ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে জাতীয়তাবাদী শক্তি: রিজভী


দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে জাতীয়তাবাদী শক্তি: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, "জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।"

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন। এ সভা শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, "অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছে। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি।" তিনি আরও জানান, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। "রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহসভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম।"

আরও পড়ুন: কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি বিলুপ্ত, গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি

তিনি বলেন, "আজ যখন একজন বীর শহীদের বাবা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"

রিজভী আরও বলেন, "বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, "ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে।" আবরার ফাহাদের সাহসী প্রতিবাদকে তার আসল অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, "আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল।" রিজভী বলেন, "সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়ন।"

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, "ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে, কিন্তু খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি।"

আরও পড়ুন: এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, "বাংলায় প্রবাদ আছে— ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’।" আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কিভাবে রুখে দাঁড়ায়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের হাজারো ছাত্রদল নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন: আজ দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়েটে অবস্থানের পর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


চুয়েটে অবস্থানের পর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা অবশেষে সমাধান হয়েছে। নতুন উপাচার্যের নির্দেশের কারণে বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন।

বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের প্রতিবাদের মুখে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জটিলতার সমাধান হয়।

জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক ফিরতি মেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের সইসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বিল পাওয়ার বিষয়টি উপাচার্যকে জানান।

এরপর উপাচার্য আরেকটি ই-মেইলে পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনুমোদন ছাড়া বেতন বিল পাঠানোর কারণে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘চুয়েটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কম্পট্রোলারের মাধ্যমে প্রতি মাসের মতো এ মাসেও বেতন বিল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্যের হস্তক্ষেপে বেতন-ভাতা আটকে যায়।’

বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বেতন ও উৎসব ভাতা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। পরে বুধবার সকালে তারা সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন।

বেতন বন্ধ রাখা বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, ‘উপাচার্যের মেইলের পরই বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। পরে তাঁদের নির্দেশে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে।’

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হতে থাকে। এতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।

চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে আমরা চুয়েট শাখার সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে আমাদের আন্দোলনের মুখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সমাধান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ব্যাংকে টাকা ঢুকতে শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেতন-ভাতার সমস্যার সমাধান হওয়ায় আমরা ব্যাংকের সামনে থেকে সরে এসেছি। তবে আমাদের আগের দাবি, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এ দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় শাটডাউন কর্মসূচি। পরে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যান।

নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৬ দিন ধরে শাটডাউন চলছে চুয়েটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল : দেশী-বিদেশি পর্যটক বাড়ানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল : দেশী-বিদেশি পর্যটক বাড়ানো

কক্সবাজার, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। এই আয়োজন শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে এবং চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য দিন ও রাতজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বিনোদন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম থাকবে এই কার্নিভালে। মূলত পর্যটকদের কক্সবাজারে অবস্থানের সময় বাড়ানো এবং বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

সামীমুজ্জামান মন্তব্য করেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে। হলিডে সিজনে লাখো পর্যটকের প্রাণচাঞ্চল্যে এবার কক্সবাজারে নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।

কক্সবাজারের পর্যটন খাত শুধুমাত্র বিনোদনের উৎস নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৭টি খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টরা এক সপ্তাহে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তখন কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলোর সম্মিলিত দৈনিক ধারণক্ষমতা ছিল দেড় লাখের বেশি পর্যটক।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ১৫ দিনের পর্যটন মৌসুমে প্রায় ১৬ লাখ পর্যটকের আগমন এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসার হিসাব দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতারা। এর মধ্যে হোটেল-মোটেল ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ২১০ কোটি এবং প্রায় ৫০০ রেস্তোরাঁয় ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানিয়েছিল।

রাজস্বের ক্ষেত্রেও পর্যটন খাতের গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় হোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র আবাসিক হোটেলগুলো থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী এক অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেস্তোরাঁ খাত থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকায় বর্তমানে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পর্যটক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে প্রায় ৫০০ রেস্তোরাঁ রয়েছে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ছাড়াও পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সৈকতভিত্তিক বিভিন্ন সেবা, কিটকট, পরিবহন, বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকি, ঝিনুক ও মুক্তার ব্যবসা, বিচ বাইক, ঘোড়া, ফটোগ্রাফি, জেটস্কি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। ফলে কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি একটি বিস্তৃত বহুমুখী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও প্রত্যাশিত হারে বিদেশি পর্যটক বাড়ছে না। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ হলো, সমুদ্রসৈকতে দিনভর ঘোরাফেরা ও সৌন্দর্য উপভোগের পর সন্ধ্যার পর বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার দিন-রাতব্যাপী নানা কর্মসূচির সমন্বয়ে তিন মাসের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লাইদুবাই হামলার পর ইসরায়েলিদের ভিসা মুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


ফ্লাইদুবাই হামলার পর ইসরায়েলিদের ভিসা মুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা

সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের (flydubai) একটি বিমানে ব্যর্থ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সামনে আসার পর, যুক্তরাষ্ট্রের 'ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম' (Visa Waiver Program) বা ভিসা মুক্ত প্রবেশের সুবিধা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইসরায়েলিদের জন্য।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিনিধি দল শিগগিরই তেল আবিবে পৌঁছাবে, যাতে তারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের শর্তাবলী অনুসরণ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পারে। বর্তমানে প্রতিনিধি দলটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে এভিয়েশন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৩ সালে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, ফলে দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই অনলাইনে আবেদনের (ESTA) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি মূল পাইলটের ওপর হামলা চালান। বিমানটি ১৮০ জন যাত্রীসহ ক্র্যাশ করানোর এই চেষ্টাটি পাইলট এবং কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রীর সাহসিকতার কারণে ব্যর্থ হয়। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী সহ-পাইলটের সোশ্যাল মিডিয়ায় আল-কায়েদা সমর্থনের ইতিহাস ছিল এবং চরমপন্থী ভাবধারার কারণে ওমানে তার উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ছিল। তবে, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো শত্রুভাবাপন্ন দেশের বিমান কর্মীদের যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত (Shin Bet) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (NSC) বেশ কিছু প্রস্তাব এবং অতিরিক্ত বাজেট সহায়তার প্রস্তাব পূর্বে পরিবহন মন্ত্রণালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল। এই গুরুতর নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিনিধি দল এখন ইসরায়েলের ভিসা মুক্ত সুবিধা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিমের শুভেচ্ছা, পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


কিমের শুভেচ্ছা, পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার অঙ্গীকার

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক চিঠির মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন।

কিম চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, তিনি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নত করতে কাজ করে যাবেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

কিম ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই যুদ্ধকে রুশ জনগণের ‘ন্যায়বিচারের পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। কিমের এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে যখন রাশিয়া ইউক্রেনে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বার্তায় কিম জং-উন পুতিনকে ‘প্রিয় বন্ধু ও কমরেড’ বলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

চিঠির মধ্যে কিম পুতিনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকে রাশিয়া বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।’ কিম দাবি করেন, পুতিন রুশ জনগণের ব্যাপক আস্থা ও সমর্থন পেয়েছেন। তিনি রাশিয়াকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি গোলাবারুদ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। একই সূত্র থেকে জানা যায়, রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৩ হাজার সেনা পাঠিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিয়ে উত্তর কোরিয়া ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর মধ্যে সেনা পাঠানোর বিনিময়ে প্রায় ৮৪৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে দেশটি বলে অনুমান করা হয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পিয়ংইয়ং রাশিয়ায় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করতে চায়।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। কিয়েভ দাবি করেছে, ২০২৬ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ৪০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী ইতিমধ্যে ইউক্রেনে হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%