১১:৩০ এম
ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। হামলার পর মেরামতকাজ বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনা তাদের মধ্যে রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “যদি ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে কোনো রেড লাইন বা সীমাবদ্ধতা আর অবশিষ্ট থাকবে না। সমুদ্রতলদেশের ক্যাবল থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি- এমনকি গোপন ঘাঁটিগুলোও তখন হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।”
আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল
তিনি ওয়াশিংটনকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, ইরানের কাছে সমুদ্রতলদেশের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা সহজেই সেগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম প্রবাহিত হয়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সেখানে হামলার বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে একাধিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের হুমকির উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখা এবং উপসাগরীয় দেশ ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো কেবল তেলনির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। বিকল্প স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন