০৬:৪৭ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, "জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।"
তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন। এ সভা শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী বলেন, "অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছে। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি।" তিনি আরও জানান, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। "রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহসভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম।"
আরও পড়ুন: কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি বিলুপ্ত, গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি
তিনি বলেন, "আজ যখন একজন বীর শহীদের বাবা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
রিজভী আরও বলেন, "বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, "ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে।" আবরার ফাহাদের সাহসী প্রতিবাদকে তার আসল অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, "আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল।" রিজভী বলেন, "সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়ন।"
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, "ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে, কিন্তু খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি।"
আরও পড়ুন: এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, "বাংলায় প্রবাদ আছে— ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’।" আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কিভাবে রুখে দাঁড়ায়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের হাজারো ছাত্রদল নেতাকর্মী।
আরও পড়ুন: আজ দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন