ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লিড নিয়ে থেকেও পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হার বাংলাদেশ


লিড নিয়ে থেকেও পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হার বাংলাদেশ

আজারবাইজানে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ, পর্তুগালের বিরুদ্ধে লিড নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করেছে। শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারের সম্মুখীন হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই ‘এইট-এ-সাইড’ ম্যাচটি ৪০ মিনিটের (২০ মিনিট করে দুই অর্ধে) ছিল এবং বাংলাদেশ শুরুতেই চমক দেখাতে সক্ষম হয়। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে বায়েজিদের অসাধারণ এক গোলে তরুণ লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা লিড গ্রহণ করে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশের বিরুদ্ধে এমন একটি শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার আশা জেগেছিল।

তবে, শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে পর্তুগাল দ্রুত নিজেদের শক্তি ও অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ দলের কিছু ভুল এবং প্রতিপক্ষের নান্দনিক পারফরম্যান্সের কারণে তরুণরা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি পর্তুগাল জিতে নেয়।

আরও পড়ুন: মরিনিওর লক্ষ্য শিরোপা, এল ক্লাসিকোর জয় নয়

ফিফা প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে বৈশ্বিক রূপ দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে। এই ফেস্টিভ্যালে বিশ্বজুড়ে ১৯১টি দেশ ৩২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করছে।

পর্তুগালের কাছে হারের আগে, বাংলাদেশ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে নজর কেড়েছিল। ঘরোয়া অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট ও ওপেন ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রায় দু’মাসের বেশি সময় অনুশীলন করে এই দলটি গঠন করেছে বাফুফে। আজারবাইজানের এই টুর্নামেন্টে ওয়েলসের মতো দলের সঙ্গে ড্র এবং পর্তুগালের বিপক্ষে শুরুতেই লিড নেওয়া—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের প্রতিচ্ছবিকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ঘুম না এলে এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ এম


রাতে ঘুম না এলে এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ

বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে চট করে ঘুম ভেঙে গেল, এরপর আর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা এমন একটি সমস্যা, যা অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনো ভুগে চলেছেন। অনিদ্রা কারো কারো জন্য প্রবল সমস্যা হিসেবেও আবির্ভূত হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।

মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে––এর পেছনে বেশকিছু কারণ থাকে।

বার্ধক্যের প্রভাব, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি বা রাতের পালার কাজ––এরকম নানা বিষয় অনিদ্রা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সেটাও জানা থাকা জরুরি।

বিবিসি'র ইনসাইড হেল্থ টিম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কয়েকটি পরামর্শ খুঁজে পেয়েছে।

অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?

‘আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিস্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড।

লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি 'স্লিপ ডিভোর্স' পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না এলে আমি বিছানা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটা রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটা বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্যি।

অনিদ্রার উপসর্গ কী?

ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে হতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি।

অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করেছেন ড. অর্চার্ড। তিনি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, এক বার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারো সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকালে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে।

‘এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো দুশ্চিন্তা।’

অধ্যাপক ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি।

‘দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়– জেগে না থাকলেই বিপদ!’

ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিযার কারণেও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।

ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।

ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।

এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা–– এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।

ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।

তিনি বলেন, সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেঙে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি।

‘বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো–ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি, বলেন তিনি।

খুব সহজ কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড।

একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটা বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে।

সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত না, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক না, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।

শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মন করেন ড. হেয়ার।

ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?

ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন।

বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে।

এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।

অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না।

থেরাপির একটি অংশের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।

কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।

মেলাটোনিনের বিষয়টা কী?

অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব।

এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।

ঘুমের ওপর আরও যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে

ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।

অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে?

ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে।

‘মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।

এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল।

‘এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।

নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ এম


৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি এবং উপকমিটিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে রোববার সচিবালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সামিটের জন্য গঠিত বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

সভায় সামিটের আয়োজন, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, প্রদর্শনী, আলোচনা অধিবেশন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ, উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, সামিটে শতাধিক এআই ভিত্তিক স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এসব স্টলে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তি, পণ্য, সেবা এবং বাস্তবমুখী সমাধান তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান অগ্রগতি, ব্যবসায়িক প্রয়োগ, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনটি আলোচনা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

আলোচনায় এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দেশীয় উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সভায় সামিটের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপকমিটি এবং অংশীজনদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আয়োজনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রদর্শনী ও আলোচনা অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

আয়োজকদের আশা, এ সামিট দেশের এআই ভিত্তিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি এবং ডিসিসিআই সভাপতি উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিল একাধিক সংগঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ এম


ফ্রান্সে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিল একাধিক সংগঠন

বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন। একই দিনে রেলকর্মীদেরও ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে কর্মীদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে ট্রেন চলাচলসহ বিভিন্ন পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

গত ৫ অক্টোবর সে-এফ-দে-তে, সে-ঝে-তে, ফোর্স উভ্রিয়ের, উনসা ও এফ-এস-ইউ যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের পাশাপাশি তরুণ ও অবসরপ্রাপ্তদেরও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাড়ি ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বেতন ও পেনশন বাড়ছে না। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সরকারি পরিষেবায় অর্থায়ন কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

সংগঠনগুলোর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক ভাতা পুনর্মূল্যায়ন, সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর উন্নয়ন এবং হাসপাতালসহ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান রক্ষা এবং করব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছে তারা।

গত ২২ অক্টোবর সে-ঝে-তে আন্দোলন আরো বিস্তৃত করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটির বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় ধর্মঘটের মাধ্যমে চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।

রেল চলাচলেও বিঘ্নের আশঙ্কা

ফ্রান্সের রেল সংস্থা এস-এন-সে-এফের চারটি প্রধান শ্রমিক সংগঠন সে-ঝে-তে শেমিনো, উনসা ফেরোভিয়ের, সুদ-রেল ও সে-এফ-দে-তে শেমিনো ৫ নভেম্বর যৌথ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বেতন বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়ন।

তবে কতসংখ্যক কর্মী ধর্মঘটে অংশ নেবেন এবং কোন রুটে কতটি ট্রেন চলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দেশজুড়ে রেল চলাচল বন্ধ থাকবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে এস-এন-সে-এফের সর্বশেষ ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা

ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে কর্মস্থলে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল প্রবাসীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া উচিত।

ফ্রান্সে শ্রমিক সংগঠনগুলোর এই কর্মসূচি সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির ওপর চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এখন নজর থাকবে ধর্মঘটে কর্মীদের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ব্যাপ্তি এবং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ আসে কি না সেদিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক মো. রুবেলের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক মো. রুবেলের মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর মো. রুবেল (৩৯) নামের এক যুবক মারা গেছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তিনি দোকানের মালামাল কিনে ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে।

স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার জানায়, তিনি ২০২৩ সালে জীবিকার খোঁজে দক্ষিণ আফ্রিকা যান। সেখানে তার ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। দেশে তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা রয়েছেন। রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর কারণে স্বজনরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%