১১:০৩ এম
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন কাঠামোর অধীনে প্রিলিমিনারির পাশাপাশি লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষার সিলেবাস এবং নম্বর বণ্টনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
এনটিআরসিএর নতুন নিয়োগ কাঠামোতে তিনটি ধাপের মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১০০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা। তবে বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মূলত বিধিমালা সংশোধনের পর চূড়ান্ত সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারিত হবে।
নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রথম ধাপে এক ঘণ্টার ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে, কিন্তু প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এই ধাপে পাস করার জন্য পরীক্ষার্থীদের অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা ইসির
প্রিলিমিনারির সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রস্তাবিত এই পদ্ধতি কার্যকর করতে বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ধাপ, সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনের কোনোটি চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।
নিবন্ধন নয়, সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ
এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পদ্ধতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসছে। পূর্বে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হতো। পরে পৃথক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধনের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে পরীক্ষার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আগের ধারাবাহিকতায় ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। এর পরিবর্তে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা চলছে, যা আগামী ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আরও পড়ুন: মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ডিসেম্বর
এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ওই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালের মার্চে। এর পর দীর্ঘ সময় নতুন নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। এবার নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন