০৪:৩১ এম
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করবে তারাই সফলকাম। নবী (সা.) এর আনুগত্য করা ফরজ বিধান। নবীজির (সা.) সিরাত থেকে যত হেদায়েত পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাস রাখা মু’মিনের কাজ। যারা এই আদর্শ গ্রহণ করবে না তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। খতিব বলেন, নবী (সা.) এর সিরাতকে আবশ্যিকভাবে মেনে নিতে হবে। নবীর সিরাতের উপর ঈমান আনা মু’মিনের সার্থকতা। নবীর যাবতীয় শরীয়তকে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তব জীবনে তা কাজে লাগাতে হবে। আল্লাহ বলেন, "যদি তোমরা আখেরাতের ওপর ঈমান আনো, তাহলে রাসূল (সা.) তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।"
ঢাকার মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনী গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, মুয়াজ্জিন হলেন সেই মহান ব্যক্তি, যিনি প্রতিদিন আজান ও ইকামতের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা প্রচার করেন। তিনি বিশ্ববাসীর সামনে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব তুলে ধরেন, নবুয়তের সাক্ষ্য দেন এবং মানুষকে সালাত ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, সব ক্ষমতার উৎস কেবল মহান আল্লাহ তাআলা। ইসলামে আজান কেবল সালাতের সময় জানানোর মাধ্যম নয়; এটি হলো মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর রাসূলের (সা.) সুমহান ঘোষণা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রশংসায় ইরশাদ করেছেন: "আর ওই ব্যক্তির কথার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বলেছে, 'নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত'।" সূরা হা-মীম সিজদাহ: ৩৩
তাফসিরবিদগণ বলেন, এই আয়াতের শান ও মর্যাদার সাথে মুয়াজ্জিনগণ সরাসরি সম্পৃক্ত। যারা প্রতিদিন সুউচ্চ কণ্ঠে মানুষকে স্রষ্টার পানে ডেকে নিয়ে আসেন, তাদের চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে? পক্ষান্তরে, আজানকে উপহাসকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন: "আর যখন তোমরা সালাতের দিকে আহ্বান করো (আজান দাও), তখন তারা একে উপহাস ও খেলার বস্তু বানিয়ে নেয়।" সূরা আল-মায়েদা: ৫৮। খতিব বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করে বলেছেনÑ"ইমাম হলো জামিন (দায়িত্বশীল) আর মুয়াজ্জিন হলো বিশ্বস্ত আমানতদার। হে আল্লাহ! আপনি ইমামগণকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করুন।" আবু দাউদ: ৫১৭ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ছয় বছর আজান দেয়, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি অবধারিত হয়ে যায়। তিরমিজি: ২০৮।
আরও পড়ুন: মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ মুসলিম চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ
ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল জুমার খুতবার-পূর্ব বয়ানে বলেন, নামাজই পারে মানুষকে অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে। সুতরাং যার নামাজ ঠিক, তার সবকিছু ঠিক। যার নামাজে ভেজাল, তার সব কাজে ভেজাল। যার নামাজ ঠিক হয়ে যাবে, তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন, এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনসহ প্রত্যেকটা সেক্টরই শান্তির ছায়া বয়ে আনবে। নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো নাÑ যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ো নাÑ যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও ধন-সম্পদ ত্যাগ করতে আদেশ করেন। জেনেশুনে কখনো ফরজ সালাত ত্যাগ করো না; কারণ যে ব্যক্তি জেনেশুনে ফরজ সালাত ত্যাগ করে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারী উঠে যায়। মদ পান করো না, কারণ তা সমস্ত অশ্লীলতার চাবি। আর পাপ কাজ থেকে দূরে থাকো, কেননা পাপ কাজের কারণে মহান আল্লাহর গজব নেমে আসে। সুদ-ঘুষ-লুটতরাজ-ছিনতাই, গীবত ইত্যাদি এ সমস্ত ভয়ংকর অপরাধ থেকে নামাজের পূর্বে তওবা না করলে এবং নামাজের পরে এ সমস্ত অপরাধে লিপ্ত হবে না এই নিয়ত না থাকলে তার এ নামাজ তাকে অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। খতিব বলেন, মাদান ইবনু তালহা আল ইয়ামারী (রহ.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি প্রথমে চুপ থাকলেও তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করার পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সূত্রে এই বাণী শোনালেন:
"তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখন আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৮) হযরত রাবীআহ ইবনু কাআ’ব আল আসলামী (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে রাতযাপন করছিলাম। আমি তার অজুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিলাম। তখন তিনি বললেন, কিছু চাও। আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সান্নিধ্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এ ছাড়া আর কিছু আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তখন তিনি বললেন, "তা হলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৯)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৬২)। আল্লাহ আমাদের সকলকে পরিপূর্ণ নামাজী হয়ে দুনিয়া থেকে যাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন