০৬:১৫ পি.এম
বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে যে তিনি নিখোঁজ ছিলেন না, বরং বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভ্রণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
আজ সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১২ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগটি অনুযায়ী, আগের দিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে। তদন্তের সময় জিসানের স্বজনদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিসান প্রধান ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গর্ভপাত না করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে গর্ভপাতের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীকে সেবন করানো হয়েছে। এর ফলে ভ্রণ নষ্ট হয় এবং শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে আরও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছিল, যা তদন্তে উঠে এসেছে।
বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান বিয়েতে সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার পক্ষ থেকে নিখোঁজের জিডি করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট নারীকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেফতার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলায় জিসান ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত সজীব হাসান ও সেকান্দার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জিসান প্রধান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরার স্বার্থে জাতীয় সংসদে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি কোনো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন