০৯:২০ এম
শিক্ষা প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, যারা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শোকজ, পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল ও এমপিও বন্ধের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের দ্বারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ তথ্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪২। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬৫-তে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২০২ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে টানা চার বছর ধরে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের শিক্ষা বোর্ডে ডেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ সময় গত পাঁচ বছরের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিসংখ্যান চাওয়া হবে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: জাবিতে পরিচালক নিয়োগের প্রতিবাদে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, পাঁচ বছরে একবার কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করলে শোকজ করা হবে। একই সময়ে দুবার এমন ঘটনা ঘটলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। আর তিনবার ঘটলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধ করা হবে। তবে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ হবে না; তাঁদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির সুপারিশ করা হবে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। মাদ্রাসা বোর্ডে এ সংখ্যা ৫৫ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৭। সব মিলিয়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯৩।
ময়মনসিংহ বোর্ডের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১০২ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, দিনাজপুর বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪৯টি এবং রাজশাহী বোর্ডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম তামাম, তিনি কীভাবে পড়াশোনা করতেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন