মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৩ পি.এম
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, তিনটি বোমাসদৃশ ককটেল এবং একটি মোটরসাইকেলসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে রূপসা ব্রিজের উত্তর পাশে জালাল আহমেদের তুষ-কুড়া মিলের সামনে ফাঁকা জায়গা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা জুট মিলের পাশের বাসিন্দা কিসলু হাওলাদারের ছেলে মো. আল আমিন (২৩), রূপসা উপজেলার রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আ. রহিম মোল্লার ছেলে মো. রনি মোল্লা ওরফে কসাই রনি (২৮) এবং লবণচরা থানার ডাক্তার গলি এলাকার বাসিন্দা রাজু জোমাদ্দারের ছেলে স্বরন জোমাদ্দার ওরফে সজল জোমাদ্দার (২৬)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রূপসা ব্রিজের উত্তর পাশে একটি ব্যক্তিগত সিমেন্ট আনলোডের ঘাট রয়েছে। ঘাটের মালিক ইউনুস আলীকে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি-কম্পানি’ ও ‘নুর আজিম বাহিনী’র সদস্য পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে মঙ্গলবার ঘাটের সিমেন্ট আনলোডের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
এ ঘটনায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হেলমেট, মুখোশ ও গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করেন তিন যুবক। এ সময় পুলিশ তাঁদের আটক করে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, তিনটি বোমাসদৃশ ককটেল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনে দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরেও দস্যু তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ফের জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২১ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহৃত জেলেদের অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনরা। অন্যদিকে, নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্যান্য জেলেরা।
স্থানীয় জেলেদের এবং বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া, আমরাবাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় মাছ ধরার সময় সশস্ত্র দস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায়। বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন নৌকা থেকে অন্তত ২১ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামালও লুট করে নেয় তারা।
বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমবাড়িয়া ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা জেলেবহরে হামলা চালায়। এ সময় বিভিন্ন নৌকা থেকে ১৫ জেলেকে জোরপূর্বক একটি ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার সুন্দরবনের আরো কয়েকটি এলাকা থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, অপহৃত ২১ জেলের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের বাড়ি খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এবং মোংলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা বন বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়েই সুন্দরবনের খাল ও নদীতে মাছ ধরছিলেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন জানায়, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সুন্দরবনের আকাশে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে জেলে ও দস্যুদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌপথে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে অপহরণের পর থেকে কোনো জেলে বা মহাজন দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পরিচয় প্রকাশ পেলে পেশা ও জীবনের জন্য হুমকি আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় তাঁরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের একাধিক মহাজন জানান, জেলেদের মুক্ত করতে তাঁরা দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছেন। মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তা জানাতে রাজি হননি তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, দস্যুদের সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। কাঙ্ক্ষিত মুক্তিপণ পেলেই জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দস্যুরা। দ্রুত মুক্তিপণ পরিশোধের জন্য মহাজনদের ওপর চাপও দেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমাতে গত কয়েক বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে একাধিক দস্যু বাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর পরও সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন করে জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দস্যু তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নতুন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই দস্যু আতঙ্কে বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে নিরাপদে মাছ ধরার নিশ্চয়তা চান তাঁরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত জেলেদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান চলছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে কোস্ট গার্ড। এরই অংশ হিসেবে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌপথেও চিরুনি অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, সুন্দরবনের সব দস্যুবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। অন্যথায় দস্যুদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসন সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং জেলা পরিষদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া মুরাদনগর উপজেলায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন মার্কেট ও ডাকবাংলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময়, মো. মোস্তাক মিয়া অবৈধভাবে সরকারি সম্পত্তি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জেলা পরিষদের এক ইঞ্চি জায়গাও কাউকে অবৈধভাবে দখল করতে দেওয়া হবে না। সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ, আর তা রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব।"
মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, "আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু জায়গায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা মার্কেটের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও ডাকবাংলোর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে আছেন, তারা অনতিবিলম্বে নিজ দায়িত্বে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিন। অন্যথায় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।"
এ সময় কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া, মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদ (গভর্নিং বডি) বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে এক আইনজীবীর চেম্বারে হামলা, ভাঙচুর ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা জাজ কোর্ট এলাকায় বিশিষ্ট আইনজীবী ও আল-আমিন একাডেমি গভর্নিং বডির সদস্য ও চাঁদপুর পৌর জামাতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খানের চেম্বারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের প্রতিবাদে শত শত অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উক্ত মানববন্ধনে অভিভাবকদের পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান।
অভিযোগ উঠেছে, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কোর্ট এলাকায় অবস্থিত অ্যাডভোকেট শাহজাহান খানের চেম্বারে প্রবেশ করে। অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান জানান, নিজেদের ছাত্রদলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুর্বৃত্তরা তার চেম্বারে ঢুকে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চেম্বারের সামনের নামফলক ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এরপর চলে যায়।
এদিকে, হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এক বিবৃতিতে জানান, আক্রান্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান চাঁদপুর জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও শহর জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। পৃথক এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক মোঃ মাহবুব আলম ও সদস্য সচিব আমানুল্লাহ পাটওয়ারী এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল পাটোয়ারী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান, চাঁদপুরের আঞ্চলিক পত্রিকার মাধ্যমে তারা এই অভিযোগের কথা জানতে পেরেছেন। ছাত্রদলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই এমন 'মিথ্যা ও বানোয়াট' অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই হামলার ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় এবং অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে জেলাকে মশামুক্ত রাখা এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন, “ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না। প্রতিটি রেস্তোরাঁ ও হোটেলের সামনে নির্ধারিত স্থানে ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়ি বা ড্রাম রাখতে হবে এবং তা নিয়মিত পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন ও স্টাফদের নির্দিষ্ট পোশাক পরা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি হোটেলের ভেতরের ও বাইরের আঙিনা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেন এবং সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গু মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, মশার বংশবিস্তার রোধে মঙ্গলবার থেকেই জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ মোবাইল কোর্ট ও অভিযান শুরু হচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একরামুল ছিদ্দিক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিপংকর বাড়ৈ, বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এবং পরিবহন পরিদর্শক আ. মান্নান উপস্থিত ছিলেন। তারা লঞ্চঘাট ও নৌযানগুলোতে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছেটানো এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী নুরুল আলম লালু, সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুদ আখন্দ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ মিঞা ও সম্পদ সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান আখন ও মো. জাহিদুল হক মিলন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ খান অপু, দপ্তর সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম মামুন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং কার্যকরী সদস্য মো. মহসিন আখন্দ।
এছাড়া, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি দ্বিন মো. জিল্লু, মো বিপ্লব সরকার, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ মৌসুমী সুইটসের ম্যানেজার মো. ফারুক হোসেন, কাশ্মীরী সুইট অ্যান্ড লাইভ বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. লিটন ও আবরার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের প্রতিনিধিসহ জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির শীর্ষ নেতারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ