০৬:৪৯ পি.এম
কক্সবাজার, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। এই আয়োজন শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে এবং চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য দিন ও রাতজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বিনোদন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম থাকবে এই কার্নিভালে। মূলত পর্যটকদের কক্সবাজারে অবস্থানের সময় বাড়ানো এবং বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
সামীমুজ্জামান মন্তব্য করেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে। হলিডে সিজনে লাখো পর্যটকের প্রাণচাঞ্চল্যে এবার কক্সবাজারে নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
কক্সবাজারের পর্যটন খাত শুধুমাত্র বিনোদনের উৎস নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৭টি খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।
২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টরা এক সপ্তাহে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তখন কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলোর সম্মিলিত দৈনিক ধারণক্ষমতা ছিল দেড় লাখের বেশি পর্যটক।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ১৫ দিনের পর্যটন মৌসুমে প্রায় ১৬ লাখ পর্যটকের আগমন এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসার হিসাব দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতারা। এর মধ্যে হোটেল-মোটেল ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ২১০ কোটি এবং প্রায় ৫০০ রেস্তোরাঁয় ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানিয়েছিল।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
রাজস্বের ক্ষেত্রেও পর্যটন খাতের গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় হোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র আবাসিক হোটেলগুলো থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী এক অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেস্তোরাঁ খাত থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকায় বর্তমানে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পর্যটক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে প্রায় ৫০০ রেস্তোরাঁ রয়েছে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ছাড়াও পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সৈকতভিত্তিক বিভিন্ন সেবা, কিটকট, পরিবহন, বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকি, ঝিনুক ও মুক্তার ব্যবসা, বিচ বাইক, ঘোড়া, ফটোগ্রাফি, জেটস্কি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। ফলে কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি একটি বিস্তৃত বহুমুখী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও প্রত্যাশিত হারে বিদেশি পর্যটক বাড়ছে না। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ হলো, সমুদ্রসৈকতে দিনভর ঘোরাফেরা ও সৌন্দর্য উপভোগের পর সন্ধ্যার পর বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার দিন-রাতব্যাপী নানা কর্মসূচির সমন্বয়ে তিন মাসের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন