মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০২:২৩ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে।
প্রতিবাদ মিছিলটি সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদুর রহমান সাজিদ। বক্তৃতা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জিমি হৃদয়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি রনি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল সরকার, সাবেক সহসভাপতি মোকারম হোসেন আদি, যুগ্ম আহ্বায়ক রিজোয়ান হক (শীষ) এবং জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের নেতৃত্বে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বক্তারা দ্রুত শাহাদাত হোসেন শোভনসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একইসাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে এসে ছাত্রদলের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জানিগাঁও এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে যাওয়ার ফলে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় সেখানে স্বজনদের ভিড় ও কান্নার আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।দুর্ঘটনাটি সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস জানিগাঁও এলাকায় পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এর ফলে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত ওই নারীর নাম শিল্পী রানী দাস (৩০)।সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ দুর্ঘটনায় একজন নারীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়রা সকলের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোমবার (২৪ আগস্ট) জমা দেওয়া হয়। তবে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করতে রাজি হয়নি কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একটি অনলাইন পোর্টালে ইবির কয়েকজন শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদককে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে তাদের কথোপকথনের স্ক্রিনশটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৪৪ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, ইবির শিক্ষকদের নামের সঙ্গে মিলে যায় এমন প্রায় ২৫ জনের নাম পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, যদি অভিযুক্ত শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সের পরিপন্থি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এটি তদন্তাধীন বিষয়। এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে কমিটির আহ্বায়ক বলবেন। অথবা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করব।"
কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জানিয়েছেন, "নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগে তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশের নিয়ম নেই। তাই এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
এই সিদ্ধান্তটি সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় গৃহীত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘সি’ ইউনিটের মধ্যে কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা ও চারুকলা স্কুলের ডিসিপ্লিনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অপরদিকে, ‘ডি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিসিপ্লিনগুলো।
পরবর্তী দিন ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিসিপ্লিনগুলো রয়েছে। আর ‘বি’ ইউনিটের আওতায় জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিসিপ্লিনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি, কেন্দ্র ও অন্যান্য নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শুধুমাত্র শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, বরং এর সবুজ ও শ্যামল পরিবেশের জন্যও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে পুরোনো গাছগুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া এমন একটি গাছ এবার ভেঙে পড়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে অবস্থিত সেই ছায়াদানকারী কৃষ্ণচূড়া গাছটি।
কৃষ্ণচূড়া গাছটি ছিল কেবল একটি গাছ নয়; এটি ছিল ক্যাম্পাসের এক টুকরো স্মৃতি। রোদে ঘেমে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিয়েছেন। কেউ বই খুলে পড়েছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন। পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝে কিংবা ক্লাস শেষে অনেকের জন্য এটি ছিল স্বস্তির একটি স্থান।
কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে দৃশ্যটি হয়ে উঠত আরও বিশেষ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুলে গাছটি যেন পুরো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের একটি আলাদা প্রতীক হয়ে উঠত। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। কেউ হয়তো প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কেউবা একা দাঁড়িয়ে গাছটির সৌন্দর্য স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন।
সময়ের সাথে সাথে গাছটির বয়স বেড়েছে। কাণ্ডে এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, ডালপালা হয়েছে দুর্বল। তথাপি, ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে ছিল। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুরোনো প্রজন্ম বিদায় নিয়েছে, কিন্তু কৃষ্ণচূড়াটি একই স্থানে থেকে গেছে। তাই এটি অনেকের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি।
গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই সেখানে ছুটে যান। কেউ বিস্মিত হয়ে দেখেন তার বিশাল কাণ্ড, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন শেষ দৃশ্যটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
জুবায়ের রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী গাছটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, "আমরা যারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী আছি তাদের কষ্টটা একটু বোধহয় বেশি। এইতো, কয়েকদিন আগেই আমরা এখানে প্রোগ্রাম করলাম। ডিপার্টমেন্টে যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢুকার আগে পরে চোখে পড়ে। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলি?"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "ক্যাম্পাসের একটা জীবন্ত প্রাণ ও ইতিহাসের একটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল। থমকে যাওয়া এই ডালে ডালে আজও লেগে আছে অজস্র শিক্ষার্থীর স্মৃতির মায়া।"
মুবতাসির ফুয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটা ভেঙে পড়েছে। প্রেমিকা মারা গেলে হয়ত এত বেশি দুঃখ হতো না। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এই রাস্তাটা দিয়ে আর হাঁটবো কীভাবে? কীভাবে তাকাবো এই অনুপস্থিতির দিকে?"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, "কৃষ্ণচূড়া গাছটি অত্যন্ত সুন্দর একটি গাছ ছিলো। এই গাছটির নিচে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এত ছবি তুলেছে যে এটা এতটাই জনপ্রিয় ছিলো। গাছটার গড়নও খুব সুন্দর ছিল। গাছটাকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে এটা ভেঙে পড়ে যাবে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বয়স্ক কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোর চেয়ে এ গাছটির গঠনও আলাদা ছিলো। আসলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন একটি সুন্দর গাছ হারালাম।"
একটি গাছ পড়ে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলে, পুরোনো ছবিতে আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া সেই গাছটি হয়তো বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ