ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইয়ে ব্রিটেনের বাজেট ঘাটতি ১৮০ কোটি পাউন্ড


জুলাইয়ে ব্রিটেনের বাজেট ঘাটতি ১৮০ কোটি পাউন্ড

জুলাই মাসে ব্রিটেনের সরকারের বাজেট অপ্রত্যাশিতভাবে ১৮০ কোটি পাউন্ড ঘাটতিতে পড়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে এই ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

এমন অবস্থায়, ব্যক্তিগত আয়কর থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হলেও সরকারের আর্থিক ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়নি।

অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন, এই জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকারের আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় একই থাকবে। রয়টার্সের করা এক জরিপে বাজেট ভারসাম্যে থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সরকারের স্বাধীন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসদাতা প্রতিষ্ঠান বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয় (ওবিআর) জুলাইয়ে ৫০ কোটি পাউন্ড বাজেট উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

যদি সেই পূর্বাভাসটি সত্যি হতো, তাহলে করোনাভাইরাস মহামারির পর এই বছরের জুলাইয়ে ব্রিটেন প্রথমবারের মতো বাজেট উদ্বৃদ্ধি পেত। কিন্তু বাস্তবে সরকারের ব্যয় প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হয়েছে।

ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুবিধা খাতে ব্যয় বেড়েছে ২০০ কোটি পাউন্ড। এছাড়া, পণ্য ও সেবা খাতেও সরকারের ব্যয় বেড়েছে ১২০ কোটি পাউন্ড।

এই খাতের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ের বিষয়টি রয়েছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে সরকার ব্যক্তিগত আয়কর থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সরকারি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাড়তি রাজস্বও বাজেট ঘাটতি ঠেকাতে পারেনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৭০ কোটি পাউন্ড। এই সময়ের জন্য বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয়ের পূর্বাভাস ৫৪৪০ কোটি পাউন্ড ছিল। এর মানে সরকারের প্রকৃত ঋণ পূর্বাভাসের ২৩০ কোটি পাউন্ড বেশী হয়েছে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চাপ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সরকারের বর্তমান বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৪৭০ কোটি পাউন্ড, যেখানে ওবিআরের পূর্বাভাস ছিল ৩৬৭০ কোটি পাউন্ড। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে এই ঘাটতি ভারসাম্যে আনতে হবে।

এই পরিসংখ্যান নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং অর্থমন্ত্রী জন হিলির সামনে থাকা অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি আরো পরিষ্কার করেছে। অর্থমন্ত্রী হিলি আগামী অক্টোবরের বাজেট তৈরির কাজ করছেন। সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কিছু তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় ভালো এসেছে। ফলে সরকারের জন্য কিছুটা ইতিবাচক পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। তবে, সরকারি ব্যয়, ঋণ ও বাজেট ঘাটতির চাপ কমানো সরকারের সামনে বড় বিষয় হয়ে থাকছে।

অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে আর্থিক শৃঙ্খলা। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা আমাদের যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি।’ তিনি বলেন, সরকার তাদের নির্ধারিত আর্থিক নিয়ম মেনে চলবে। একইসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা মোকাবেলার জন্য সরকার একটি নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখবে।

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নায়করাজকে হারানোর ৯ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


নায়করাজকে হারানোর ৯ বছর

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর অভিনয়, স্বতন্ত্রতা এবং দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁকে এনে দিয়েছিল ‘নায়করাজ’ উপাধি, যা আজও দর্শকদের মনে রয়েছে।

আজ শনিবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। রাজ্জাকের প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।

সময়সাশ্রয় হলেও দর্শকের হৃদয়ে আজও সমান উজ্জ্বল নায়করাজের স্মৃতি। তাঁর অসাধারণ অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান তাঁকে করেছে অনন্য।

কলকাতা থেকে ঢাকায়, পরে নায়করাজ হিসেবে তৈরি হওয়া। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ।

কলকাতার থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন। এরপর সিনেমার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ে। ১৯৫৯ সালে সেখানে ফিল্মালয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতায় ফিরে ‘শিলালিপি’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে হয় তাঁকে। নতুন শহরে শুরু হয় জীবনের নতুন লড়াই। শূন্য থেকে পথচলা শুরু করা সেই রাজ্জাকই একসময় নিজের মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রের ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠেন।

বাংলাদেশে এসে‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান। ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর এ দেশের চলচ্চিত্রযাত্রা। এরপর তিনি ‘কার বউ’ ও ‘ডাক বাবু’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

তবে রাজ্জাকের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। এই চলচ্চিত্রে লখিন্দরের চরিত্রে সুচন্দার বিপরীতে প্রথমবার নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ছবিটি মুক্তির পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

স্বাধীনতার পর শুরু ‘রাজ্জাক যুগ’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্জাক অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মানুষের মন’ ব্যাপক ব্যবসাসফলতা পায়। অনেকের মতে, এর মধ্য দিয়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রে শুরু হয় ‘রাজ্জাক যুগ’।

পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ও ‘অবুঝ মন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত করেন। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে সত্তর ও আশির দশকজুড়ে ছিল তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা। তিনি অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে এবং ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন।

তাঁর জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘মধু মিলন’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কী যে করি’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘বেইমান’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘অনন্ত প্রেম’ ও ‘বাঁদী থেকে বেগম’সহ আরও অনেক ছবি।

পর্দার জনপ্রিয় জুটি থেকে নায়করাজের আসনে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সুচন্দা, কবরী, শাবানা ও ববিতার সঙ্গে রাজ্জাকের জুটি দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করেছিল। একের পর এক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়কের আসনে নিয়ে যায়।

অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। দর্শকের দেওয়া ‘নায়করাজ’ উপাধিটিই তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

মৃত্যুবার্ষিকীতে পারিবারিক আয়োজন। রাজ্জাকের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কুরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত ও বাদ আসর পরিবারের সবাই মিলে দোয়া করা হবে। এর বেশি কিছু করা হচ্ছে না।’

যে ছবিগুলোতে আজও বেঁচে আছেন নায়করাজ। রাজ্জাক অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘এটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নাচের পুতুল’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘শুভদা’, ‘অভিযান’, ‘যোগাযোগ’, ‘অন্ধবিশ্বাস’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘মানুষের মন’, ‘অতিথি’, ‘যোগ বিয়োগ’, ‘মধু মিলন’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘দুই ভাই’, ‘আবির্ভাব’, ‘বন্ধু’, ‘বাঁশরী’, ‘আশার আলো’, ‘কে তুমি’, ‘মতিমহল’, ‘আনোয়ারা’, ‘নাত বউ’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘মহানগর’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘স্বরলিপি’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’ ও ‘বাবা কেন চাকর’।

ব্যক্তিগত জীবনে রাজলক্ষীর সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক ছিলেন রাজ্জাক। তাঁর দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও খালিদ হোসেন সম্রাটও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

জীবনের শেষভাগে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃত্যুর পর তাঁকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

আজ তাঁর মৃত্যুর নয় বছর পূর্ণ হলেও নায়করাজ রাজ্জাক যেন শুধুই স্মৃতির মানুষ নন। সাদা-কালো কিংবা রঙিন পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, সংলাপ আর অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আজও বেঁচে আছেন বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রামীণ ভারতে কাজে লাগবে স্টারলিঙ্ক, দাবি ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


গ্রামীণ ভারতে কাজে লাগবে স্টারলিঙ্ক, দাবি ইলন মাস্কের

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের পাশাপাশি ভারতকেও বদলে দিয়েছে ইন্টারনেট। বর্তমানে ভারতের গ্রামে বসেও ব্যবহার করা যাচ্ছে দ্রুত গতির ৫জি এবং ওয়্যারলেস ফিক্সড ইন্টারনেট। এই সুবিধাগুলির মাধ্যমে আউটসোর্সিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, দূরশিক্ষণ এবং ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়া যাচ্ছে।

কিন্তু এটি সত্য যে ভারতের বহু দুর্গম এলাকা এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেটের গতি মন্থর। দৈনন্দিন জীবন এবং সরকারি সেবাগুলো দিন দিন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে, এই সংযোগহীনতা গ্রামীণ ভারতের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক বিশ্বাস করেন, তার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ভারতবর্ষের সেইসব মানুষকে সাহায্য করতে পারে যাদের এখনও ইন্টারনেট বা মৌলিক সুযোগ-সুবিধায় পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার নেই। বিশেষ করে এটি গ্রামগুলোতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার সকালে ইলন মাস্ক এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন। মূল পোস্টে ওই ব্যবহারকারী দাবি করেছিলেন, ভারতের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক প্রয়োজন। ইলন মাস্কের রি-শেয়ার করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ভারতে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন থাকার পরও ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামের মধ্যে এখনও কোনো ৪জি সংযোগ নেই। পোস্টটিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অবকাঠামোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয় গ্রামীণ অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ভারতনেট’ প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ৫০ হাজার রুট-কিলোমিটারের বেশি ফাইবার এবং ৮০ হাজার ৪৭২টি সচল গ্রাম পঞ্চায়েত পয়েন্ট অব প্রেজেন্স-এর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মাস্ক লিখেছেন, ‘স্টারলিংক ভারতের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে সাহায্য করবে।’ বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক তার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোতে সেবা দেওয়ার জন্য স্টারলিংক-কে প্রস্তুত করছেন। স্টারলিংক ভারতে টেলিকম লাইসেন্স পেয়েছে। যদিও, দেশটিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করার আগে স্টারলিঙ্ককে এখনো চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে স্টারলিংক আসার খবরে উদ্বেগ বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএল কিংবা অন্যান্য টেলিকম সংস্থাগুলির মধ্যে। যদিও, এ বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় টেলিকম প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর বলেন, ‘ভারতে স্টারলিংকের সর্বোচ্চ ২০ লাখ গ্রাহক থাকবে। শুধু তাই নয়, স্টারলিংক মাত্র ২০০ এমবিপিএস পর্যন্ত ইন্টারনেটের সুবিধা অফার করবে। ফলে এতে টেলিকম পরিসেবার উপর কোনো প্রভাব পড়বে না।’ স্টারলিংক যেহেতু কোনো ফাইবার কেবল ছাড়াই সেবা দেয়, তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়েও স্টারলিংক সেবায় কোনো বিঘ্ন দেখা দেয় না। স্টারলিংক নিয়ে এত আলোচনা থাকার পরেও শুধু মাত্র ২০ লাখ গ্রাহককে পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে কারণ, আপাতত স্টারলিংক পরিসেবার ক্ষমতা সীমিত। এছাড়া, স্টারলিংক পরিসেবার খরচও অন্য টেলিকমের তুলনায় অনেক বেশি।

ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক পরিসেবা চালু রয়েছে। একেক জায়গায় পরিসেবা বাবদ খরচ একেক রকম। ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ ভুটান এবং বাংলাদেশেও স্টারলিংক রয়েছে। দুই দেশেই স্টারলিংকের বাড়িতে ব্যবহৃত ইন্টারনেটের খরচ মাসে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। ভারতে মাস্কের সংস্থার ইন্টারনেট সুবিধা পেতে হলে মাসে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রুপি ব্যয় হতে পারে বলেও মানব পার্টি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রায়গঞ্জে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত, আহত হেলপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


রায়গঞ্জে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত, আহত হেলপার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বালুবাহী ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক চালক নিহত হন। এই ঘটনায় রায়হান নামে ওই ডাম্প ট্রাকের এক হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার নূর পাম্পের প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এস অ্যান্ড বি ভাটার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শরিফুল যশোরের বেনাপোল উপজেলার বারেপোতা গ্রামের রজব আলীর ছেলে। আহত রায়হানের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এদিন সকালে বালুবাহী ডাম্প ট্রাকটি দ্রুতগতিতে ওই সড়ক দিয়ে চলছিল।

এ সময় ডাম্প ট্রাকের হেলপার রায়হান ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন, এবং চালক শরিফুল ঘুমিয়ে ছিলেন। দ্রুত গতিতে চলার এক পর্যায়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়।

এর ফলে শরিফুল ও রায়হান দুজনই গুরুতরভাবে আহত হন। খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফুল ইসলাম মারা যান। অপরদিকে আহত রায়হান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজ্জাক আঙ্কেল ছিলেন মাথার ওপর ছায়ার মতো : শাকিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


রাজ্জাক আঙ্কেল ছিলেন মাথার ওপর ছায়ার মতো : শাকিব

আজ ৯ বছর পূর্ণ হলো বাংলার ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাককে হারানোর। এই বিশেষ দিনে দেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সহিত গভীর স্নেহের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিয় এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে শাকিব খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন। এই পোস্টে তিনি নায়করাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

শাকিব খান ফেসবুক পোস্টে নায়করাজের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে উল্লেখ করেন, ‘নায়করাজ রাজ্জাক আঙ্কেলকে হারানোর ৯ বছর আজ। তাকে হারানোর শূন্যতা আজও সমানভাবে অনুভব করি। তিনি ছিলেন শুধু একজন কিংবদন্তি নায়কই নয়, বরং চলচ্চিত্রের একজন অভিভাবক, অনুপ্রেরণা এবং ভালোবাসার একটি বিশাল আশ্রয়।’

নায়করাজ রাজ্জাকের স্নেহ ও ভালোবাসা স্মরণ করে তিনি আরো লিখেছেন, ‘বিশেষ করে তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক দিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো, খুবই ব্যক্তিগত।’

এই অভিনেতা জানান, নায়করাজের শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনো তার পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তার ভাষায়, ‘তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনো আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যত দিন থাকবে, নায়করাজ তত দিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।’

সবশেষে শ্রদ্ধা জানিয়ে শাকিব খান লেখেন, ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।’

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নায়করাজ রাজ্জাক রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর ৯ বছর পরও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবদান, অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি তার স্নেহ আজও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা স্মরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%