মরণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা মানবজাতির জন্য চরম ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রযুক্তির ভালো এবং খারাপ উভয় দিক সকলের সামনে উন্মোচন করা উচিত এবং আগে বিষয় সম্পর্কে জেনে তারপর সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এআই তখনই মানুষের জন্য বেশি বিপদজনক হবে যখন সে নিজেই তার চেয়ে শক্তিশালী এআই তৈরি করতে পারবে। কিছু খারাপের জন্য সম্ভাবনাময়ী কোন প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনী বন্ধ রাখা উচিত নয়।

এছাড়া, পরিবেশগত প্রভাব এবং অনির্দিষ্টমাত্রায় বিদ্যুতেরও ব্যবহার রয়েছে এই প্রযুক্তিতে। প্রতি ছবিতে ৩ ওয়াট ধরে গড়ে ১০ লক্ষ্য ছবির জন্য মোট বিদ্যুৎ লাগবে প্রায় ৩,০০০ কিলোওয়াট। প্রতি ছবিতে পানির ব্যবহার ৩-৩০ মিলিলিটার ধরে হিসাব করলে মোট হবে প্রায় ৩,০০০-৩০,০০০ লিটার বা তার বেশি হতে পারে। এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে এর পেছনের অবকাঠামোর ওপরও চাপ বাড়ছে। পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য বড় ডেটা সেন্টার প্রয়োজন, যেখানে অসংখ্য সার্ভার চালু রাখতে বিপুল বিদ্যুৎ লাগে। সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপ নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজন হয় শীতলীকরণব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে এতে সরাসরি পানি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিপ তৈরির মতো পরোক্ষ প্রক্রিয়াতেও পানির প্রয়োজন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ২০২৫ সালের ‘এনার্জি এ্যান্ড এআই’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে বছরে ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। একই প্রতিবেদনে ডেটা সেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। একই বছর একটি গবেষণায় ১৭টি ইমেজ জেনারেশন মডেল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মডেলভেদে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৪৬ গুণ পার্থক্য থাকতে পারে। অন্যদিকে, একটি ছবির জন্য ঠিক কতটুকু পানি লাগে, তার সর্বজনীন ও সরাসরি পরিমাপ এখনো নেই। ডেটা সেন্টারের শীতলীকরণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানি বিবেচনায় নিলে ছবি প্রতি পানির ব্যবহার কয়েক মিলিলিটার হতে পারে।

পানি বা বিদ্যুতের ব্যবহার ব্যতি রেখেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রফেসর মো. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল বলেন, অবশ্যই এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা উচিত, যা আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। এর প্রযুক্তির পাওয়ার কনজিউম গ্রীন করার জন্য একাধিক পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এটি এ ব্যবহৃত টিপগুলো শুধুমাত্র কুলিং ফ্যান ব্যবহার করে শীতল রাখা সম্ভব নয়, তার জন্য তরল কোন পদার্থ ব্যবহার করতে হয়। এআই এর মত এত শক্তিশালী এবং অধিক ব্যবহৃত একটা প্রযুক্তিকে চাইলেই পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে এ আই চিপ কে ডেভেলপ করে গ্রিন করার পরিকল্পনা করেছি। যেহেতু আমাদের দেশে বিদ্যুতের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে, আমরা চাইলেও ২৪/৭ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তার সচল রাখতে পারব না। ফলে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি কিভাবে সৌর বিদ্যুৎ এবং সংশ্লিষ্ট পাওয়ার ব্যবহার করে এ ব্যবহার করা যায় তা তৈরি করতে।

এবার, ধরা যাক কোনো কারণে হঠাৎ এআই সেবা বন্ধ হয়ে গেল, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিল। তখন কী হবে? যারা এআইয়ের সাহায্যে কাজ করলেও নিজেরা বিষয়টি বোঝেন, তারা বিকল্প পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু যারা তথ্য যাচাই, লেখা, হিসাব কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রায় সব দায়িত্ব প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন। এআই বন্ধ হলেই সব কার্যক্রম থেমে যাবে, এমন নয়। তবে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমতে পারে, কিছু সেবা ব্যাহত হতে পারে এবং বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে এআইয়ের পাশাপাশি মৌলিক দক্ষতা, নিজস্ব চিন্তাশক্তি এবং প্রযুক্তি ছাড়াও কাজ করার সক্ষমতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি এর ওপর অন্ধ নির্ভরতাও নিরাপদ নয়। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার, তথ্য যাচাই, মৌলিক দক্ষতার অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি ও পানির ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছতা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দায় রয়েছে। একজন লেখক যখন নিজে বিষয় নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ, ভাষা নির্মাণ ও সম্পাদনার মধ্য দিয়ে একটি লেখা তৈরি করেন, তখন তাঁর অভিজ্ঞতা ও চিন্তার বিকাশ ঘটে। বিপরীতে, এআইয়ের তৈরি লেখা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করলে সেই অনুশীলনের সুযোগ কমে যায়। এআই দিয়ে করালে তাৎক্ষণিক ফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এআই মানুষের সময় বাঁচাচ্ছে, উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু সেই স্বস্তির মূল্য যদি হয় চিন্তার চর্চা কমে যাওয়া, সৃজনশীলতার সংকোচন, প্রযুক্তির ওপর অতিনির্ভরতা কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ, তাহলে অগ্রগতির হিসাব নতুন করে ভাবতে হবে। প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করবে, কিন্তু মানুষের চিন্তা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎকে তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তুলবে না। এ ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%