০৫:৩৫ পি.এম
সংসদ ভবন, ১৬ জুন, ২০২৬ : সরকার রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যা স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি তিনটি ভাগে বিভক্ত, এমন খবর জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী আজ সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে।
আরও পড়ুন: সংবাদপত্রের মালিক পেয়ার মিয়াঁকে ১০ দফা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মন্ত্রী জানালেন, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাজধানীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট এবং খালসমূহ থেকে নিয়মিত পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা। ভারী বর্ষণের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ অঞ্চলে পোর্টেবল পাম্প ব্যবহার করে দ্রুত বৃষ্টির পানি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলো নিয়েও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে যথেষ্ট সংখ্যক ক্যাচপিট এবং লোহার গ্রেটিংস স্থাপন কাজে নিযুক্ত রয়েছে। জলাবদ্ধতা রোধ করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়র্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চারটি বৃহৎ খালের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে যা খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। উল্লেখযোগ্য, জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশন করার জন্য আউটলেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
এছাড়া, রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান নর্দমাগুলোর সংস্কার ও মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে, এমনটি মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল এবং মৃধাবাড়ি খালসহ ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা কমাতে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণ এবং নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা ধীরে ধীরে কমে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন