১০:৫৫ পি.এম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগও ওঠে।
আরও পড়ুন: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ
এদিকে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও তা আন্দোলন থামাতে পারেনি।
রাতেও শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
সেখান থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে যান তারা। পরে সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: জাপানি কনসোর্টিয়ামকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় প্রদান
অবরোধ চলাকালে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
তবে তারা অবস্থান চালিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জের টেক্সটাইল মিলে এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ দগ্ধ
পরে পুলিশ সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় অবস্থান নেন।
এ সময় উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
জবাবে পুলিশ আবারও ধাওয়া দিয়ে তাদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরিয়ে দেয় এবং আসাদগেট মোড়ে অবস্থান নেয়।
এরপরও আন্দোলন থামেনি।
আরও পড়ুন: আজ শপথগ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য
রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
আন্দোলনকারীরা দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে যেসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সিলেটে শ্রমিক অসন্তোষে পরাজিত শক্তির উস্কানি: রুহুল কবির রিজভী
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য একটি প্রশ্নপত্র সেটে যে দিন নেওয়া হবে, একই সময়ে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোও অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নিজের একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্প্লি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।'
প্রসঙ্গত, সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে যায়, যেখানে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন– এমন দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: এই সপ্তাহে ৩ দিনের ছুটি পাবেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা
ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন