ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ভোগান্তির শেষ নেই


সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ভোগান্তির শেষ নেই

 

ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের মাঝে অবস্থিত খালের ওপর কাঠের সাঁকোটি বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে। -কালের কণ্ঠ

দুটি জেলার দুটি উপজেলার দুটি ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের মাঝে একটি খাল অবস্থিত।

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে সকলের সমর্থন ও দোয়া চান মোহাঃ সাদিকুল ইসলাম

শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মস্থলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দুই পারের মানুষ প্রতিদিনই খাল পার হচ্ছে। খালের ওপর সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী এই প্রয়োজন পূরণ করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটি সেতুর দাবি তাঁদের দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জ মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের সংযোগস্থানটি দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু না থাকায় বর্ষাকালে যাতায়াত প্রকৃতপক্ষে বন্ধ হয়ে যায়।

শুকনো মৌসুমে মানুষ কোনোভাবে সাঁকো বা খাল পার হয়ে যাতায়াত করে। তবে বর্ষাকালে সেই উপায়ে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই সময় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একটি সেতুর অভাবে দুই ইউনিয়নের মেলবন্ধন মাত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও থমকে গেছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হলো

সূত্র জানায়, খালসংলগ্ন মুছাপুর অংশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অপরদিকে সোনাগাজীর চর দরবেশ আদর্শগ্রামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগী এবং গর্ভবতী মায়েদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন জানান, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। একটি ব্রিজের জন্য কত বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। কত সরকার এলোগেলো, আমাদের দুঃখের শেষ হলো না। আমরা আর কতদিন অবহেলিত জনপদের বাসিন্দা হিসেবে বেঁচে থাকব। অন্তত আমার জীবদ্দশায় এখানে যেন একটি সেতু দেখে যেতে পারি, সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’

এলাকার মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘জোয়ার এলে এখান দিয়ে পানি উঠে যায়। আমরা মাদরাসায় যেতে পারি না। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। একটি সেতু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

ইকবাল হোসেন হেলাল নামের এক বাসিন্দা জানান, মুছাপুরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এই এলাকার শিক্ষার্থীরা আমাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। এখানে সীমান্তবর্তী খালে সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক কষ্ট হয়। তাই একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শতাধিক অসহায় পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়,

আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবু তৈয়ব বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার খালের ওপর সেতু নেই। এর ফলে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে না। এতে দিন দিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন তারা দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেন।

চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ খালটি সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত। একটি সেতু হলে দুই উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অন্যান্য নানা ক্ষেত্রে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, মুছাপুর গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এ এলাকার শিক্ষার্থীরা আদর্শগ্রাম গিয়ে পড়ালেখা করছে। সেতুর অভাবে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ার উপক্রম। তাই দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ব্যাপারটি বিস্তারিতভাবে খোঁজখবর নেব। সরকারি বরাদ্দ পেলে ওই স্থানে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় সম্প্রীতির দুর্গোৎসব: অফিসার ইনচার্জ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্ষণাবেক্ষণের সময় হুড়মুড় করে পড়ল প্লেনের যন্ত্রপাতি, চার সপ্তাহ ভুগে মারা গেলেন প্রকৌশলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


রক্ষণাবেক্ষণের সময় হুড়মুড় করে পড়ল প্লেনের যন্ত্রপাতি, চার সপ্তাহ ভুগে মারা গেলেন প্রকৌশলী

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তরুণ এক বিমান প্রকৌশলীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২৩ বছর বয়সী ওই প্রকৌশলীর নাম জর্জ বুক্সটন। তিনি জনপ্রিয় বিমান সংস্থা ভার্জিন আটলান্টিকের হয়ে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, হিথ্রো বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন বুক্সটন। সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। উড়োজাহাজের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ করে ভারী যন্ত্রপাতির কাঠামো তার ওপর ভেঙে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে টানা চার সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর চলতি মাসের শুরুর দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

ভার্জিন আটলান্টিক পরিবারে তাদের প্রিয় এবং দক্ষ সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির উড়াল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ঠিক কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ঘটনার মূল কারণ উন্মোচনে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ, বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহেই ওয়েস্ট লন্ডন কর্নার্স কোর্টে বুক্সটনের মৃত্যুর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালে স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে রাইয়ান এয়ার থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা বুক্সটন নিজের দক্ষতা বাড়াতে ভার্জিন আটলান্টিকে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই তার জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


দুই নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল 

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। এই কারণে ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী এবং জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জন্য ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে, যার ফলস্বরূপ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে।

জোয়ারের পানি ঢুকছে এবং এতে রোপা আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টি এবং জোয়ারে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত রাত এবং সকালে দুই দফা জোয়ারে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

যদি জমিতে পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে, তাহলে রোপা আমন এবং আমনের বীজতলা পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাড়িঘরের উঠানে পানি সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের কাঁচা রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত শহর রক্ষাবাঁধের অভাবের কারণে কুতুবকাঠী, নতুন চর এবং কলাবাগার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বন্যার আতঙ্কে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক দেনছের আলী জানাচ্ছেন, জোয়ারের পানিতে রোপা আমন, আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন লতাজাতীয় ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। বারবার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে আমনের বীজতলায় বহু ক্ষতি হয়েছে। পানি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুগন্ধা এবং বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেড়ে গেছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, পানি নেমে গেলে কৃষিতে স্থায়ী ক্ষতি হওয়া সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: উনো ইয়োশিমাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: উনো ইয়োশিমাসা

আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা মি. উনো ইয়োশিমাসা সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন, রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ এবং জাপান অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।

এইসময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক, রেল ও গণপরিবহন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ খাতে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ আধুনিক, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জাপানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে। সমন্বিত, নিরাপদ, জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাপানের মতো উন্নয়ন অংশীদারের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারিত হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা বলেন, "বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" এ ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা, উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন, মেট্রোরেল, রেল যোগাযোগ, সড়ক পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ ও জাপান আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, ৫০-৬০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


ভৈরবে বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, ৫০-৬০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মধ্যে বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার একদিন পর আকবরনগর গ্রামে বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে শুরু থেকেই সকালে গ্রামের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, এ ব্যাপারে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় সোমবারই আকবরনগর গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এ সুযোগে জনশূন্য বাড়িগুলোতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপে অতিউৎসাহী কিছু ব্যক্তি আগুন দিচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে দুইজন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, এখনো কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাদ আসর অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে স্বজনরা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।

এর আগে সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শুরুতে ব্যর্থ হয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর নেতৃত্বে রিজার্ভ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের কারণে কয়েক ঘণ্টা ভৈরব–কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল এবং ভৈরব–কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত বাসস্ট্যান্ড বাজারটির নাম ‘আকবরনগর’ নাকি ‘মিরারচর’ হবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

সর্বশেষ উত্তেজনা নিরসনে রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন দিনের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও, পরদিন সোমবার সকালে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুইজন নিহত, অর্ধশতাধিক আহত এবং পরদিন লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নতুন ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%