ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ সংকট কাটাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা


হরমুজ সংকট কাটাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

হরমুজে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পর্দার আড়ালে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কূটনীতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, তেহরান কিছুটা ছাড় দিলে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত থাকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অনেকটাই বেড়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন সমঝোতার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নৌপথের বিষয়টিই ছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা।

এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করে, তেহরানে বার্তা আদান-প্রদানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরান কিছু বিষয়ে ছাড় দিলে তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিলতা। সেখানে বাসিজ, আইআরজিসি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তর আলাদাভাবে ভূমিকা রাখছে। মধ্যস্থতাকারীরা যদি এই সব পক্ষকে এক টেবিলে আনতে না পারেন, তবে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ হাজার এসআই, ৪ হাজার সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


৪ হাজার এসআই, ৪ হাজার সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের পরিকল্পনা

সংসদ ভবন, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য নতুন ৪ হাজার এসআই, ৪ হাজার সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, পুলিশের জনবল বৃদ্ধি সংক্রান্তে বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা হলো— নতুন ৪ হাজার এসআই (নিরস্ত্র), ৪ হাজার সার্জেন্ট এবং ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজন করা।

আজ সংসদে রংপুর-৬ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নুরুল আমীনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই পদসমূহ সৃজিত হলে রংপুর জেলাতেও জনবল বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, পুলিশের যানবাহন প্রদান সংক্রান্তে বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা নিম্নরূপ: আগামী ৫ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন ও জলযানের ঘাটতি রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে ক্রয়পূর্বক পূরণ করা।

যানবাহনের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে যানবাহনের ঘাটতি পূরণ করা।

নবসৃষ্ট ইউনিট, জনবল এবং কাজের পরিধি বিবেচনায় টিওএন্ডইতে যানবাহন ও জলযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়ের ইউনিটসমূহে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই, জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই, জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় জেলেরা

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, জীবিকা সংকটে জেলে

 

“২০ দিন ধরে নদীতে যাই আর আই। ২০ দিন পর দুইডা মাছ পাইছি।

 

নদীতে যাওয়া মানুষের দেনা কইরা, আল্লায় মাছ দিলে দেনা হোদ দিয়া দিমু। কিন্তু নদীতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। গাঙ্গে তো যাই আশা কইরা, আল্লায় যদি মাছ না দেয় কিয়ারুম? আমগো তো আর কিছু করার নাই।”

এই কথাগুলো বলছিলেন ভোলার শিবপুরের ভোলার খাল মাছঘাটের ষাটোর্ধ্ব ওয়াদুদ মাঝি।

 

সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর মাছঘাট এলাকায় গেলে দেখা মেলে ষাটোর্ধ্ব জালাল আহম্মদ ও ওয়াদুদ মাঝির। জ্বালানি খরচ পোষাতে না পেরে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার রেখে দাড়ের নৌকায় মাছ শিকারে মেঘনায় যান তারা। তবে ঘাম ঝরানো কষ্টের পরও ইলিশ না পাওয়ায় আয়ের পরিবর্তে তাদের দেনাই বাড়ছে বলে জানান তারা।

এটি শুধুমাত্র জালাল আহম্মদ ও ওয়াদুদ মাঝির সমস্যা নয়, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা প্রায় সব জেলেরই একই অবস্থা।

 

মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের তালতলি মাছঘাটের জেলে মো. ফরিদ মাঝি। ৪৫ বছর জীবনের তিন দশকই কাটিয়েছেন মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে। এক সময় অন্যের নৌকায় মাছ শিকার করলেও এখন তিনি একটি মাঝারি আকারের নৌকার মালিক। ওই নৌকায় তিনিসহ সাতজন জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ফরিদ মাঝি জানান, এত দিন নদীতে মাছ শিকার করে তাদের জীবন ভালোই চলছিল।

 

তবে চলতি মৌসুমে নদীতে মাছ না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, গত দুই মাস নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে নৌকার জ্বালানিসহ তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মাছ বিক্রি করে পেয়েছেন ৬৪ হাজার টাকা। দুই মাসে একেকজন জেলে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা করে পেয়েছেন, যা একজন শ্রমিকের এক দিনের মজুরি।

মো. ফরিদ মাঝি বলেন, “প্রতিদিনই মাছের আশায় নদীতে যাই, কিন্তু দিন শেষে খালি হাতে ফেরা লাগে। এভাবে চলছে গত দুই মাস ধরে। মেঘনায় ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও নদীতে মাছের তেমন দেখা নাই। দিন দিন আড়ত মালিকের দাদনের বোঝা বাড়তে বাড়তে ৯ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। এনজিওর ঋণ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ছি।”

মনপুরার ফরিদ মাঝির মতো চরম হতাশা নিয়ে দিন কাটছে ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলের। ভরা মৌসুমেও এমন সংকটের কারণ খুঁজে পাচ্ছে না স্থানীয় মৎস্য বিভাগ; সংকট নিরসনে বিকল্প উপায় জানা নেই তাদের।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে ৬৪ হাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় মোট ইলিশ পাওয়া গেছে এক লাখ ৮১ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টনে। এই দুই বছরে এক দশমিক ১২ শতাংশ ইলিশ কম পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে পাওয়া ইলিশের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৭৮ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এক লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন। এই পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও পরে তা কমেছে।

সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে, তা জানাতে পারেনি স্থানীয় মৎস্য বিভাগ।

জেলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের চরম আকাল চলছে। গত দুই-তিন মাস ধরে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছেন জেলে ও মৎস্যজীবীরা। উচ্চ মূল্যের জ্বালানি পুড়ে নদী থেকে ফিরছেন খালি হাতে। এতে দিন দিন বাড়ছে দাদনের বোঝা। তবে এখনও আশায় বুক বেঁধে নদীতে নামছেন ইলিশ শিকারীরা।

ভোলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সিমিতির সভাপতি মো. এরশাদ ফরাজি জানান, জেলেরা প্রতিবছর এই সময়ে আশা করে ভরপুর ইলিশ মাছ পাবে। কিন্তু এ বছর ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই। জেলেরা নদীতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ইলিশ সাগর ও নদী—দুই জায়গায়ই চলাচল করে। নদীতে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালসহ নানা কারণে ইলিশ কমে যাচ্ছে। তার পরও আরো এক-দুই মাস অপেক্ষা করে দেখতে হবে। তাহলে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, নদীতে ইলিশ কম পাওয়ার পেছনে সরাসরি কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এমনিতেই আমার নদীতে ডুবোচরের পাশাপাশি নদীর দূষণের কথা বলছি। এ সময় নদীতে ইলিশ আসার কথা, আমরা আরেকটু অপেক্ষা করি।

তায়েফা আহমেদ বলেন, সামনে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস ইলিশের ডিম ছারার সময়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইলিশের আসল চিত্রটি বলা যাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই ইলিশ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে, মাঠ পর্যায় থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনই কারণ হিসেবে কোনো কিছুকে নির্দিষ্ট করা যাবে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে হ্রদের বাঁধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


নেপালে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে হ্রদের বাঁধ

নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্ট একটি বিশাল প্রাকৃতিক হ্রদ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে চীন। 

দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকে আকস্মিক বন্যা বা জলপ্রবাহের তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা অনুযায়ী, নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি বিশাল প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে।

হাইড্রোজিওলজিস্ট বা জলভূতত্ত্ববিদদের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদটিতে জমে থাকা পানির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই প্রাকৃতিক বাঁধের দিকে প্রবাহিত হয়ে জমা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য বাঁধভাঙা বন্যার গতিপথ ও প্রভাব নির্ণয়ে রিয়েল-টাইম বন্যা সিমুলেশন চালানো হচ্ছে। এসব সিমুলেশনের মাধ্যমে নিচের দিকে পানির প্রবাহ কীভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কোথায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং উদ্ধার তৎপরতা কীভাবে পরিচালনা করা হবে—এসব বিষয়ে আগাম ধারণা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করা এবং পরবর্তী পর্যায়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যা বা বাঁধভাঙা জলপ্রবাহের ঝুঁকি কমাতেই এই পূর্বাভাস ও সিমুলেশন পরিচালনা করা হচ্ছে।

চীনের এই সতর্কতার মধ্যেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলাচ্ছে নেপাল। বুধবার ভোতে কোশি নদী করিডোরে হড়কা বান ও ভূমিধসের ঘটনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

নেপাল আর্মি, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে নদীর নিম্নাঞ্চল থেকে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত শুধু নারায়ণী নদী থেকেই ১২১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বিপর্যস্ত হিমালয়সংলগ্ন জেলাগুলোতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শত শত মানুষের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ৯০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীনের সীমান্তেও ভয়াবহ পরিস্থিতি
দুর্যোগের সূত্রপাত হয় বুধবার। নেপালের ভূখণ্ড থেকে নেমে আসা একটি বিশাল ভূমিধস ও বন্যার স্রোত দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং বন্দর এলাকায় আঘাত হানে।

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বন্যা ও কাদাধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৫৫৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং বিভিন্ন ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও দুর্গম ভূখণ্ডে উদ্ধারকাজ ব্যাহত
উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমকে সবচেয়ে বেশি জটিল করে তুলেছে অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড। হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই নতুন করে প্রাকৃতিক হ্রদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, আগামী তিন দিন ওই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হ্রদটির পানি ও প্রাকৃতিক বাঁধের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ নির্ধারণ করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ বা ভূমিধসের কারণে তৈরি হ্রদ হঠাৎ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে ধেয়ে যেতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

ফলে নেপাল ও চীন—দুই দেশই এখন উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নতুন করে সম্ভাব্য বাঁধভাঙা বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র: নেপাল নিউজ, কাঠমান্ডু পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীতে ক্যাসিনো সম্রাট শিপন ইয়াবাসহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


ভূরুঙ্গামারীতে ক্যাসিনো সম্রাট শিপন ইয়াবাসহ গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট শিপন রহমানকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উপজেলার দেওয়ানের খামার এলাকায় বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ও সুপারি বাগানে বসে নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও কেনাবেচা করে আসছিল একটি চিহ্নিত মাদক কারবারি চক্র। চারদিকে বিস্তীর্ণ ফাঁকা ধানক্ষেত থাকায় দূর থেকেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিরাপদে পালিয়ে যেত তারা। এ কারণে তাদের ধরতে সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রথমে তিনজন মাদকসেবীকে কয়েক পিস ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসায়ী শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৬০ পিস ইয়াবা, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, শিপন রহমান একজন কুখ্যাত ক্যাসিনো ডিলার। সম্প্রতি একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে জ্যাকপট পেয়ে তিনি ১২ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত জুয়া আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, শিপন রহমান ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো সম্রাট। আজ তিনজন সহযোগীসহ মাদক ও ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ শিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%