ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান কোনও ধরনের আলোচনা বা সংলাপে লিপ্ত নেই। তিনি ইরানের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে এই মুহূর্তে শত্রুপক্ষের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে আলোচনা চলছে না এবং ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও তেহরান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আব্বাস আরাগচির বরাত দিয়ে আজিজি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কৌশলগত পদ্ধতি তৈরি করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, এবং বৈরী রাষ্ট্রগুলোর কোন যুদ্ধজাহাজ বা নৌযানকে এটি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: হরমুজে মাইনের আঘাতে দুই সুপারট্যাংকারে আগুন

শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিক দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রয়েছে, যাদের একটির রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। এর আগে কেউ কল্পনা করতে পারেনি যে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

ক্ষেত্রের নিরাপত্তার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নির্ভরশীল মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তা পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

চলতি যুদ্ধে যে দেশগুলো মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেয়নি, তারা নিরাপদ থেকেছে। পক্ষান্তরে, মার্কিন ঘাঁটির আমন্ত্রক দেশগুলো সুরক্ষিত থাকতে পারেনি। এটি প্রমাণ করে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সাথে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ নামক একটি ব্যাপক পাল্টা অভিযান চালায়। প্রায় ১০০ তরঙ্গের এই অভিযানে শতশত ব্যালিস্টিক এবং হাইপারসনিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে মার্কিন এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ১৫ শহরে ইসরাইলি অভিযানে আটক বহু ফিলিস্তিনি

যুদ্ধের ৪০তম দিনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং পরবর্তীতে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অতিরিক্ত দাবি ও অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইরান নতুন কোনও প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের পথে বন্ধ করার যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হুঁশিয়ারির পর বৈরুত হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলো ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


ইরানের হুঁশিয়ারির পর বৈরুত হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলো ইসরাইল

ইরান থেকে আসা হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে সহনশীলতা প্রদর্শিত হবে না।

সোমবার (১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্টে জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা সেখানে যেতে প্রস্তুত ছিল, তাদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, তিনি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি সমঝোতাতেও পৌঁছেছেন। ট্রাম্পের কথায়, 'হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা মুখে বলেছে, সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ রাখবে। ইসরাইল তাদের দিকে হামলা চালাবে না এবং তারাও ইসরাইলের দিকে হামলা চালাবে না।'

এদিকে, ইসরাইল গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার জন্য নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে বাস্তুচ্যুতির একটি নতুন ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরাইল এবং তার মিত্রদের সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।' ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ইতিমধ্যে সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলা করে, তবে তারা হতাহতের আশঙ্কায় উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলবে।

এবং এই প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, 'ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে উত্তরাঞ্চল ও সামরিক বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা ক্ষতির শিকার না হন।' ইরানের কর্মকর্তাদের দাবী করেন, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে উল্লেখ ছিল।

ইরানের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই ধরনের ডেভেলপমেন্টের ফলে সতর্ক করেন যে, বৈরুতের উপর ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের বাড়তে থাকা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।'

আবারও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেন, 'যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।' তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে এটি পুরো চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ একই মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, 'নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো — এগুলো যুদ্ধবিরতি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।' তিনি আরো বলেন, 'প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য আছে, এবং ওই বিল শোধ করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক হবে।'

পরে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর লেবাননে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি সম্ভবত ভেঙে যাবে। ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

হিব্রু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল বৈরুত হামলার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি (কান) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২২ এম


হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান

 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক এবং সহজ করতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জলপথে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে, জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার আহ্বান জানানোর পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।

ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জাপানের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আশ্বস্ত করেন যে টোকিওর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত সহজে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তার জন্য ইরান সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে, এই জলপথে সৃষ্ট সংকটের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে ইরানি প্রেসিডেন্ট। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ ইরানের নীতি নয়, বরং ইরানের শিপিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিই মূলত এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান তার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে বলে এই ফোনালাপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, এই দুই নেতার ফোনালাপ বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতার পদ হারানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ এম


ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতার পদ হারানো

লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগের কারণে আল-আমিন ছৈয়াল, একজন যুবদল নেতা, দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকনের স্বাক্ষর।

বহিষ্কৃত আল-আমিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের যুবদলের সদস্য ছিলেন এবং একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৮ মে রাতে ঘটনাটি ঘটে। শনিবার (৩০ মে) রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। উল্লেখ্য, আল-আমিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চররমনী গ্রামের আবু ছৈয়ালের ছেলে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আল-আমিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন জানিয়েছেন, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে আল-আমিনকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া, বহিষ্কৃতের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের ক্ষতিকারক দিক জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ এম


আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের ক্ষতিকারক দিক জানুন

চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি সামাজিক প্রথা।

পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় রাখা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং সম্পদ পরিবারের মধ্যেই সংরক্ষণ করার মতো নানা কারণে এখনও অনেক পরিবারে এ ধরনের বিয়ে হয়ে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, ফার্স্ট কাজিন বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের ফলে সন্তানদের কিছু জেনেটিক ও বিকাশগত ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, বাবা-মা উভয়ের শরীরে একই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলে তা সন্তানের মধ্যে রোগ হিসেবে প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যেহেতু ফার্স্ট কাজিনদের মধ্যে জিনগত মিল বেশি থাকে, তাই তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে কিছু বংশগত রোগের ঝুঁকিও বেশি দেখা যেতে পারে।

সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে এ ধরনের ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে কাজিন দম্পতিদের সন্তানের ক্ষেত্রে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ গবেষণায় ১৩ হাজারেরও বেশি শিশুর স্বাস্থ্য ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কাজিন দম্পতির সন্তানদের মধ্যে ভাষাগত বিকাশে কিছুটা বেশি সমস্যা দেখা গেছে, নির্ধারিত বিকাশগত ধাপ অর্জনের হারও তুলনামূলক কম ছিল।

পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের প্রয়োজনও অন্যান্য শিশুদের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা হয়েছে।

তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে সব কাজিন দম্পতির সন্তান স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত হবে।

অনেক ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করে।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের ঝুঁকির পেছনে শুধু কাজিন বিয়েই একমাত্র কারণ নয়।

একই সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ে হওয়ার ফলে নির্দিষ্ঠ কিছু জিনের বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এই প্রবণতাকে ‘এন্ডোগামি’ নামে অভিহিত করেন।

ফলে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও একই গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে জেনেটিক ঝুঁকি বিদ্যমান থাকতে পারে।

এদিকে ইউরোপের কিছু দেশ কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

নরওয়ে ইতোমধ্যে এ ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে এবং সুইডেনও একই ধরনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে দম্পতিরা বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গীতেও পরিবর্তন আসছে।

শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগের বিস্তারের ফলে অনেক তরুণ-তরুণী এখন আত্মীয়তার সম্পর্কের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ, মানসিক সামঞ্জস্য এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজিনদের মধ্যে বিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয় হলেও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

তাহলে বিয়ের আগে প্রয়োজন হলে জেনেটিক পরামর্শ গ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%