ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহী কেন সিরিয়া?


ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহী কেন সিরিয়া?

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।

মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে। লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি

অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

আরও পড়ুন: ঢাকায় নেওয়া রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আর নেই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল, নীরবে বদলানো হলো হিসাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৬ এম


ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল, নীরবে বদলানো হলো হিসাব

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এর মধ্যে পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের নতুন হিসাবে পরিবর্তন এনেছে।

গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সাথে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন।

শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়ে গেছে।

ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নাম। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান।

জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন।

তবে শুক্রবার সিএনএন যিনি মাসপেক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে, রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।

পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা।

রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে।

তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা আয়োজনে ইউএফটিবির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


নানা আয়োজনে ইউএফটিবির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (যাকে বলা হচ্ছে ইউএফটিবি দিবস) ও নবীন বরণের অনুষ্ঠান-২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে।

রবিবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ বিশেষ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এসময় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কেক কাটা এবং পায়রা উড়ানোসহ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আতাউর রহমান খান, প্রক্টর, পরিচালক (শিক্ষার্থী কল্যাণ), বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।

উক্ত অনুষ্ঠানে একাডেমিক ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন অনুষদের ৩১ জন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স থিসিস গবেষণা সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ১১ জন শিক্ষককে ‘রিসার্চ পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং ৩০ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস সম্মাননা বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও সনদ তুলে দেন।

উদ্বোধনী পর্বের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভাটির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আতাউর রহমান খান। সভায় নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের প্রতিনিধি, প্রক্টর, পরিচালক (শিক্ষার্থী কল্যাণ) এবং দুই আবাসিক হলের প্রভোস্ট বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও শিল্পখাতের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না। কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে হাতে-কলমে শিক্ষা ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।

দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইমনের পর এবার লাহোর কালান্দার্সে ডাক পেলেন শামীম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


ইমনের পর এবার লাহোর কালান্দার্সে ডাক পেলেন শামীম

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন পাটোয়ারী গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তিনি টুর্নামেন্টের দলের লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়েছেন। সম্মানজনক বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন শামীম।

লাহোর কালান্দার্সে আগেই খেলছেন আরেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমন। সর্বশেষ ম্যাচে তিনি অপরাজিত ৪৭ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন। এবার শামীমকে দলে নেয়ায় একসাথে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার একই দলে খেলবেন।

এবারের জিএসএলে লাহোর কালান্দার্স দুইটি ম্যাচ খেলেই দুইটি জয় অর্জন করেছে। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে তারা বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল।

লাহোর কালান্দার্সের পরবর্তী ম্যাচ হবে ২৭ জুলাই, গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, ম্যাচটি শুরু হবে ভোর ৫টায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

আরথিক সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই পরামর্শ দেয়। তবে সরকার সংস্থাটির প্রস্তাব আমলে নিচ্ছে না। এজন্য সরকার আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে চায়।

অন্যদিকে, আইএমএফ চায় এটিকে অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে। তাহলে অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নভেম্বরে একটি টিম বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইছে। তবে সরকার আইএমএফকে সেই সুযোগ দিতে চায় না। এজন্য অক্টোবরের আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে বাস্তবায়ন করতে চায়। অর্থ বিভাগের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে নতুন পে স্কেলের প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। চলতি সপ্তাহের শেষ অথবা আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এর সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর অংশ হিসেবে পে স্কেলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পে স্কেলের প্রস্তাবনা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও পে স্কেল সংক্রান্ত ফোকাল পারসনসহ আরো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার নানা দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও ভাবতে বলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। সেখানে আইএমএফের আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। চলতি বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেটি অপ্রতুল কি না তাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বৈঠকে।

এর আগে বর্তমানে প্রচলিত অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সরকারের অধীনে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন। বেতন বাড়ার সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে পেনশন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ, মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং সরকারি রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারী বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করবে। এ কারণে সংস্থাটি নতুন পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে। বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে পেনশন, উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে, ফলে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

বর্তমান অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয়ে হচ্ছে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ফলে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় অধিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। মূল্যস্ফীতির ফলে ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধাবী জনবল আকর্ষণ ও কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য নতুন পে স্কেল প্রয়োজন।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ বিকল্প কয়েকটি মডেল নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট গ্রেডে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা এবং কয়েক ধাপে আর্থিক প্রভাব সমন্বয়ের পরিকল্পনা। এই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এককালীন আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলেও মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে, অন্যদিকে আইএমএফের সঙ্গে চলমান সংস্কার কর্মসূচির ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।

সবকিছু যদি ঠিক থাকে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পথ আরও উন্মুক্ত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%