ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘পুলিশের গুলিতে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের ফোনটি যার’


‘পুলিশের গুলিতে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের ফোনটি যার’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে মাহামুদুর রহমান সৈকতের মাথার এক পাশে গুলি প্রবেশ করে এবং অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। শহীদ ভাইয়ের হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী এই ভীতিকর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি ভাইয়ের পাশে আরও পাঁচটি লাশ দেখতে পান, যাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন ছিল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার নবম সাক্ষী হিসেবে সেবন্তী সাক্ষ্য দেন। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে মোহাম্মদপুরে বসবাস করছেন। সেবন্তী বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।

আরও পড়ুন: কাজের সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন পোশাক শ্রমিক, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল খারাপ আচরণ

সেবন্তী তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন যে, ১৮ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের জন্য সৈকত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তাকে বাধা দেন তার মা। একই দিন বিকেলে, মাকে না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধু মো: আরাফাত হোসেনের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন সৈকত। পরে মাকে ফোন করে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলেন, কারণ আশপাশে পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিলেন। তখন সৈকতকে ধমক দিয়ে বাসায় ফিরে আসতে বলেন তার মা। ওই রাতে ফেসবুকে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের খালার একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে লেখা ছিল ফারহান ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। এই পোস্ট দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সৈকত।

১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে সৈকত নূরজাহান রোডের দক্ষিণ মাথায় স্টেপ জুতার দোকানের সামনে আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন। তাকে বারবার মোবাইল ফোনে কল করেন তার মা। সেই সময় তিনি বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ছিলেন। কল করার পর সৈকত ফোনটি রিসিভ করেন। ফোনে ধমক দিয়ে তাকে বাসায় ফিরে আসতে বলেন। তার সঙ্গে শেষ কথা হয় ৩টা ২৬ মিনিটে। তখন তার বাবা বারবার তাকে কল করছিলেন। এক সহযোদ্ধা ফোনটি রিসিভ করে বলেন, ‘এই ফোনটি যার সে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। আপনারা দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যান, অন্যথায় লাশও পাবেন না।’ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মর্গের সামনে স্ট্রেচারে শায়িত অবস্থায় সৈকতের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তার বাবা ও চাচাতো ভাই সাইফুর রহমান হায়দার কনক। সেবন্তীও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। পথে অনেক জায়গায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশকে গুলি করতে দেখেন। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মর্গের ভেতরে তার ভাইয়ের লাশ দেখতে পান। তার পাশেই রাজুরসহ আরও পাঁচটি লাশ ছিল, যাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন ছিল।

তিনি বলেন, শহীদ রাজু মোহাম্মদপুরের একজন আন্দোলনকারী ছিলেন। রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের মারকাজুল ইসলামে সৈকতের লাশ গোসল করানো হয়। তার লাশটি সেখানেই রেখে দেন। তার ফুফাতো ভাই জানান, বাসার নিচে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। রাতে কারফিউ জারি হয়। পরদিন বেলা ১১টায় কারফিউ শিথিল থাকায় লাশ বাসায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

হাসপাতাল থেকে কোনো কাগজপত্র প্রদান করা হয়নি উল্লেখ করে সেবন্তী জানান, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ প্রদান করা হয়। এতে লেখা ছিল গান শটে মারা গেছে। ৫ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তার ভাইয়ের মৃত্যুর সনদপত্র আনতে গেলে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশানুল হক সৈকত, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ বজলুর রহমান, আজিজুল হক রানা, এমএ সাত্তার, তৎকালীন কাউন্সিলর আসিফ, কাউন্সিলর রাষ্ট্রন, কাউন্সিলর রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস বিপ্লব, তোফায়েল সিদ্দিক তুহিন, ইসমাইল হোসেন, বিচ্ছু জালাল, মাঈনুল হাসান রাসেল, কেএম ফজলে রাব্বি, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও অনেককে দায়ী করেন সৈকতের বোন। এ সময় তিনি নিজের ভাইসহ জুলাই আন্দোলনে সব হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

আরও পড়ুন: বিএডিসিসহ কৃষি ফার্মের শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ ও মজুরি বাড়ানোর দাবি

এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে তারেক আবদুল্লাহ, গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ, সহিদুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত তারিখের আগেই মিলেছে পাসপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ এম


নারায়ণগঞ্জে হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত তারিখের আগেই মিলেছে পাসপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত ডেলিভারি তারিখের আগেই পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই। নগরীর বিভিন্ন মসজিদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে দালালচক্রের খপ্পরে না পড়ে এবং ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। দালালমুক্ত ও হয়রানি মুক্ত পাসপোর্ট অফিস গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পুরো অফিসের সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।

যদি কোনো আবেদনকারীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, বয়সসহ অন্যান্য তথ্য ভুল হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, যদি কোনো আবেদনকারীর কাগজপত্র মিসিং থাকে, তবে সেটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে অফিসের কম্পিউটারে প্রিন্ট করে আবেদন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একজন গ্রাহক সাতদিন, ২১ দিন বা এক মাস মেয়াদি সময়ের মধ্যে ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদনের কপি কাউন্টারে জমা দিলেই আধা ঘণ্টার মধ্যে ডাক পড়ে ছবি তোলা, আইরিস ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার জন্য। ফলে পাসপোর্ট করতে আসা মানুষজন অনেকটা স্বস্তিতে পাসপোর্ট করতে পারছেন।

মেইন গেইটে আনসার সদস্যরা প্রতিটি মানুষের পাসপোর্ট অফিসে আসার কারণ জেনে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। এর ফলে দালালচক্রের সদস্য বা অবাঞ্চিত কোনো লোক প্রবেশ করতে পারছে না। কোনো প্রকার হয়রানি ও ভোগান্তি ছাড়া পাসপোর্ট করতে পেরে খুশি নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিতে আসা মানুষ।

পাসপোর্ট অফিসের গেইটে এবং মাঠের এক জায়গায় সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করে সেবা গ্রহীতাদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। গ্রাহকদের দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে বেশি টাকা ব্যয় না করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অফিসের আশেপাশে কোনো দোকান বা কম্পিউটারের দোকানির কাছে না গিয়ে নিজে নিজে ই-মেইল করে আবেদন ফরম পূরণ করাসহ অফিসের কর্মচারীদের সহায়তা নেওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে মাইকিং করে। পাসপোর্ট করতে আসা লোকজনের বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ফ্যান লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অথচ মাত্র ৭/৮ মাস আগে পাসপোর্ট সেবা গ্রহণ করতে এসে সেবা গ্রহীতাদের দালাল চক্রের খপ্পরে পড়তে হতো। আবেদন কপি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে আইরিশ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া এবং ছবি তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এই কক্ষ থেকে ওই কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে হয়রানি হতে হতো। আবার আবেদনে ভুল হলে নতুন করে আবেদন করতে হতো। সাত দিন বা ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে এক মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো। দালাল চক্রের সদস্যরা পাসপোর্ট অফিসের ভেতরেই ঘুরঘুর করতো। কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো এসব দালালচক্রের সদস্যরা।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ড বাগিয়ে এনআইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে দাপটের সঙ্গে দালালি করে টাকা কামিয়ে নিতো। এসব ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক নামধারী দালালদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না। আবার পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী এসব দালালচক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কমিশন নিতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দালালচক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করার পরও পাসপোর্ট অফিস থেকে দালালদের তাড়ানো যেতো না। কারণ অভিযানের কিছুদিন পর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজসে আবার ফিরে আসতো দালালচক্র।

তবে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বর্তমান উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম যোগদানের পর থেকে পাসপোর্ট সেবার চিত্র বদলে যেতে থাকে। উপ-পরিচালকের কঠোর দিক নির্দেশনা, পরিশ্রম ও নিয়মিত মনিটরিং এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পাসপোর্ট অফিসে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে সরেজিমন ঘুরে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। গেইটে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে আনসার সদস্যরা। প্রবেশের সময়ে পড়তে হচ্ছে জেরার মুখে। কি কারণে পাসপোর্ট অফিসে এসেছে তার কারণ বলে প্রবেশ করতে হচ্ছে প্রতিটি সেবা নিতে আসা মানুষকে।

গেইটে প্রবেশের মূল ফটকে ও অফিসের মাঠের খালি স্পেসের এক জায়গায় বসানো হয়েছে দুটি সাউন্ড বক্স। এই সাউন্ড বক্সে সার্বক্ষণিক প্রচার করা হচ্ছে দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি অফিসে এসে নিজের পাসপোর্ট নিজে করার জন্য, কাগজপত্র এবং ফরম পূরণ করার জন্য। পাসপোর্ট করার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন সেটি বলা হচ্ছে। এছাড়া একটি বড় এলইডি ডিসপ্লেতে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চালানো হচ্ছে পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

সোনারগাঁয়ের পানাম নগরীর লেকসিটি এলাকা থেকে আখি বেগম তার পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে এসেছেন পাসপোর্ট করতে। তিনি জানান, সরকারি ফি’র বাইরে কোনো প্রকার হয়রানি ও ঝক্কি ঝামেলা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আগেই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি।

ফতুল্লার রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা আরফান আহমেদ জানান, রোমানিয়া যাবার জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছি। দালাল ছাড়াই আবেদন করে আবেদনের কপি জমা দেওয়ার মাত্র ২০-২৫ মিনিট পরই ছবি, চোখের ও হাতের আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছি।

কাচঁপুরের শামীম আহমেদ জানান, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে এসেছি। এখানকার কর্মকর্তারা সহযোগিতা করায় খুব দ্রুত ছবি তোলাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছি ভোগান্তি ছাড়াই। দালালমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন কাউন্টারে আবেদনের কপি জমা দিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে ছবি তোলা, চোখের আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যাচ্ছেন।

আবার পাসপোর্টের প্রিন্ট হয়ে চলে আসছে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। শৃঙ্খলা ফেরাতে আনসার সদস্যরা হ্যান্ড মাইক দিয়ে দিক নির্দেশনা দেন। যাতে ভিড় না করে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে।

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম জানিয়েছেন, প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করার কারণে ভোগান্তি কমে এসেছে। পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিতে সরকারি ফি ছাড়া এর বাইরে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয় না। সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে বা পরে ইমাম মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষ সচেতন হয়। কম্পিউটারে পাসপোর্ট ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে ফরম পূরণ করে গ্রাহকরা যেন ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদনের কপি নিয়ে এলে কোনো আবেদনে কোন ভুলক্রটি ধরা পড়লেই তা আমাদের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে তৎক্ষণিক সংশোধন করে দেওয়ার জন্য।

শুধু তাই নয়, পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করার জন্য নেওয়া হয়েছে নানা রকমের ব্যবস্থা। তিনি বলেন, রোগী, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, হজেগমনে ব্যক্তি, গর্ভবতী মা ও শিশু, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফাস্ট প্রায়োরিটি দেওয়া হয়।

এছাড়া যে ব্যক্তি নিজে কোনো দালালের সহযোগিতা ছাড়া পাসপোর্টের ফরম পূরণ করে আসে তাকে প্রায়োরিটি বেসিসে কাজ করে দেওয়া হয়। আর যারা দালাল ধরে আসে তাদের লাইন দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য যারা আবেদন করছেন, তাদের পাসপোর্ট ৫ দিন বা ছয় দিনের মধ্যেই ডেলিভারির জন্য চলে আসছে। যারা ২১ দিনের জন্য বা কেউ এক মাস বা তারও বেশি সময়ে মধ্যে আবেদন করছেন, তাদের পাসপোর্ট নির্ধারিত ডেলিভারী তারিখের চার-পাঁচ দিন আগেই চলে আসছে। আমাদের ম্যাসেজ পেয়ে তারা পাসপোর্ট বুঝে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই কারণে দালালচক্রটি নাখোশ হয়ে নানা অবান্তর ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুর ফায়ার স্টেশনে ১২তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


মিরপুর ফায়ার স্টেশনে ১২তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্বোধন

ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : মিরপুর ফায়ার স্টেশনে ১২ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, যিনি ভবন নির্মাণস্থলের প্রতীকী মাটি কেটে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দু’টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মিরপুরে প্রথম ভবনের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে, মিরপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটারদের একটি সুসজ্জিত কন্টিনজেন্ট প্রধান অতিথিকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানায়। এরপর, প্রকল্প পরিচালক য্গ্মুসচিব মো. ছরোয়ার হোসেন প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ফায়ার সার্ভিসের ধর্মীয় শিক্ষক মুহাদ্দিস কাজী শরীফ উল্লাহ।

সূচনা বক্তব্য রাখেন মিরপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসিনুর রহমান।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণপূর্ত প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন উইং) মো. নুরুজ্জামান হোসেন জহির এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভবনের নকশাকার নূর-এ আসমানি।

এরপর, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রকল্প পরিচালক যুগ্মসচিব মো. ছরোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। তিনি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ গণপূর্ত, পিডব্লিউডি, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল প্রকল্প পরিচালকসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় উপস্থিত সকল সদস্য প্রকল্প ও ফায়ার সার্ভিসের সাফল্য কামনা করে মোনাজাত করেন।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের এমডি, ফায়ার সার্ভিস, পিডব্লিউডি ও গণপূর্তের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং ঠিকাদার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুর লায়ন্স কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


সৈয়দপুর লায়ন্স কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

নীলফামারীর সৈয়দপুরে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শহরের বিমানবন্দর সড়কের প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সভাপতি লায়ন মো. জাকির হোসেন মেনন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সহ-সভাপতি লায়ন আলী ইমাম এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করেন লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন আলহাজ মো. শফিয়ার রহমান সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল জেহাদী এবং সহকারী অধ্যাপক নাছিমা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়ন আনোয়ার আলী, লায়ন মো. আবুল খায়ের মোল্লা, লায়ন শাহানা আজহারসহ কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। উপাধ্যক্ষ (কলেজ) মো. সাজ্জাদ হোসেনের সার্বিক পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহী ও লাবিব। নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহেদুল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের কর্মকর্তা ও সদস্য, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, উল্লেখ্য যে, লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুর পরিচালিত লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির তিন বিভাগে মোট ৩৫২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৭ জন, মানবিক বিভাগে ১৩৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ রামপুরা থানাধীন টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৩ এর একটি দল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে।

এই অভিযানে পিচ্চি আলামিনের কাছ থেকে ১টি বিদেশি রিভলভার এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পিচ্চি আলামিন রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় অবস্থিত ‘গ্রীনজোন অনলাইন’ নামক একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলার অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%