ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওল্ড ট্রাফোর্ডে হচ্চেটা: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না


ওল্ড ট্রাফোর্ডে হচ্চেটা: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না

কোচ আসা এবং কোচ যাওয়া অব্যাহত থাকলেও, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলটি গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর, মাঠে সমর্থকদের অভিবাদন জানানো মাইকেল ক্যারিকের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন আগেই নির্ধারিত ছিল।

ক্যারিকের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানো নতুন কিছু নয়। তবে এই দিনটি ছিল বিশেষ। কারণ, টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পর, যা ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর ক্লাবের সবচেয়ে বাজে পরিসংখ্যান, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তাদের মধ্যে গুরুতর আলোচনা চলছে।

যদি ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কেউ মনে করেন যে কোচ পরিবর্তন করলেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সব সমস্যা সমাধান হবে এবং সমর্থকরা সন্তুষ্ট হবে, তাহলে তাদের সেই ধারণা ভুল। কারণ গ্যালারি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিকেএসপিতে সুযোগ না পাওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার আশ্বাস

শুক্রবার বোর্নমাউথ ম্যাচের আগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের প্রসঙ্গ টেনে ক্যারিক বলেছিলেন, "রোববার আমরা ভিন্ন একটি দল হব। আমাদের ভিন্ন হতেই হবে।" কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি।

আগামী শনিবার চেলসির মাঠে ম্যাচে তিনি এখনও দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক বলেন, "দায়িত্ব আমার। এখন এর চেয়ে বেশি আর কী বলব? পরিস্থিতি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। কী হবে, সে বিষয়ে আমি কিছুই আশা করছি না। আমি এই ক্লাবকে ভালোবাসি এবং সবসময় ক্লাবের সেরা স্বার্থে কাজ করব।"

ম্যাচ শেষে ক্যারিক ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পর সমর্থকেরা খেলোয়াড়দের দিকে ক্ষোভ ঝাড়েন। ডিয়োগো দালোত মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত দুয়োধ্বনি চলতে থাকে।

অনেক সমর্থক মনে করেন, খেলোয়াড়রা হয় যথেষ্ট ভালো নয়, নয়তো তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। হয়তো উভয় সমস্যা বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: হৃদয় ভেঙে ইয়ামাল-এমবাপেকে পেছনে ফেলে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

তবে ক্ষোভ শুধু খেলোয়াড় বা কোচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গ্লেজার পরিবার এবং স্যার জিম র্যাটক্লিফের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু হয়।

২০০৫ সালে ঋণনির্ভর অধিগ্রহণের পর থেকেই গ্লেজার পরিবার ইউনাইটেড সমর্থকদের প্রধান অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেই ঋণ বেড়ে ১.১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হয়েছে।

সমর্থকদের যুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ভালো খেলোয়াড় কেনার জন্য ব্যবহার করা যেত। ২০২৩ সালের বড়দিনের আগের দিন র‌্যাটক্লিফ একটি অংশের মালিক হওয়ার চুক্তি করলে অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু এরপর একের পর এক সিদ্ধান্ত তার ক্লাব পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিধ্বস্ত ব্রুনো বিহীন ইউনাইটেড

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড-ভারতের ম্যাচসহ আজকের খেলা টিভিতে

ভুল সিদ্ধান্তের দীর্ঘ তালিকা

২০২৪ সালের এফএ কাপ জয়ের পরও ইউনাইটেড এরিক টেন হাগকে দায়িত্বে রাখে এবং লেনি ইয়োরো, ম্যাথাইস ডি লিগট ও মানুয়েল উগার্তের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করে।

পরে টেন হাগ অভিযোগ করেন, স্কট ম্যাকটোমিনেকে বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্লাব উগার্তেকে দলে ভেড়াতে সেই পথেই গেছে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেন হাগ বরখাস্ত হন।

তারপর স্পোর্টিং লিসবন থেকে মৌসুমের মাঝপথে রুবেন আমোরিমকে আনা হয়, যদিও তিনি গ্রীষ্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ১৫তম স্থানে শেষ করার পরও তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। পরে ইএফএল কাপে লিগ টু-এর গ্রিমসবির কাছে হারের পরও সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সঙ্গে খেলার ধরন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে জানুয়ারিতে তাকেও বিদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: হ্যারি কেইনের হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর

এরপর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে আসেন ক্যারিক। পরে দুই বছর পর দলকে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে এনে স্থায়ী নিয়োগ পান তিনি।

এ অবস্থায় তিন মৌসুমে তৃতীয় কোচ বরখাস্ত হলে সেটি ক্লাবের কারও জন্যই ইতিবাচক বার্তা হবে না।

সমর্থকদের ক্ষোভ শুধু ফলাফলের কারণে নয়। স্ট্রেটফোর্ড এন্ডে প্রদর্শিত "স্ট্যান্ডার্ডস" ব্যানারে ক্লাব কিংবদন্তি ব্রায়ান রবসন, এরিক কান্তোনা ও রয় কিনের ছবি ছিল। এটি ছিল ক্লাব পরিচালকদের উদ্দেশে একটি বার্তা, যে মানদণ্ডে ইউনাইটেডকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।

ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স সাধারণত আড়ালে থাকেন। কিন্তু বোর্নমাউথ ম্যাচে তার বিরুদ্ধেও সমর্থকদের কটূক্তি শোনা গেছে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় তাকেও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

র‌্যাটক্লিফের অধিগ্রহণের পর সাউদাম্পটন থেকে আসা উইলকক্সকে অনেক সমর্থক সাম্প্রতিক খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা, যিনি আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে কাজ করেছেন, তাকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করেন, সিটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ইউনাইটেডে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।

এদিকে গ্রীষ্মকালে টিকিট কালোবাজারি নিয়ে ক্লাবের তদন্তও সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ক্লাবের দাবি ছিল তারা দালালদের ধরতে চেয়েছে, কিন্তু অনেক সমর্থক মনে করেন ক্লাব নিয়মিত দর্শকদের সরিয়ে কর্পোরেট বিক্রির দিকে ঝুঁকছে।

এর পাশাপাশি নতুন ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হতে পারে, আর এ বছর জমি কিনতেই খরচ হয়েছে ৬৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

অনেক সমর্থক এই পরিকল্পনার পক্ষেও নন। ম্যাচ চলাকালে তারাও র‌্যাটক্লিফকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বর্ষসেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হলেন উনাই সিমন

মাইকেল ক্যারিক হয়তো খারাপ ফলাফলের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, কিন্তু বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থিরতার কারণ শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়। ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন অনেক গভীর এবং বিস্তৃত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ দিতে আইনি ছাড়ের আবেদন ব্যাংকগুলোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


সিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ দিতে আইনি ছাড়ের আবেদন ব্যাংকগুলোর

সিটি গ্রুপকে তিন মাসের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরও ঋণখেলাপি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে যায়। এর ফলে নতুন ঋণ এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রুপটির ব্যবসা সচল রাখতে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ের স্বার্থে নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার বিধিনিষেধ থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ঋণ শ্রেণিকরণ স্থগিত রাখাসহ সাত ধরনের নীতি সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয় সিটি গ্রুপ। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেয়। এর ফলস্বরূপ, গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণের বিদ্যমান শ্রেণিমান ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হতে পারেনি। তবে সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ানো হয়নি। এর ফলে গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে পড়ে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহককে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদান করা যায় না। ফলে সিটি গ্রুপের যেসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে গেছে, সেগুলো নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালু রাখা এবং ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায়ের স্বার্থে আইনি বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনের ১২১ ধারায় সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিটি গ্রুপকে নতুন করে ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছে ছয়টি ব্যাংক। সেগুলো হলোÑসিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, প্রাইম ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।

এ বিষয়ে গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকগুলোর পক্ষে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালিদ মাহমুদ খানসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি অংশ নেন।

জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, "সিটি গ্রুপ একটি ভালো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। তবে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও মূল ব্যবসার বাইরের খাতে বিনিয়োগের কারণে গ্রুপটি সংকটে পড়েছে। কীভাবে এ সংকট থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বের করে আনা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, নতুন করে যেসব ব্যাংক অর্থায়ন করবে, তাদের জন্য একটি এসক্রো অ্যাকাউন্ট রাখা হবে। নতুন অর্থায়ন থেকে যে আয় হবে, তা থেকে শুধু অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলোই অর্থ পাবে। অন্য কোনো ব্যাংক ওই অর্থ থেকে টাকা পাবে না। এ ছাড়া গ্রুপটির বকেয়া ঋণ সমন্বয়ের জন্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঋণের ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া সম্ভব হবে না।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, "গ্রুপটি খেলাপি হয়ে পড়ায় নতুন অর্থায়নের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক, তা চায় না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যাংককে ঋণ দিতে বাধ্য করা হবে না। ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। জামানত নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপকে সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।"

বেসরকারি খাতের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সিটি গ্রুপকে নতুন করে অর্থায়ন করছে সাত-আটটি ব্যাংক। কিন্তু অন্য অনেক ব্যাংকে গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসা সচল রাখা এবং ব্যাংকগুলোর সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় বিশেষ অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বৈঠকে গভর্নর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "গ্রুপটির বিভিন্ন ব্র্যান্ড টিকিয়ে রাখা এবং আসন্ন রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া জরুরি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থেও প্রতিষ্ঠানটির আমদানি কার্যক্রম সচল রাখা প্রয়োজন।"

আইনের বিধান থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেওয়া একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, "সিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়া না হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় আরো কঠিন হবে। এ কারণে গ্রুপটির ব্যবসা সচল রাখতে আইনি ছাড় চাওয়া হয়েছে।"

সিটি গ্রুপের ঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকা

গত মার্চ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৪৭ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণের স্থিতি ছিল ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফান্ডেড ঋণ ১৬ হাজার ২৪৬ কোটি এবং নন-ফান্ডেড ঋণ সাত হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানের বক্তব্য জানতে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "নির্দিষ্ট গ্রুপ ধরে ধরে নীতিমালায় ছাড় দেওয়া ইতিবাচক নয়। তবে সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অনুরোধে গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা শিথিলতা দিচ্ছে। এর পেছনে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাধারণ বা স্থায়ী সমাধান নয়; বরং বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোন পরিকল্পনার পথে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


কোন পরিকল্পনার পথে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ চরম হতাশার এক ত্রিদেশীয় সিরিজ সম্পন্ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একই সফরে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয় হাতছাড়া করার পর বাংলাদেশ হতাশার মধ্যে রয়েছে। তবে, তাদের জন্য খুব বেশি সময় নেই হতাশা হজম করার, কারণ দুদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের সিরিজে মাঠে নামতে হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দিক থেকে এই সিরিজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় প্রেরণার অভাব থাকার কথা নয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার তারা দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।

অনুশীলনের শুরুতে পুরো দল উপস্থিত না থাকলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরে নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়রা অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সমীকরণ মাথায় রেখে এই ঘরের মাঠের সিরিজে দলের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।

বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দল এক-দেড় বছর ধরে লঙ্গার ভার্সনে ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখন আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার, তাই আমরা সেই ধারাবাহিকতাটা চাইব। এ সিরিজ জয়ের যে কোনো বিকল্প নেই, সেটা খেলোয়াড়রাও জানে। সবাই এখানে ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।’

টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে; বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হার এবং তিনটিতে ড্র হয়েছে। এই ১০ ম্যাচের মধ্যে চারটি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সবগুলোতেই জয় লাভ করেছে। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চারে, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। এ সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা নিয়েই কোমর বেঁধেছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এখন টেস্টে তেমন ভালো দল নয়। আমাদের টেস্ট দলটি যেভাবে খেলছে এবং ঘরের মাঠে সুবিধা তো আছেই। আশা করি বাংলাদেশ ওদের হোয়াইটওয়াশ করবে। দুদেশের শক্তির পার্থক্য তো এমনটাই নির্দেশ করে। তবুও ক্রিকেট খুবই অনিশ্চয়তার খেলা।’

গত দুবছরে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের অন্যতম ভরসার নাম নাহিদ রানা। বিশেষ করে লাল বলে তার সময়টা দুর্দান্ত কেটেছে। কিন্তু চোটের কারণে এ সিরিজে নাহিদকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে আলমগীর বিশ্বাস করেন, এটি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা নেই, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তবে তাকে ছাড়াও আমাদের পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। আমাদের পুরো পেস ইউনিটটাই শক্তিশালী। হাসান, ইবাদত ভালো করছে। নাহিদের ইনজুরিটা গেমেরই অংশ।’

এশিয়ান কন্ডিশনে যেকোনো সিরিজ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। সঙ্গত কারণেই উইকেটের সুবিধা থাকে হোম টিমের। বাংলাদেশে সাধারণত স্লো ও স্পিন সহায়ক উইকেট বানানো হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি পেস সহায়ক উইকেটও দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কেমন উইকেট হতে পারে, সে বিষয়ে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘এক থেকে দেড় বছর ধরে যেমন স্পোর্টিং উইকেট বানানো হচ্ছে, সেখান থেকে বোর্ড সরবে না। আমরা চাই ভালো উইকেট হোক, ভালো ক্রিকেট খেলুক। হার-জিত থাকবে। ভালো উইকেট হবে এখানে। কোনো ক্রিকেটার নেই বলে যে উইকেটের ধরন পরিবর্তন করে ফেলা হবেÑ সেটি আমার মনে হয় না। আমি চাই আদর্শ উইকেটে খেলা হোক। আমাদের পেস ইউনিট উন্নতি করছে। ভালো উইকেটে খেলে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছি। এ ধারা থেকে সরে আসা উচিত হবে না।’

আগামী ২৮ অক্টোবর সিরিজের প্রথম টেস্ট মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিকশাচালক ছিলেন, নার্সারি বানিয়ে এখন কোটিপতি লুৎফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


রিকশাচালক ছিলেন, নার্সারি বানিয়ে এখন কোটিপতি লুৎফর

নরসিংদীর শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান সরকার রিকশাচালক থেকে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। তার উদাহরণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, চেষ্টা থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমানে তাকে আর রিকশা চালাতে হচ্ছে না। এখন তিনি কোটিপতি। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরাও খুশি। তিনি বিভিন্ন জাতের গাছ ও ফলফুলের চারা বিক্রি করে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে লুৎফর সরকার প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নার্সারিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের গাছের মজুত রয়েছে। তিনি নার্সারির নাম রেখেছেন মেসার্স পল্লি নার্সারি সেন্টার।

লুৎফর সরকার জানান, ১৯৮৭ সালে শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়ার সময় তিনি স্কুলের টিফিনের সময় অন্য বন্ধুদের মতো আড্ডা না দিয়ে শিবপুর বন বিভাগে ঘুরে বেড়াতেন। সেই সময় থেকেই তার নার্সারি গড়ার স্বপ্ন জাগে। এতে দেশের উপকার হবে এবং তার অভাব দূর হবে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে তিনি কখনো রিকশা চালাতেন, কখনো বেতের দরজা বানিয়ে বিক্রি করতেন। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে বাবার অগচোরে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট পরিসরে চারা লাগাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে মানুষের চাহিদা বাড়তে থাকে, ফলে তিনি নার্সারি সম্প্রসারণ করতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।

শিবপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন স্থানে ১০ বিঘা জমির ওপর তার নার্সারি অবস্থিত। এর মধ্যে পাঁচ বিঘা জমি তিনি ক্রয় করেছেন এবং পাঁচ বিঘা ভাড়া নিয়েছেন। নার্সারি চাষে সফল হওয়ায় তিনি শিবপুর উপজেলায় ১৩ বার, জেলায় সাত বার এবং জাতীয়ভাবে ২০১০ ও ২০২৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে শিবপুর উপজেলায় প্রথম, জেলায় দ্বিতীয়, ১৯৯৯ সালে উপজেলায় ও জেলায় প্রথম এবং ২০০৯ সালে মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এবার ২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় তিনি প্রথম স্থান লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং লুৎফর রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বর্তমানে লুৎফর রহমানের নার্সারিতে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছসহ হাজার হাজার চারাগাছ রয়েছে। সারা বছর যেকোনো ধরনের গাছ তার নার্সারিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিদেশি ফল রামবুটান, এবুকাডু, পার্সিমন, ডুরিয়ান, আপেল, থাই লংঘান, বারমাসি ভিয়েতনামের পিংক কাঁঠাল ইত্যাদি। দেশীয় ফল লটকন, নারিকেল, সফেদা, বেল, পেয়ারা, বড়ই, কাঁঠাল, জলপাই, আম ইত্যাদি ওষুধি গাছের চারা হরতকি, আমলকি, দেশীয় নিম, আর্জুন ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে বিভিন্ন জাতের রঙ্গন, গোলাপ, জবা, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামেনি, বেলি ইত্যাদি, সবজি জাতীয় মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপে, শসা, জালি ইত্যাদি। কাঠ জাতীয় মেহগনি, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি জাতের চারা গাছও রয়েছে।

লুৎফর রহমান আরও জানান, তার নার্সারিতে ১৭ জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।

সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এতে তার পিতামাতাসহ সাত সদস্যের সংসার ভালোভাবে চলছে বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে ৬ ব্যবসায়ীর অফিসে ছাত্রদলের হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


লক্ষ্মীপুরে ৬ ব্যবসায়ীর অফিসে ছাত্রদলের হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে ছয়জন ব্যবসায়ীর অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, হামলাকারীরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভের অনুসারী। এই হামলার ফলে বালুমহালের একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট বালুর ঘাট এলাকায় মোটরসাইকেলে করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল হামলা চালায়। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোটা এবং দেশীয় অস্ত্র ছিল।

হামলাকারীরা পাঁচটি অফিস এবং একটি দোকানে ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, সন্ধ্যায় তার বালুমহালের অফিসে হামলা হয়েছে। দোকানের টাকাপয়সা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি বালুমহালে হামলা হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, সকালে মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় ছাত্রলীগ একটি মিছিল করেছে। বিকালে মিছিল করার খবর পেয়ে ছাত্রদল সেখানে যায়। তবে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেনি এবং ছাত্রলীগ এ ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে পারে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, মজুচৌধুরীর হাটে বালুর গদিতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%