মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০৯:৫২ পি.এম
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শেরপুরে দরিদ্র ও অসহায় হিন্দু পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে 'নৈতিক সম্প্রীতি এবং অহিংস সামাজিক বেষ্টনী' সংগঠনের উদ্যোগে গৌরীপুরস্থ নিজ কার্যালয়ে শতাধিক পরিবারের হাতে এসব খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল— চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ ও পেঁয়াজ।
সংগঠনের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিজয় কৃষ্ণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রিয়তোষ সরকার ও সমাজকর্মী তাহমিনা জলি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, "আমরা হিন্দু-মুসলমান সবাই একসাথে বসবাস করি। একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল ধর্ম। আমরা যত বেশি মনুষ্যত্ব চর্চা করব, ততই প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগর ও জেলাজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবি অন্তর্ভুক্ত।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিরতি নেবেন। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে সেখান থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন চট্টগ্রামবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সমন্বয়ে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন ও র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপগুলোতে এসআরবি সদস্যরা নিয়মিত পরিদর্শন ও মোবাইল টহল দেবেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজামণ্ডপগুলোতে র্যাবের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরে সর্বাত্মক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্যও প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে। সিএমপির পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গাপূজা ও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই একযোগে কাজ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে তার আগমনকে ঘিরে প্রত্যাশা, উৎসাহ ও আন্তরিকতার ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের মানুষ পারস্পরিক সহাবস্থান, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখেছেন। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে গত কয়েক বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার কারণে দেশটির সরকার গভীর সংকটে রয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভের ফলে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।
সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকরা। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে। এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেছেন, "ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।"
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।
প্রথমত, প্যারিসসহ দেশের বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরও শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।
চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ বেতারে শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও মোহাম্মদ হাছান মাহমুদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
মামলাটি রোববার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ দায়ের করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা, নারায়ণ চন্দ্র শীল, উপস্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পক্ষে কাজী জাকির হাসান ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্রে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তারা জাতীয় বেতার ভবনের অভ্যন্তরে শেখ মুজিবুরের একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও নকশা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওই বছরের ১৯ মে, বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান।
পরবর্তীতে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় শেখ মজিবুরের ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় শেখ মজিবুরের ম্যুরাল নির্মাণে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির চতুর্থ সভায় ম্যুরাল স্থাপনের কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয় এবং ব্যয় প্রাক্কলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের দাপ্তরিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শেখ মজিবুরের ব্রোঞ্জ ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে, দুদকের অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে ম্যুরালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারের ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার অংশগ্রহণের পরিকল্পনা থাকা তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের জন্য প্রশাসন অনুমতি প্রদান করেনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার কারণে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আয়োজকেরা মাহফিলের আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হন।
এই বিষয়টি রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিশ্চিত করেন আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক।
মাহফিলটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার পর আয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য নিষেধ করেন।
গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে ‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী। প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে আসার সম্মতি দিয়েছিলেন। স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
মাহফিলের অনুমতির জন্য ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন করা হয়েছিল। আয়োজকরা শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে জটিলতা দেখা দেয়। মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, ইউএনও জানান যে, মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে চাওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এই অবস্থায় মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান এ বিষয়ে জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় আয়োজক কমিটি তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ