ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফকির জহির রহমানকে কুপিয়ে হত্যা


সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফকির জহির রহমানকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় ফকির জহির রহমান (৪০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, নিহত জহির আড়াইহাজার থানার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওসি আরও জানান, জহিরের বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও তিনি কয়েক বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসি রয়েছে।

আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সড়কে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেছেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তবে হত্যার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল বারিক। তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপিদের খুশি করতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০০ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


এমপিদের খুশি করতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০০ কোটি টাকা

প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৪ শতাংশের কাছাকাছি। শত শত সড়ক ও সেতুর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতাধীন কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও জানানো হয়েছে। অথচ প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একলাফে ৪,০০০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) প্রস্তাবিত ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ (আইআরআইডিপি-৩) বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আপত্তির মধ্যেও বিপুল ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি নাÑএমন প্রশ্ন তুলেছেন পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাছাই ও বাস্তবায়ন করবে। দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় আসনগুলোতে নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ দেখাতে পারেননি এমপিরা। নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজও দিতে পারছেন না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করতে পারায় কিছু এমপি এলাকায় চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যেহেতু দু-তিন বছর সময় প্রয়োজন, তাই পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে এলাকায় কাজ নিতে চাইছেন তারা।

পিইসি সভার সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে সড়ক নির্মাণ, সেতু-কালভার্ট ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। অথচ দেশের আট বিভাগে প্রকল্পটির মতো একই ধরনের পৃথক প্রকল্প নেওয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে শেষ সময়ে পুরোনো প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে বিপুল অর্থ ঢালার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সভায় আপত্তি জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬,৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল ওই বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রথম সংশোধনে ব্যয় সামান্য বাড়িয়ে ৬,৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করা হয়। সময় বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনে একই ব্যয় রেখে সময় আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

এখন তৃতীয় সংশোধনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ব্যয় বাড়ছে ৪,০৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যা মূল ডিপিপির প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ আমার দেশকে বলেন, বাস্তবায়নের শেষপ্রান্তে এসে প্রকল্পে নতুন করে ৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো এবং মেয়াদ সম্প্রসারণের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ৯৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়া একটি প্রকল্পে প্রায় সাত বছর পর এসে এ ধরনের অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া সুযোগের অপব্যবহার।

তিনি বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর অজুহাতে পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর দিয়ে নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে গেলে সম্ভাব্য যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ নানা শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে এসব আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতেই কৌশল হিসেবে শেষ মুহূর্তের প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ সংযোজনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কাজে ৯৪ শতাংশ শেষ হওয়ার সঙ্গে শতভাগ সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

মামুন আল রশীদ বলেন, প্রকল্প গ্রহণে এমপিদের কোনো চাপ বা আবদার থাকলে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব হবে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা। রাজনৈতিক প্রভাবে বা কোনো গোষ্ঠীর আনুকূল্যে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হলে তা দেশের সার্বিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর।

সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে। পিইসি সভায় সংস্থাটির প্রতিনিধি সরাসরি মত দিয়েছেন, নতুন করে অঙ্গ বৃদ্ধি ও ৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটি শেষ করে প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প নেওয়াই যুক্তিসংগত। কারণ প্রকল্পটির মেয়াদ ইতোমধ্যে সাত বছর হতে চলেছে। নতুন করে প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেলে প্রকল্পটির প্রান্তিক মূল্যায়নের (পিসিআর) সময় প্রকল্প শুরুর সময়কার অধিকাংশ রাস্তার ভৌত কাজের গুণগতমান সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না।

আইএমইডির মতে, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা, জুন ২০২২-এর অনুচ্ছেদ ১.১.১২ অনুযায়ী ‘বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণভাবে অনূর্ধ্ব তিন বছর হবে।’ শিডিউল অব রেটস পরিবর্তনের কারণে তিন বছর পরপর একটি প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এ কারণে প্রকল্পের মাঝপথে সংশোধন অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এলজিইডির নিয়মিত একটি প্রকল্প। সে কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকল্প সংশোধন, মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যয় বৃদ্ধির জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যে নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনে প্রকল্পের কার্যপরিধি কমিয়ে প্রকল্পের মেয়াদকাল তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে। প্রকল্পের অধিকাংশ কোডেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার নিরিখে হ্রাস করা আবশ্যক। আট বিভাগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সমজাতীয় পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে না।

আইএমইডি জানায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৯৩.৩৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৩.৫৪ শতাংশ। প্রকল্পের ৭,২৯১টি স্কিমের মধ্যে ৬,৩৪৪টির কাজ শেষ হয়েছে। ৭৯৫টির কাজ চলমান আর ২২টি স্কিম বিভিন্ন কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

সেতুর কাজও প্রায় শেষ। মোট ১১ হাজার ১৩৬ মিটার সেতুর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৪ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্টাংশের মধ্যেও ৪০ মিটার সেতু বা কালভার্ট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এরপরও তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ৪৫ কিলোমিটার (কিমি) উপজেলা সড়ক, ২১১ কিমি ইউনিয়ন সড়ক, ২,৪৯৫ কিমি গ্রামীণ সড়ক এবং ১,০১০ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৯৯ কিমি গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের শেষপর্যায়ে এসব নতুন কাজ বাছাইয়ের ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় প্রশ্ন তোলা হয়।

পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন এলাকা ও কাজ যুক্ত করার বিষয়ে পিইসি সভার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান আমার দেশকে বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন শুরু করতে অনেক সময় লেগে যায়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নকাজের চাহিদা এসেছে। এসব কাজ দ্রুত শুরু করা এবং নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চলমান প্রকল্পে নতুন কিছু অঙ্গ ও এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তারা এসব সুপারিশ করেছেন। ফলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং জনগণের প্রয়োজন মেটানোর বিষয়টি এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল বলেন, এসব কাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর মূল্যায়ন কমিটি সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্য ঠিকাদার নির্বাচন করবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই। কাজের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতেই ঠিকাদার নির্বাচন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পিইসি সভায় প্রকল্পটির সংশোধনী পর্যালোচনার সময় ব্যয়ের বিভিন্ন খাত, কাজের স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যয় হয় এবং কাজের মান নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে গাছ লাগানোর হিসাব, ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়ন তদারকির মতো বিষয়গুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিপিপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো হবে বিভাগভিত্তিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য।

প্রকল্পগুলো যেহেতু একই ধরনের, তাই কাজের মধ্যে ওভার ল্যাপিং বা দ্বৈততার ঝুঁকি তৈরি হবে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পে কাজের ওভার ল্যাপিং বা দ্বৈততার সুযোগ খুব কম। তবে একেবারেই হবে না, সেটা বলা যাবে না। যদি হয়েও যায়, সে ক্ষেত্রে কাজের ব্যয় একটি সংস্থা থেকেই যাবে। দুটি দেওয়া যাবে না।

প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে বিভিন্ন রাজস্ব খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে পিইসি সভায় একাধিক প্রশ্ন ওঠে। বাড়িভাড়া, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, ভ্রমণ, কম্পিউটারসামগ্রী, টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভেসহ একাধিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ব্যয়ের কারণ ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট খাতগুলো পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের শেষপর্যায়ে এসে এসব খাতে বাড়তি অর্থ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

সৌদি আরবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন মিশন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তথ্যটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেন, "সৌদি আরবে শুধু জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।"

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পিগটের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। একই দিনে, সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বে তেল পরিবহনের ভাড়া ১৭ ডলার বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


বিশ্বে তেল পরিবহনের ভাড়া ১৭ ডলার বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে

ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গড় ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর মানে হলো, এক বছরের মধ্যে ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা, ট্যাংকারে হামলা ও যুদ্ধঝুঁকির কারণে পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। মার্কিন বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস জানাচ্ছে, এই সংকট শিগগিরই কাটার সম্ভাবনা কম।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ না থাকায় স্বল্প মেয়াদে তেল পরিবহনের ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি বেড়ে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে ব্যারেলপ্রতি অতিরিক্ত সাত ডলার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে চার ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য আরো চার ডলার খরচ হচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে থাকতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজে হামলা, তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দাম এ পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৩৪ ডলার। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলার।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলবাহী সুপারট্যাংকারের ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বরে পারস্য উপসাগর থেকে চীন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনে একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ছিল ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল পরিবহনে তা ১৪ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে বড় ট্যাংকারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’ নামে পরিচিত। এতে জাহাজের যাত্রার সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকার কারণে বিশ্ববাজারে ব্যবহারের উপযোগী সুপারট্যাংকারের সংখ্যা কমছে। ফলে তেল উৎপাদক ও ক্রেতারা আফরাম্যাক্স ও সুয়েজম্যাক্সের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ট্যাংকারের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্ববাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে হামলার পর তেল সরবরাহ আবারও কমেছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে দৈনিক তেল সরবরাহ কমে ৮৫ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। দুই সপ্তাহ আগে এই সরবরাহ ছিল দৈনিক দুই কোটি ব্যারেলের বেশি।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের সরবরাহে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প-কারখানার উৎপাদন খরচেও চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র : অয়েলপ্রাইস ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কানাডার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উত্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কানাডার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কানাডার রাজনীতিকেরা—এমন অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে কানাডার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে এ অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। তবে কানাডার কর্মকর্তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্য কানাডার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

বুধবার প্রকাশিত এক তথ্যপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অভিযোগ করে, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কানাডা।

তথ্যপত্রে বলা হয়, কানাডার মন্ত্রীরা ও প্রাদেশিক সরকারপ্রধানেরা সরকারি নথি ও প্রকাশ্য বক্তব্যে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনার কথা বলছেন।

২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তথ্যপত্রে কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে কানাডার পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। ওই সময় জোলি বলেছিলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু অঙ্গরাজ্যের পণ্যকেও লক্ষ্যবস্তু করছি, যেগুলোতে এর প্রভাব পড়বে। রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আমরা বিচক্ষণতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছি।’

গত সেপ্টেম্বরে বোস্টন ও শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে জোলির বৈঠক নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ওই সময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে শুল্কের বিষয়ে কী পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন? জবাবে জোলি বলেছিলেন, ‘এ কারণেই আমি এত গভর্নর ও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করছি।’

তবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করেছেন জোলি। তার বক্তব্য, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনীতিকদের সঙ্গে তার বৈঠকের উদ্দেশ্য কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। গত ১৪ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মূলত যুক্তরাষ্ট্রে আমি যা করেছি, তা হলো বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।’

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্যপত্রে অন্টারিও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ডের কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পণ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রচার চালিয়েছিল তার সরকার।

গত বছর শুরু হওয়া ওই প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ১৯৮৭ সালের একটি বেতার ভাষণের অংশ ব্যবহার করা হয়। ওই ভাষণে রিগ্যান শুল্কের সমালোচনা করেছিলেন। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেন ট্রাম্প।

তবে কানাডার কর্মকর্তাদের বাণিজ্যনীতি প্রভাবিত করার চেষ্টার এসব উদাহরণ তুলে ধরলেও সেগুলো কীভাবে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শামিল, তা ব্যাখ্যা করেনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

তথ্যপত্রে কানাডার লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্থনি হাউসফাদারের একটি কর্মকাণ্ডের কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, গত আগস্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎজের দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের আগে তার পক্ষে ফ্লোরিডায় প্রচার চালিয়েছিলেন হাউজফাদার।

এ ছাড়া ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ১১ জন কানাডীয় নাগরিকের নাম তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব নাগরিকের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কানাডা সরকারের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো উদ্যোগের যোগসূত্র তুলে ধরার মতো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব কানাডীয় নাগরিকের উচিত যেকোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নির্ধারণ করবেন মার্কিনরাই।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কর্মকাণ্ডের ওপর ওয়াশিংটন নজর রাখছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিট হোকস্ট্রা জানানোর এক সপ্তাহ পর এ তথ্যপত্র প্রকাশ করা হলো। কানাডীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কানাডিয়ান প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দ্য রিয়েলি বিগ শো’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোকস্ট্রা বলেছিলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি, মূল্যায়ন করছি। এর কোনো কিছু নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পর্যায়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র তার জবাব দেবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকিও একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে চলতি সপ্তাহে আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আগে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবারের প্রাদেশিক ভোটের আগে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছিলেন, কানাডা আশা করে, বিদেশি সরকারগুলো তাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।

গ্লোবাল নিউজকে কার্নি বলেন, ‘বিদেশি সরকারগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা একেবারে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করি না, তারাও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আলজাজিরা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ডের কার্যালয় এবং শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে প্রতিবেদনটিতে তাঁদের কোনো জবাব উল্লেখ করা হয়নি।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%