মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৯ পি.এম
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাতটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং চারজন কারাগারে আছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর সর্বশেষ রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাদের অনুপস্থিতিতেই এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়।
সাত মামলার রায়ে ৬৮ জন দণ্ডিত
ট্রাইব্যুনালের প্রথম ছয়টি রায়ে মোট ৬১ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। তবে মোট মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ছিল ১৬টি। কারণ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড—দুটি মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পান।
সপ্তম রায়ে আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় এখন মোট দণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা ৬৮ এবং পৃথক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২।
যে সাত মামলায় রায়
শেখ হাসিনা মামলা: ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিনা ও কামালের বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
চানঁখারপুল হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে তিন থেকে ছয় বছরের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানো: ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা ও মুকুল চোখদার। এ ছাড়া নয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৮ জুন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসানুল হক ইনু মামলা: ২০২৬ সালের ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ওবায়দুল কাদের মামলা: ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন হলেন—শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, মো. সাইফুল ইসলাম, রনি ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম, এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা, মুকুল চোখদার, আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র রায়, মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমান।
হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড—দুই মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মৃত্যুদণ্ড হলেও পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ২২ জনের হিসাবের মধ্যে তাকে একবারই গণনা করা হয়েছে।
১১ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী রয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাইফুল ইসলাম ও রনি ভূঁইয়া।
বাকি ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
কারাগারে চারজন, পলাতক ১৮
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন আশুলিয়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক ও মুকুল চোখদার এবং আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়।
অন্য ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ জন হিজড়াকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। একই রাতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং কীটনাশক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে, প্রায় ৭টার দিকে, বাঘাডাংগা বিওপির আওতাধীন বাজারপাড়ার একটি মেহগনি বাগানে বিশেষ টহলের সময় সীমান্ত পিলার ৬০/৭৫-আর থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হিজড়া সম্প্রদায়ের ৬ জন। বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটককৃতদের মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ১৪ই সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে, মাটিলা বিওপি এলাকার শ্মশানঘাট থেকে ২২ বোতল ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় গয়েশপুর বিওপি এলাকার গোয়ালপাড়া গ্রাম থেকে ৯৭ প্যাকেট এবং উথলী বিওপি এলাকার সন্তোষপুর গ্রাম থেকে ১৩২ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করা হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে, মাধবখালী বিওপি এলাকার একটি আমবাগান থেকে ৩৮৮ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে, উদ্ধারকৃত মাদক ও চোরাচালান পণ্যের ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে স্কুলে যাওয়ার সময় অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সৌখিনারা আক্তার সৌজি নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু ঘটে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সৌখিনারা আক্তার সৌজি ফুলপুর উপজেলার সাহেব রোড এলাকার রফিকুল ইসলামের কন্যা। তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সৌখিনারা আক্তার অটোরিকশায় করে স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথে অসাবধানতার কারণে তাঁর ওড়না অটোরিকশার চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। ফলে তিনি অটোরিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
প্রধান শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের অর্থযোগানদাতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে নিয়মিত মামলার এক আসামি এবং মোবাইল কোর্টে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত অপর এক আসামিসহ মোট ৫ জনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়
মোঃ খাদিমুল ইসলাম (২৮):পিতা- মোঃ শাহজাহান আলী দুখু, সাং- শ্যামপুর, ইউনিয়ন- বাঙ্গাবাড়ী, থানা- গোমস্তাপুর, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। (দলীয় পরিচিতি: সহ-সভাপতি, গোমস্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ)।
মোঃ সাদেক আলী (৪৫):পিতা- মৃত তহসেন আলী, মাতা- মৃত মনোয়ারা বেগম, সাং- নরশিয়া, ইউনিয়ন- বোয়ালিয়া, থানা- গোমস্তাপুর, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। (দলীয় পরিচিতি: আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও অর্থ যোগানদাতা)।
মোঃ জান্নাতুল আলম মধু (৪৮):পিতা- মৃত আবুল কালাম আযাদ, সাং- নয়াদিয়াড়ী, ইউনিয়ন- গোমস্তাপুর, থানা- গোমস্তাপুর, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। (দলীয় পরিচিতি: সাবেক সহ-সভাপতি, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ এবং গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন রেজার আপন ভাগ্নে)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিতে হামলার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসার পর, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাক্ষাৎ করতে যান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়, বাঁধন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি জানান।
কিছুদিন আগে, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে, বাঁধন জানান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তার সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা তিনি পাননি।
এর পরের দিন, বাঁধন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির তার ও পরিবারের খোঁজ নিতে বাসায় এসেছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে বাঁধন লেখেন, ‘আজ আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তাঁর এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’
অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’
যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন লেখেন, ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যাঁরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার ও তার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন—তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, এই অভিজ্ঞতা তাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে তিনি মামলা করেন।
এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ