মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৭ পি.এম
রংপুরের পীরগঞ্জের জমি থেকে ব্যবসায়ীরা কম দামে কলা কিনছেন। কিন্তু হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর কলার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে চাষিরা উৎপাদিত কলার ন্যায্যমূল্য নিয়ে চিন্তিত, এবং সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দামে কলা কিনতে হচ্ছে।
জামদানী গ্রামের কলাচাষি আইয়ুব আলী মন্তব্য করেন, "আমরা জমিতে কলা চাষ করে যে দাম পাই, ব্যবসায়ীরা জমি থেকে কলা কেটে রাস্তায় তোলার পরই দাম বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে কলা কিনতে হয়।"
কলা ব্যবসায়ী রাঙা মিয়া জানান, জমি থেকে কলা কেটে রাস্তায় তোলা, গাড়িতে বোঝাই করা এবং মোকামে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন খরচ রয়েছে। এসব খরচ বাদ দিলে লাভের মুখ দেখা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
চেরাগপুর গ্রামের মালভোগ কলাচাষি মোতালেব মন্ডল জানান, তাঁর বাগানে বর্তমানে ৫২৫টি কলার ছড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি ছড়ি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ প্রতিটি ছড়ির দাম পড়েছে ৮০০ টাকা। কিন্তু জমি থেকে কলা কেটে বাজারজাত করার পর বিভিন্ন পর্যায়ে এর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খুচরা বাজারে মালভোগ কলা বর্তমানে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, চাষিরা জমি থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি কলা ৫ টাকারও কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে উৎপাদক থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগে কলার দাম কয়েক দফা বাড়ছে।
অন্যদিকে, সাগর কলার প্রতিটি ছড়ি ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি ছড়িতে গড়ে ১৪০টি কলা থাকলে প্রতিটি কলার ক্রয়মূল্য প্রায় ৩ টাকা। কিন্তু হাতবদলের পর একই কলা খুচরা বাজারে প্রায় ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে ৪৩৪ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, চাষিরা ভালো দামে কলা বিক্রি করছেন।
চাষি ও স্থানীয়দের মতে, এ বছর কলার ফলন ও বাজারদর তুলনামূলকভাবে চাষিদের অনুকূলে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কলার সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগামী বছর ফলন ও বাজারদর কেমন হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে চাষিদের মধ্যে।
এদিকে, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়লে কলা উৎপাদনের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বর্তমান বাজারদরেও লাভ কমে যেতে পারে।
চাষিদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জমি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ১৮ জন নারীকে ধাত্রীবিদ্যার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, বান্দরবান সেনানিবাসের এমডিএস ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের ব্যবস্থাপনায় এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনায় তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত ১৮ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি নারী অংশগ্রহণ করছেন।
প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনে গর্ভাবস্থায় বিপদ সংকেত, সাধারণ শারীরিক সমস্যা ও তার প্রতিকার, ডায়রিয়া, কলেরা ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং প্রসবকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়ের সেবা ও সাধারণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন চিকিৎসক ডা. শাহানা রহমান, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস; ক্যাপ্টেন লাবিব দাইয়ান, এএমসি এবং মেজর মোছা. শাহরীন জাহান প্রধান, এএমসি।
প্রশিক্ষণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বান্দরবানের নিউ গুলশান এলাকায় অবস্থিত সোমাং বম হোস্টেলে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণস্থলে যাতায়াতের জন্য ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বান্দরবান সদর হাসপাতাল পরিদর্শনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারীরা মাতৃ স্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের যত্ন এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে পরকীয়া সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে স্ত্রী রেহানা বেগমকে (৩৮) হত্যার অভিযোগ স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মহিষাসুরা ইউনিয়নের হামটি গ্রামে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জসিম উদ্দিন পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক জসিম উদ্দিনের অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে যখন তাদের দুই মেয়ে মক্তবে চলে যায়, তখন তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন তার স্ত্রী রেহানা বেগমের মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একটি মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। মঙ্গলবার সকালে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন জসিম, এবং এতে ঘটনাস্থলেই রেহানা মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন এখনও পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঠে অসংযত আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শাস্তির মুখে পড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রভম্যান পাওয়েল ও শেরফান রাদারফোর্ড। ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে তাদের। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্টও যুক্ত করেছে।
গত শুক্রবার রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচে ঘটে শাস্তির কারণ হওয়া দুটি ঘটনা। তবে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিসি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আচরণবিধির লেভেল ওয়ান পর্যায়ের অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাওয়েলের অপরাধ ছিল আইসিসির আচরণবিধির ২.২ ধারা লঙ্ঘন করা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্রিকেটের সরঞ্জাম কিংবা মাঠের উপকরণের অপব্যবহার এই ধারার আওতায় পড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মায়াঙ্ক ইয়াদাভের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাওয়েল। আউট হওয়ার হতাশা থেকে তিনি ব্যাট দিয়ে বলের ওপর আঘাত করেন। আইসিসি তার এই আচরণকে বিধিভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
অন্যদিকে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ দেখিয়ে শাস্তি পেয়েছেন রাদারফোর্ড। আচরণবিধির ২.৮ ধারা অনুযায়ী, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর আচরণ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ম্যাচের ১৩তম ওভারে একটি বলকে ওয়াইড ঘোষণা না করায় আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চিৎকার করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। এ ঘটনার জেরেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাওয়েল ও রাদারফোর্ড দুজনই নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। ম্যাচ রেফারির দেওয়া শাস্তি তারা মেনে নেওয়ায় এ বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
এদিকে, পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত বর্তমানে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের দুই ক্রিকেটারের শাস্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭নং জগদল ইউনিয়ন তথা পূর্বদিরাইয়ের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রায়বাঙ্গাঁলী শাহ পরান (রহ.) বাজার থেকে বুড়াকালী ব্রিজ পর্যন্ত পাকা রাস্তা ভেঙে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন দুরবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
এই সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুর হয়ে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন পূর্বদিরাইয়ের অসংখ্য মানুষ। প্রতিদিন রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে নানা প্রয়োজনে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কটির বেহাল অবস্থা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেওয়াও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে রায়বাঙ্গাঁলী শাহ পরান (রহ.) বাজার থেকে বুড়াকালী ব্রিজ পর্যন্ত ভাঙা পাকা সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলে পূর্বদিরাইয়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, চিকিৎসাসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবহেলিত না রেখে দ্রুত মেরামত করা জরুরি।
জনদুর্ভোগ নিরসনে রায়বাঙ্গাঁলী শাহ পরান (রহ.) বাজার থেকে বুড়াকালী ব্রিজ পর্যন্ত পাকা সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হোক—এটাই পূর্বদিরাইয়ের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি।
✍️ হামিদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ