মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৩ পি.এম
রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে এই প্রণোদনার বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়।
সরকারপ্রধান ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চাপিয়ে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।
এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পরে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে এদিন সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটো পথসভায় অংশ নেন এবং পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মঙ্গলবার নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এ উদ্যোগ গ্রহণ করছে জোটটি।
এএফপি’র হাতে আসা ইইউ’র নতুন ‘আর্কটিক কৌশল’-এর খসড়া অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, বরফভাঙা জাহাজ এবং সমুদ্রের তলদেশের যোগাযোগ কেবলের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে চায় জোটটি। আর্কটিক ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
ব্রাসেলস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইইউ’র আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ববিষয়ক প্রধান জোজেফ সিকেলা মন্তব্য করেন, ‘আর্কটিকের নতুন বাস্তবতায় ইউরোপকে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে হবে। আমাদের নতুন কৌশলের লক্ষ্য ঠিক এটাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মতো অঞ্চলের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জগুলো এতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে ইউরোপের কীভাবে সাড়া দেওয়া উচিত, তাও এতে নির্ধারণ করা হয়েছে।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের বরফ গলে যাওয়ার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ সেখানে তাদের কার্যক্রম জোরদার করছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও নতুন সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্যের মধ্যে তিনটি দেশ— ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন— আর্কটিক অঞ্চলের দেশ। ফলে এ অঞ্চলে ইইউর গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে।
এদিকে, ডেনমার্কের বিশাল স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বারবার হুমকি ইউরোপকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
উত্তর মেরু অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির প্রভাব আরও দক্ষিণের এলাকাতেও পড়ে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইইউ’র প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন নতুন কৌশলটি উপস্থাপন করবেন।
এর লক্ষ্য হলো অঞ্চলটি নিয়ে ইইউ’র সদস্যদেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করা।
এএফপির হাতে আসা খসড়ায় কানাডা, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মতো ইইউ’র বাইরের ‘সমমনা’ দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে ‘উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী’ অংশীদারদের নিয়ে নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলনেরও প্রস্তাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে?-
সম্প্রতি পর্যন্ত আর্কটিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে নথিটির বাকি অংশে দেশটির অনুপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
বছরের শুরু থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। তা সত্ত্বেও ইউরোপের অনেকেই এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
২০ পৃষ্ঠার নথিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাম মাত্র কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কানাডার নাম এসেছে প্রায় দুই ডজনবার।
কৌশলটিতে এমন কয়েকটি উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর লক্ষ্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানো বলে মনে হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপনে একটি ‘সার্বভৌম ও নিরাপদ’ সাবমেরিন কেবল বসানোর পরিকল্পনা করছে ব্রাসেলস। বৃহত্তর ‘প্যান-আর্কটিক’ কেবল প্রকল্পের অংশ হিসেবে এটি স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘আইরিস’ নামের একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক প্রকল্পের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে জোটটি। ইলন মাস্কের স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এ প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
আগ্রাসী রাশিয়াকে মোকাবিলার বিষয়টিও ইইউ’র অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। নথিতে ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও সমুদ্রের তলদেশের কেবলে নাশকতার মতো প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে পরিচালিত হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনকারী মস্কোর কথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে কৌশলটিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধন করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে।
মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য ছিল।
স্পিকার ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’
তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। স্পিকার ইশরাক হোসেনের অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইশরাক হোসেন ভালো কাজই করতে চেয়েছিলেন। তিনি মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই গিয়েছিলেন। কিন্তু একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো অস্ত্র নেওয়া মানায় না, শোভা পায় না। ফলে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।’
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলের চাল পাবে না।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করে। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যে, ভোটের অধিকার থাকায় মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পায়।’ তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি কমে আসার কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার এবং সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মন্তব্য করেছেন যে, রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। নেতাদের পেছনে ঘুরে নেতা হওয়ার পুরোনো রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সনাতনী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে মোট ১৪০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগের দিনের সেই হট্টগোল এবং নেতাদের পেছনে ঘুরে নেতা হওয়ার রাজনীতির কবর রচনা করা হয়েছে। রাজনীতি করতে হলে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মন জয় করতে হবে।
এ সময় মাদক কারবারিদের প্রতি হুঁশিয়ারি প্রদান করে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য বিক্রি, সেবন কিংবা জুয়াসহ কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করতে হবে। ইতোমধ্যে বহু অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করার কাজ চলছে। শিক্ষকেরা সম্মানিত হলে এবং উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এ ছাড়া মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবার মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর ওপর বহুপ্রতিক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক কার্গো সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা সহ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট ৬টি দাবি তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মাঝে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বক্তব্যের শুরুতেই মিনু রাজশাহীকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় মাটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর কৃষি, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে বর্তমান সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
জনসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাজশাহীবাসীর পক্ষে সুনির্দিষ্ট ৬টি দাবি তুলে ধরেন:
১. পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ: ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব থেকে উত্তরাঞ্চলের কৃষিব্যবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা।
২. রামেক হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করা।
৩. শিশু হাসপাতাল চালু: রাজশাহীতে নির্মিত আধুনিক শিশু হাসপাতালটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা।
৪. বিমানবন্দরে কার্গো সার্ভিস: হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু করা, যাতে অঞ্চলের কৃষিপণ্য সরাসরি সিঙ্গাপুর ও দুবাইসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
৫. বাইপাস সড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ: দেশের অন্যতম প্রথম রাজশাহী বাইপাস সড়ককে আধুনিকায়ন করে দ্রুত ৬ লেনে রূপান্তর করা।
৬. ডেন্টাল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ চালু করা এবং বিশেষায়িত একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, কৃষিপ্রধান বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হলে রাজশাহীর অর্থনীতি নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্য শোনেন এবং দাবিনামা গ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ