ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেটে ২ কোটি টাকার শটগান, মদসহ চোরাচালানি পণ্য জব্দ


সিলেটে ২ কোটি টাকার শটগান, মদসহ চোরাচালানি পণ্য জব্দ

সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে। অভিযানে একটি ভারতীয় সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান, আট রাউন্ড গুলি এবং ৩০০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ কোটি ৭৩ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর একটি বিশেষ অপারেশন দল গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০০ বোতল ভারতীয় মদ, একটি ভারতীয় সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ভারতীয় জিরা, গরু, সানগ্লাস, কসমেটিকস, কম্বল, বিড়ি, চকলেট, ফুচকা, এনার্জি ড্রিংক, মশলা এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারের সময় শিং মাছসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল আটক করা হয়।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হক, বিজিওএম জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার ধারাবাহিকতায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, ভবিষ্যতেও সীমান্তে এ ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা চোরাচালানি মালামালের বিষয়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: এমপির হস্তক্ষেপের পরও কমেনি ডাকাতি, নাসিরনগরের আনন্দপুরে ফের ডাকাতি আজ ভোররাতে আবারও ডাকাতির ঘটনা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৫ লাখ টাকার জাল জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ এম


শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৫ লাখ টাকার জাল জব্দ

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে অবৈধ মাছ শিকার ও নেটের বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের ফলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার হাইল হাওরের চেংছড়ি, সানন্দা, বছনীখাল, বেরীর বোল, হাওরী খালসহ বিভিন্ন জলমহালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি টিমও মোবাইল কোর্টকে সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযানে ১০০টি রিং জাল জব্দ করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা। এছাড়া ২০টি মশারি জালও জব্দ করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার মিটার এবং মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত জালের মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পরে জব্দকৃত জালগুলো বিধি মোতাবেক আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং জলমহালে স্থাপিত অবৈধ নেটের বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হাইল হাওরে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন: নারীদের ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন: নারীদের ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

নারীদের স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা একটি ক্যান্সার সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে।

ক্যাম্পেইনটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার মধুপুর এলাকায় পিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যা ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ফর উইমেন (ক্যাপ)-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ক্যাপের সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া ইতি। তিনি আলোচনায় ক্যান্সার সম্পর্কে প্রাথমিক ও সামগ্রিক ধারণা তুলে ধরেন, স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণ, ঝুঁকির বিষয়, প্রতিরোধের উপায় এবং সময়মতো স্ক্রিনিং ও চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে ক্যাপের ক্যান্সার অ্যান্ড এডুকেশন সেক্রেটারি জুবাইদা নাসরিন দোলা আলোচনা করেন।

আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সার বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও দ্বিধা দূর করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও তরুণীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সার সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন মোহনা আফরিন মুন্নী ও মারিয়া আক্তার।

সংগঠনটির সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া ইতি জানান, ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা। বিশেষ করে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে নারীদের সঠিক ধারণা দেওয়া, ঝুঁকির বিষয়গুলো জানানো এবং সময়মতো পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করাই ক্যাপের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ক্যাপ ২০১৫ সাল থেকে মায়েদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার নিয়ে কাজ করে আসছে।

তিনি আরও জানান, আজ পিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে আমরা শুধু ক্যান্সার সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরিনি; বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছি, তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একজন নারী সচেতন হলে সেই সচেতনতার প্রভাব পুরো পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। আর পরিবার থেকেই শুরু হয় একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনের পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জসিম-রমজানের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় যুবদলের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


জসিম-রমজানের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় যুবদলের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

মালয়েশিয়া শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে, যার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান আলী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এই কমিটির অনুমোদন দেন। এর ফলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করল।

কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জসিম উদ্দিনকে সভাপতি, রমজান আলীকে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. সুলতান বিন সিরাজকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. নূর সিদ্দিকী সুমন। সহসভাপতি পদে রয়েছেন শেখ মোহাম্মাদ সেলিম, নাজমুল হাসান, খালিদ হাসান রিপন, হেলাল উদ্দিন হাই, কে এম সবুজ, মো. শাহীন আলম, ইউসুফ মজুমদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. বোরহান উদ্দিন (তালেব মেলা), মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, নাছির উদ্দিন মোল্লা, মো. কামরুজ্জামান শান্ত, তোরাবক হোসেন রানা, এআর মাসুদ, আক্তার হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, জালাল শেখ, মো. মিজানুর রহমান বেপারী ও আব্দুল হাকিম।

সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রমজান আলী এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সুলতান বিন সিরাজ রয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর যুবদল মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, "পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের ফলে মালয়েশিয়ায় যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে। প্রবাসী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।"

তিনি আরও বলেন, "মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির চর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

এদিকে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পুলিশের গুলিতে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের ফোনটি যার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ এম


‘পুলিশের গুলিতে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের ফোনটি যার’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে মাহামুদুর রহমান সৈকতের মাথার এক পাশে গুলি প্রবেশ করে এবং অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। শহীদ ভাইয়ের হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী এই ভীতিকর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি ভাইয়ের পাশে আরও পাঁচটি লাশ দেখতে পান, যাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন ছিল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার নবম সাক্ষী হিসেবে সেবন্তী সাক্ষ্য দেন। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে মোহাম্মদপুরে বসবাস করছেন। সেবন্তী বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।

সেবন্তী তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন যে, ১৮ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের জন্য সৈকত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তাকে বাধা দেন তার মা। একই দিন বিকেলে, মাকে না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধু মো: আরাফাত হোসেনের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন সৈকত। পরে মাকে ফোন করে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলেন, কারণ আশপাশে পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিলেন। তখন সৈকতকে ধমক দিয়ে বাসায় ফিরে আসতে বলেন তার মা। ওই রাতে ফেসবুকে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের খালার একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে লেখা ছিল ফারহান ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। এই পোস্ট দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সৈকত।

১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে সৈকত নূরজাহান রোডের দক্ষিণ মাথায় স্টেপ জুতার দোকানের সামনে আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন। তাকে বারবার মোবাইল ফোনে কল করেন তার মা। সেই সময় তিনি বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ছিলেন। কল করার পর সৈকত ফোনটি রিসিভ করেন। ফোনে ধমক দিয়ে তাকে বাসায় ফিরে আসতে বলেন। তার সঙ্গে শেষ কথা হয় ৩টা ২৬ মিনিটে। তখন তার বাবা বারবার তাকে কল করছিলেন। এক সহযোদ্ধা ফোনটি রিসিভ করে বলেন, ‘এই ফোনটি যার সে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। আপনারা দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যান, অন্যথায় লাশও পাবেন না।’ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মর্গের সামনে স্ট্রেচারে শায়িত অবস্থায় সৈকতের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তার বাবা ও চাচাতো ভাই সাইফুর রহমান হায়দার কনক। সেবন্তীও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। পথে অনেক জায়গায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশকে গুলি করতে দেখেন। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মর্গের ভেতরে তার ভাইয়ের লাশ দেখতে পান। তার পাশেই রাজুরসহ আরও পাঁচটি লাশ ছিল, যাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন ছিল।

তিনি বলেন, শহীদ রাজু মোহাম্মদপুরের একজন আন্দোলনকারী ছিলেন। রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের মারকাজুল ইসলামে সৈকতের লাশ গোসল করানো হয়। তার লাশটি সেখানেই রেখে দেন। তার ফুফাতো ভাই জানান, বাসার নিচে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। রাতে কারফিউ জারি হয়। পরদিন বেলা ১১টায় কারফিউ শিথিল থাকায় লাশ বাসায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

হাসপাতাল থেকে কোনো কাগজপত্র প্রদান করা হয়নি উল্লেখ করে সেবন্তী জানান, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ প্রদান করা হয়। এতে লেখা ছিল গান শটে মারা গেছে। ৫ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তার ভাইয়ের মৃত্যুর সনদপত্র আনতে গেলে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশানুল হক সৈকত, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ বজলুর রহমান, আজিজুল হক রানা, এমএ সাত্তার, তৎকালীন কাউন্সিলর আসিফ, কাউন্সিলর রাষ্ট্রন, কাউন্সিলর রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস বিপ্লব, তোফায়েল সিদ্দিক তুহিন, ইসমাইল হোসেন, বিচ্ছু জালাল, মাঈনুল হাসান রাসেল, কেএম ফজলে রাব্বি, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও অনেককে দায়ী করেন সৈকতের বোন। এ সময় তিনি নিজের ভাইসহ জুলাই আন্দোলনে সব হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে তারেক আবদুল্লাহ, গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ, সহিদুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%