০২:২১ পি.এম
এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড শোকজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনেরও কম এবং এখানে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। শিক্ষা গবেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেল।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের শুধু পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, এবং তাদের সবাই ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানে সাতজন শিক্ষক আছেন এবং তাদের অভিযোগ, নানা সংকটের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। একজন শিক্ষকের বক্তব্য, গণিতের শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হয়েছে।
গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার জন্য ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, কিন্তু একজনও পাস করেনি। এখানে ১৮ জন শিক্ষক রয়েছে এবং তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক পড়াশোনা নিয়ে সচেতন নয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অল্পবয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অভিভাবক এসে মেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন। পরে জানা যায় তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের চিত্র প্রায় একই, যেখানে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ধাপে ধাপে শোকজ করা হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা নিজেদের কোনো সমস্যার কারণে এমন ফলাফল হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা পরীক্ষা করা দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক বা দুইজন সহকারী কর্মকর্তা রয়েছে। তাদের পক্ষে সকল প্রতিষ্ঠানের নজর রাখা সম্ভব নয়, তাই দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের ফেল করার কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিগত সময়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যথাযথ নিয়ম না মেনে দেওয়া হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান এবং উপযুক্ত পরিবেশ তো দুরের কথা, গুনগত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।
আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন
সংশ্লিষ্টরা মনে করেছ, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের কারণ চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন