০৭:০৪ পি.এম
ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের মাঝে অবস্থিত খালের ওপর কাঠের সাঁকোটি বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে। -কালের কণ্ঠ
দুটি জেলার দুটি উপজেলার দুটি ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের মাঝে একটি খাল অবস্থিত।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে সকলের সমর্থন ও দোয়া চান মোহাঃ সাদিকুল ইসলাম
শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মস্থলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দুই পারের মানুষ প্রতিদিনই খাল পার হচ্ছে। খালের ওপর সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী এই প্রয়োজন পূরণ করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটি সেতুর দাবি তাঁদের দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জ মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের সংযোগস্থানটি দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু না থাকায় বর্ষাকালে যাতায়াত প্রকৃতপক্ষে বন্ধ হয়ে যায়।
শুকনো মৌসুমে মানুষ কোনোভাবে সাঁকো বা খাল পার হয়ে যাতায়াত করে। তবে বর্ষাকালে সেই উপায়ে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই সময় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একটি সেতুর অভাবে দুই ইউনিয়নের মেলবন্ধন মাত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও থমকে গেছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হলো
সূত্র জানায়, খালসংলগ্ন মুছাপুর অংশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অপরদিকে সোনাগাজীর চর দরবেশ আদর্শগ্রামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগী এবং গর্ভবতী মায়েদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন জানান, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। একটি ব্রিজের জন্য কত বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। কত সরকার এলোগেলো, আমাদের দুঃখের শেষ হলো না। আমরা আর কতদিন অবহেলিত জনপদের বাসিন্দা হিসেবে বেঁচে থাকব। অন্তত আমার জীবদ্দশায় এখানে যেন একটি সেতু দেখে যেতে পারি, সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’
এলাকার মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘জোয়ার এলে এখান দিয়ে পানি উঠে যায়। আমরা মাদরাসায় যেতে পারি না। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। একটি সেতু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’
ইকবাল হোসেন হেলাল নামের এক বাসিন্দা জানান, মুছাপুরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এই এলাকার শিক্ষার্থীরা আমাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। এখানে সীমান্তবর্তী খালে সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক কষ্ট হয়। তাই একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শতাধিক অসহায় পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়,
আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবু তৈয়ব বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার খালের ওপর সেতু নেই। এর ফলে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে না। এতে দিন দিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন তারা দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেন।
চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ খালটি সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত। একটি সেতু হলে দুই উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অন্যান্য নানা ক্ষেত্রে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, মুছাপুর গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এ এলাকার শিক্ষার্থীরা আদর্শগ্রাম গিয়ে পড়ালেখা করছে। সেতুর অভাবে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ার উপক্রম। তাই দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ব্যাপারটি বিস্তারিতভাবে খোঁজখবর নেব। সরকারি বরাদ্দ পেলে ওই স্থানে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় সম্প্রীতির দুর্গোৎসব: অফিসার ইনচার্জ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন